আইপ্যাকের পরামর্শে এবার বিজেপিকে দূর করতে গেরুয়া 'পথে' তৃণমূল, সংগঠনে ব্যাপক রদবদলের সম্ভাবনা
আইপ্যাকের পরামর্শে এবার বিজেপিকে দূর করতে গেরুয়া 'পথে' তৃণমূল, সংগঠনে ব্যাপক রদবদলের সম্ভাবনা
প্রথমে কথা ছিল ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত তৃণমূলকে (trinamool congress) সাহায্য করবে আইপ্যাক (ipac)। কিন্তু পরে চুক্তির সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে। যার মধ্যে সামনেই রয়েছে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন। তার আগে অবশ্য প্রশান্ত কিশোরের (prashant kishor) সংস্থার দেওয়া ছকেই এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ঘাসফুল শিবিরের।

তৃণমূলের জয়ের পিছনে আইপ্যাক
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা। বিজেপির আসন সংখ্যা ২ থেকে বেড়ে ১৮। তারপরেই তৃণমূলের তরফে যোগাযোগ করা হয় ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরেই তাঁর সংস্থার লোকজন জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়েন। নেতাদের সম্পর্কে খোঁজ খবর করতে থাকেন। যা অনেকেরই পছন্দ হয়নি। যার জেরে দল ছেড়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী, মিহির গোস্বমীর মতো দু-একজন সাফল্য পেলেও বেশিরভাাগের কাছেই সাফল্য অধরাই রয়ে গিয়েছে।
অপর প্রান্তে দিদিকে বলোর মতো কর্মসূচি নিয়েছিল তৃণমূল। আর ভোটের আগে দুয়ারে সরকার কর্মসূচি। যা আইপ্যাকেরই পরিকল্পনায়। যা জেরে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াকে স্তব্ধ করে দিতে পেরেছিল তৃণমূল। তবে সব কিছুই পিছনে ছিল আইপ্যাক।

আইপ্যাকের সঙ্গে ২০২৬ পর্যন্ত চুক্তি
ভোটের ফল বেরনোর সময়ই প্রশান্ত কিশোর বলেছিলেন তিনি আর এই কাজ করবেন না। এই কাজ থেকে বেরিয়ে সাময়িক বিশ্রাম নেবেন। সেই সময়ই জল্পনা তৈরি হয়, তাহলে কি পিকে কিংবা আইপ্যাকের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকবে না তৃণমূলের? সেই সময়ই জানা যায়, তৃণমূলের সঙ্গে আইপ্যাকের দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি হয়েছে। ২০২৬ পর্যন্ত আইপ্যাক তৃণমূলের হয়ে কাজ করবে। এর জন্য প্রশান্ত কিশোর বিহীন আইপ্যাকে নয়জনের টিম গঠন করা হয়েছে। তাঁরাই পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অন্য রাজ্যের জন্যও তৃণমূলের হয়ে কাজ করবেন।

জেলা সংগঠনকে ঢেলে সাজার পরিকল্পনা
তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তখনই ইঙ্গিত ছিল সুবিধা মতো বিভিন্ন জেলার সংগঠনকে ঢেলে সাজানো হবে। সেই কাজই এবার শুরু হতে চলেছে। তবে তার আগে বিভিন্ন জেলা নেতৃত্বের কাজ নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করেছে আইপ্যাক। এবার সেই মতো পদক্ষেপ নেওয়ার পালা।

যেসব পরিবর্তন আসতে পারে তৃণমূলের অন্দরে
জানা গিয়েছে, কোনও বড় জেলাকে ভেঙে সাংগঠনিক জেলা করা হতে পারে। যা অনেকটাই বিজেপির মতো। রাজ্যে ২৩ জেলা থাকলেও বিজেপির সাংগঠনিক জেলা হল ৩৩ টি। যেমন বাঁকুড়ার মধ্যে বাঁকুড়া ছাড়াও বিষ্ণুপুর, দার্জিলিং-এর মধ্যে শিলিগুড়ি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মথুরাপুর ও ডায়মন্ডহারবার। এছাড়াও কোনও কোনও ক্ষেত্রে সাংগঠনিত সভাপতিদের মাথায় চেয়ারম্যান করেও কাউকে বসানো হতে পারে। ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলে একব্যক্তি একপদের কথা ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ কোনও নেতা একইসঙ্গে জেলা সভাপতির সঙ্গে মন্ত্রী থাকতে পারবেন না। তবে তা ঘোষণা করা হলেও এখনও তা লাগু হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই সাংগঠনিক রদবদলের ব্যাপারে সিদ্ধান্তের কথা জানাতে পারে ঘাসফুল শিবির।












Click it and Unblock the Notifications