অভিষেককে চড়, বিজেপির যুক্ত থাকার ইঙ্গিত তৃণমূলের, দাবি ওড়ালেন সিদ্ধার্থনাথ
কলকাতা, ৫ জানুয়ারি: কেউই নাম করলেন না। অথচ ইঙ্গিত বিজেপির দিকে। গতকাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চড় মারার ঘটনার পিছনে গেরুয়া শিবিরকেই দায়ী করছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এর সপক্ষে কোনও প্রমাণ আছে বলে এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।
আরও পড়ুন: তৃণমূলের সভাতেই মঞ্চে উঠে মমতার ভাইপোকে সপাটে চড়
পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে রবিবার বিকেলে দলীয় সভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সপাটে চড় মারেন দেবাশিস আচার্য নামে এক যুবক। তৃণমূল কর্মীদের পাল্টা প্রহারে ওই ব্যক্তি এখন গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।

এদিকে, সোমবার থেকে এর প্রতিবাদে জেলায়-জেলায় শুরু হয়েছে পথ অবরোধ। অনেক জায়গায় রেললাইন অবরোধ করা হয়। পূর্ব মেদিনীপুরে বিরোধী রাজনীতিক দলগুলির পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালানোর খবরও পাওয়া গিয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক ডাকে তৃণমূল কংগ্রেস। সুব্রত মুখোপাধ্যায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডেরেক ও'ব্রায়েন। সুব্রতবাবু এবং পার্থবাবু বলেন, "আমরা কর্মীদের সংযত থাকার আবেদন জানাচ্ছি। মনে রাখবেন, মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় মানুষের আশীর্বাদ নিয়েছেন। তাই এমন কিছু করবেন না যাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হয়। রাস্তা অবরোধ, রেল রোকো চলবে না। শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করুন জনগণের অসুবিধা না করে।"
বিজেপির নাম না করে দুই বর্ষীয়ান নেতা বলেছেন, একটি দল দেশে ধর্মান্ধ রাজনীতি করছে। মানুষে-মানুষে বিভাজন ঘটাচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুরের ঘটনা তারই প্রতিফলন। এমন ঘৃণার রাজনীতি বাংলার সংস্কৃতি নয়।
ডেরেক ও'ব্রায়েন বলেন, "একটা দল সাত মাস ক্ষমতায় এসেছে। ওরা মুখে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার কথা বললেও আসলে ডিভিসিভ ইন্ডিয়া (খণ্ডিত ভারত) তৈরি করতে চাইছে। দেশকে টুকরো করতে চাইছে। তাই ঘৃণা ছড়াচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস এর প্রতিবাদ করছে এবং করবে।"
পাশাপাশি, যে যুবক গণপ্রহারে জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, তার ব্যাপারেও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, "ওখানে যা হয়েছে, সেটা বরং স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার থেকে কম। যাঁরা অভিষেকের ভাষণ শুনতে এসেছিলেন, তাঁরা কেউই রামকৃষ্ণ মিশন বা ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের লোক নয় যে, একজনকে মার খেতে দেখেও চুপ করে বসে থাকবে।" অর্থাৎ দলীয় কর্মীদের আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টিকে সমর্থনই করেছেন সুব্রতবাবু।
এই অভিযোগ নস্যাৎ করে বিজেপি নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিং বলেন, "এটা ওদের দলের অন্তর্দ্বন্দ্বের ফল। সেটা না মেনে ওরা যদি কারও দিকে একটা আঙুল তোলে, তা হলে ওদের দিকে তিনটে আঙুল উঠবে। এখন মমতা আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা গোষ্ঠী রয়েছে তৃণমূলে। বড় বড় নেতারা নিজেদের গোষ্ঠী তৈরি করে ফেলেছেন। এমনকী, মুকুল রায়ও নিজের গোষ্ঠী বানিয়েছেন বলে খবর। তৃণমূল কংগ্রেস নিজেরাই মারামারি করছে। এটা তো ট্রেলার, গোটা ছবি এখনও বাকি রয়েছে।"












Click it and Unblock the Notifications