বিহার ভোটের কতটা প্রভাব পড়বে বাংলায়! ২০২১-এর আগে দ্বিধাবিভক্ত তৃণমূল
বিহার ভোটের কতটা প্রভাব পড়বে বাংলায়! ২০২১-এর আগে দ্বিধাবিভক্ত তৃণমূল
এখনও পর্যন্ত বিহারের (bihar) ফলাফলের নিরিখে বলা সেখানে এগিয়ে রয়েছে এনডিএ জোট। আর এই জোটে নীতীশের দলের থেকে ভাল ফল বিজেপির। প্রতিবেশী রাজ্য হওয়ায় তার প্রভাব কি এই রাজ্যেও পড়তে পারে, এই উত্তরে দ্বিধাবিভক্ত ঘাসফুল শিবির (trinamool congress) । দুই বর্ষীয়ান নেতার কথাতেই ধরা পড়েছে দুই মত।

প্রভাব পড়বে না বাংলায়, বলেছেন সুব্রত
বিহার নির্বাচনের ফলাফল তেমন কোনও প্রভাব পড়বে না বাংলায়। বসিরহাট মহাকুমার স্বরুপনগর সীমান্তে মালঙ্গ পাড়া হাইস্কুল মাঠে দলীয় সভায় এসে জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিহার নির্বাচনের ফলাফলের খুব বড় রকমের কোনো প্রভাব পড়বে না এ রাজ্যে। কারণ সেখানে রাজনীতি এক রকম আর এখানে রাজনীতি আরেকরকম। তবে যেহেতু দেশের মধ্যে অন্য রাজ্য তাই সীমান্তবর্তী এরিয়া গুলোতে কিছু কিছু প্রভাব পড়তে পারে।

প্রভাব প্রসঙ্গে সৌগত রায়
বিহারে বিজেপি তথা এনডিএ-র খারাপ ফলের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তারা ধরে নিয়েছিল পরিযায়ী শ্রমিকদের অসন্তুষ্টির কারণে ধাক্কা খাবে এনডিএ শিবির। অনেকেই বলছিলেন বিজেপি-জেডিইউ হারলে বোঝা যাবে, ইভিএম-এ পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষোভে আঁচ ছড়িয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত যা ফলাফল, তাতে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এব্যাপারে যেন আত্মবিশ্বাসী ছিলেন দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেছিলেন বিহারের ভোটের প্রভাব পড়বে বাংলায়। বিহারে বিজেপি হারলে মোদী ভাবমূর্তি ধাক্কা খাবে। ফলে রাজ্যে উপকৃত হবে তৃণমূল।

বাংলায় প্রভাব পড়বে না, বলেছিলেন দিলীপ
তবে বিহারে যে এনডিএ জোট ক্ষমতায় আসতে চলেছে, সেব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ। পাশাপাশি তিনি সৌগত রায়ের যুক্তি উড়িয়ে বলেছিলেন, আগে তিনবার ক্ষমতায় এসেছেন নীতীশ কুমার। কিন্তু বাংলায় তার উল্টো চিত্র দেখা গিয়েছে। তিনি বলেছিলেন, বিহারের ফল যাই হোক না কেন, তার প্রভাব বাংলায় পড়বে না।

বিহার ভোটের প্রভাব আগে বাংলায় পড়েনি
এর আগে সাম্প্রতিক সময়ে বিহার ভোটের প্রভাব বাংলায় পড়েনি। ২০১৪ সালে লোকসভায় ভাল ফলের পরেও, ২০১৫-তে আরজেডি ও জেডিইউ জোটের কাছে হেরেছিল বিজেপি। ২০১৬-তে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে সেরকম প্রভাব ফেলতে পারেনি গেরুয়া শিবির। সেই সময় গেরুয়া শিবিরে সেরকম শক্তিও ছিল না পশ্চিমবঙ্গে। বরং ২০১৪-য় ২ থেকে ২০১৯-এর নির্বাচনে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে। তাদের আসন গিয়ে দাড়িয়েছে ১৮-তে।

তৃণমূল হারবে, নিশ্চিত অধীর, সুজনরা
অধীর চৌধুরী অবশ্য বিজেপি ও তৃণমূলকে একই পংক্তিতে ফেলেছেন। কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, নীতীশ কুমার যেমন সন্যাস নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন, ঠিক তেমনই ঘোষণা করতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, তৃণমূল যে হারবে তা ওরা ভাল করেই জানে। অধীর থেকে সুজন, দুজনেরই এক কথা জোট ক্ষমতায় আসবে পশ্চিমবঙ্গে।












Click it and Unblock the Notifications