বাংলায় উপনির্বাচন হোক পুজোর আগেই, কমিশনে নতুন কী যুক্তি উত্থাপন তৃণমূল কংগ্রেসের
বাংলায় উপনির্বাচন হোক পুজোর আগেই, কমিশনে নতুন কী যুক্তি উত্থাপন তৃণমূল কংগ্রেসের
বাংলার সাত কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দাবিতে বারবার সরব হয়েও নির্বাচন কমিশনের ঘুম ভাঙাতে ব্যর্থ তৃণমূল কংগ্রেস। এবার পুজোর আগে বাংলায় উপনির্বাচন সংঘটিত করতে নতুন এক চাল দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। শুক্রবার তৃণমূল দাবি তুলল, এখন বাংলায় করোনা একেবারেই নিয়ন্ত্রণে। এখন দফায় দফায় উপনির্বাচন মিটিয়ে ফেলুক কমিশন।

বাংলায় উপনির্বাচন এখনও বিশ বাঁও জলে!
দুর্গাপুজো আর মাস দুয়েক দূরে। তার আগেই বাংলায় উপনির্বাচন সেরে ফেলতে চাইছে তৃণমূল। সে কারণে একাধিকবার নির্বাচন কমিশনে তদ্বির করা হয়েছে। কিন্তু ইতিবাচক কোনও পদক্ষেপ এখনও নেওয়া হয়নি। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বিতর্কিতভাবে স্বল্প ব্যবধানে হেরেও মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছিলেন। শর্ত ছিল ছ-মাসের মধ্যে তাঁকে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে। কিন্তু কমিশনের ঢিলেমিতে বাংলায় উপনির্বাচন এখনও বিশ বাঁও জলে।

পুজোর আগেই হোক উপনির্বাচন, দাবি তৃণমূলের
কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে এখনও উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করনি নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল চাইছে অবিলম্বে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দেওয়া হোক। নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে তৃণমূল দাবি করে রাজ্যে কোভিড সংক্রমণ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তাই দ্রুত নির্বাচন করে নেওয়াই উচিত। পুজোর আগেই হোক উপনির্বাচন।

কোন সাত কেন্দ্রে উপনির্বাচন বাংলায়
তৃণমূলের দাবি, যদিও করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে, তবু নির্বাচন কমিশন চাইলে ধাপে ধাপে সাতটি কেন্দ্রের উপনির্বাচন করিয়ে নিতে পারে। ভবানীপুর, খড়দহ, শান্তিপুর, দিনহাটা, গোসাবা, সামসেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। এর মধ্যে ২০২১-এর নির্বাচনে সামসেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরে ভোটই হয়নি করোনায় প্রার্থীর মৃত্যু কারণে।

উপনির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের দাবি
সৌগত রায় বলেন, পুজো সামনে, তাই তার আগে নির্বাচন হয়ে যাওয়াই ভালো। সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উনির্বাচন সেরে ফেলা দরকার কেন্দ্রের। তবে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ জহর সরকার বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বা কোনও সংকট তৈরি হলে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া যাবে, তবে তার নজির নেই।

উপনির্বাচনে উচ্চবাচ্য নেই কমিশনের
রাজ্যে নির্বাচনের সময় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছিল। সেই অবস্থায় নির্বাচন হয়েছে। এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। তবু উপনির্বাচনের ব্যাপারে উচ্চবাচ্য নেই নির্বাচন কমিশনের। করোনার তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে সাবধান করে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় তৃণমূল ও বিজেপি যুযুধান দুই প্রতিপক্ষ উপনির্বাচন নিয়েও লড়াইয়ে নেমে পড়েছে।

কী বলছে তৃণমূল ও বিজেপি
তৃণমূলের দাবি করোনার নিম্নমুখী গ্রাফে বাংলার সাত কেন্দ্রে করোনা রয়েছে আর নামমাত্র। তৃণমূল এবার নির্বাচন কমিশেন সাত কেন্দ্রের করোনা-রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে জানতে চেয়েছিল এই কোভিড পরিস্থিতিতে বাংলার সাতটি কেন্দ্রে কীভাবে উপনির্বাচন সম্ভব। আগামী ৩০ অগাস্টের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলিকে মতামত পাঠানোর কথা জানিয়েছিল। বিজেপি সূত্রে বলা হয়েছে, কোভিডের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি করলেই আটক করা হচ্ছে, তাহলে এই পরিস্থিতিতে কীভাবে সম্ভব নির্বাচন করা?












Click it and Unblock the Notifications