তৃণমূলের অন্দরে দাদার দল বনাম দিদির দল! একুশের আগে নেতা-কর্মীরা ঘোর বিপাকে
তৃণমূলের অন্দরে দাদার দল বনাম দিদির দল! একুশের আগে নেতা-কর্মীরা ঘোর বিপাকে
একুশের নির্বাচনের আগে যখন শাসক দল তৃণমূলের এককাট্টা হওয়া জরুরি ছিল, তখন উল্টো পথে হেঁটে দলে বিভাজন রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তৃণমূল এখন দিদির দল আর দাদার দলে ভাগ হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা এখন ঘোর বিপাকে। তাঁরা কী করবেন বুঝতে পারছেন না। কোন দিকে যাবেন, দিদির দল করবেন, নাকি দাদার দল?

তৃণমূলের অন্দরে ‘দাদার অনুগামী’
বিগত তিনমাস ধরে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে দলহীন প্রচার চালাচ্ছেন। তাঁর সমান্তরাল জনসংযোগের ফলে তৃণমূলের অন্দরে দুটি ভাগ হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে ‘দাদার অনুগামী' নামে একটি পৃথক ‘মঞ্চ' ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাঁরা শুভেন্দুর সমর্থনে প্রচার চালাচ্ছেন।

ফের শুভেন্দুকে ফেরানোর চেষ্টা শুভেন্দুর
শুভেন্দুর সঙ্গে তিক্ততা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস ফের তাঁকে ফেরানোর চেষ্টা শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দুজন সাংসদকে দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক দিক যখন উঠে আসতে চলেছে, তখন আবার অন্য এক সাংসদের সঙ্গে শুভেন্দুর বাক্য বিনিময়ে জলঘোলা হয়ে যেতে শুরু করেছে।

শুভেন্দুর বর্তমান অবস্থানে ধন্দে অনুগামীরাও
শুভেন্দুর বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে তালমিলিয়েই দলের অন্দরে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ অনেক নেতা-কর্মীরা বলতে শুরু করেছেন, যা হবে স্পষ্ট হয়ে যাক, তা না হলে এমনভাবে দল করা সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। অনেকে তো আবার খোদ রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে বলতে শুরু করে দিয়েছেন, তাঁরা কী করবেন বুঝতে পারছেন না।

দিদির দলে কারা রয়েছেন তার মূল্যায়নও শুরু
শুভেন্দুর সমর্থনে দাদার অনুগামীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে দিদির দলে কারা রয়েছেন তার মূল্যায়নও শুরু হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসও এই বিভাজনের রাজনীতিতে জল মাপছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা চর্চা শুরু করেছেন, তৃণমূলের এই বিভাজন নিয়ে। তৃণমূলে যে দাদা বনাম দিদির লড়াই শুরু হয়েছে, তা আর কারও অজানা নেই।

দিদির দলে দাদা অবশেষে একটু নমনীয়
সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্ব দলে খর্ব হওয়ার পর থেকেই তিনি দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন তৃণমূলের সঙ্গে। তারপর নন্দীগ্রাম দিবসে তাঁর বিদ্রোহ চরমে পৌঁছয়। তিনি বিজেপির ঢঙে স্লোগানও তোলেন। তৃণমূল আবার তার পাল্টা সভা করে নন্দীগ্রামে। তারপর থেকেই বিতর্ক চরমে ওঠে। বর্তমান দিদির দলে দাদা একটু নমনীয় হয়েছেন। তবে জল্পনার শেষ এখনই হয়নি।












Click it and Unblock the Notifications