সভাপতির বিরুদ্ধে আস্থা-অনাস্থার খেলায় পদত্যাগ সমিতির সদস্যের, তৃণমূলে গোষ্ঠীকোন্দল
সভাপতির বিরুদ্ধে আস্থা-অনাস্থার খেলায় পদত্যাগ সমিতির সদস্যের, তৃণমূলে গোষ্ঠীকোন্দল
মালদহ তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে চলে এল। রতুয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তুমুল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এক পঞ্চায়েত সমিটির সদস্য পদত্যাগও করেন। তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব জানিয়েছে, দলের অন্দরের এই জটিলতা শীঘ্র মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ঘিরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব
মলদহের রতুয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ঘিরে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয় তৃণমূল কংগ্রেসে। জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সাধন চক্রবর্তী পদত্যাগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকে রতুয়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে।

শুধু আস্থা-অনাস্থার খেলা চলছে, উন্নয়ন নেই
তিনি বলেন, এই আস্থা-অনাস্থার ঘেরাটোপে পঞ্চায়েত সমিতির কাজ ব্যহত হচ্ছে। মানুষ আমাদের উন্নয়ন করার জন্য নির্বাচিত করেছিলেন। কিন্তু আমরা উন্নয়ন না করে শুধু আস্থা-অনাস্থার খেলায় মেতে উঠেছি। বিগত তিন বছর ধরে শুধু আমরা রাবার স্ট্যাম্প হয়ে বসে আছি। মানুষের হয়ে কাজ করতে পারিনি বলেই সদস্য থাকার কোনও অধিকার নেই আমার, তাই পদত্যাগ করলাম।

ঘরওয়াপসিতে তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল চরমে
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যান ১৮ জন সদস্য। আবার ভোটে মিটে গেলে তাঁরা ফিরে আসেন তৃণমূলে। তাঁদের ঘরওয়াপসির পর তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল চরম আকার নেয়। তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব গোষ্ঠীকোন্দল মেটানোর তোড়জোড় শুরু করেছে। তা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি।

পদত্যাগ করে দলকে বার্তা দিলেন সমিতির সদস্যের
তৃণমূলে ঘরওয়াপসিকে কেন্দ্র করে মালদহের ব্লক সভাপতি ফজলুর রহমান ও জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা রতুয়ার তৃণমূল নেতা হেসামুদ্দিনের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়েছে। ফলে দলত্যাগীদের ফেরানো নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এদিকে বন্ধ হয়ে রয়েছে উন্নয়নমূলক কাজ। তাই পদত্যাগ করে দলকে বার্তা দিলেন সমিতির সদস্য সাধন চক্রবর্তী।

ভোটের আগে তৃণমূল ত্যাগে জটিলতা তৈরি
বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মালদহের রতুয়া পঞ্চায়েত সমিতির ৩০টি আসনের মধ্যে ২৬টি আসনে জয়ী হয় তৃণমূল। বাকি চারটি আসনে জয়লাভ করে কংগ্রেস। পরবর্তী সময়ে ওই চার কংগ্রেস সদস্য যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। ফলে বিরোধীশূন্য হয়ে পড়ে রতুয়া। শেষে ১৮ জন বিজেপিতে যোগ দেন ভোটের মুখে। সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে তৃণমূল। অনাস্থা আনা হয় সভাপতির বিরুদ্ধে। তারপর ফের তৃণমূলে ফেরেনন পঞ্চায়েত সমিতির ১৮ দলত্যাগী সদস্য।












Click it and Unblock the Notifications