তৃণমূলে ‘পারফর্ম’-এ সেরা 'অন্য' মমতা ! বাংলার ৪২-এ একেবারে ‘লাস্ট বয়’ বিজেপি

সাংসদ তহবিলে এলাকা উন্নয়নের নিরিখে বিজেপি-সহ বিরোধীদের অনেক পিছনে ফেলে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা যখন তহবিল খরচে প্রথম সারিতে অবস্থান করছেন, তখন ‘লাস্ট বয়’ বিজেপি সাংসদ।

সাংসদ তহবিলে এলাকা উন্নয়নের নিরিখে বিজেপি-সহ বিরোধীদের অনেক পিছনে ফেলে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা যখন তহবিল খরচে প্রথম সারিতে অবস্থান করছেন, তখন 'লাস্ট বয়' বিজেপি সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। বেশ খারাপ পারফরম্যান্স অধীর চৌধুরী, বাবুল সুপ্রিয়দের।

তৃণমূলে ‘পারফর্ম’-এ প্রথম মমতাবালা! বাংলার ৪২-এ একেবারে ‘লাস্ট বয়’ বিজেপি

আগামী বছরেই লোকসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে কার মুখে হাসি ফুটবে, তা পরের কথা। কিন্তু সেই যুদ্ধের আগে পারফরম্যান্সের নিরিখে রাজ্যের শাসক তৃণমূল যে বেশ কয়েক কদম এগিয়ে রয়েছে বিরোধীদের থেকে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কেন্দ্রের প্রকাশ করা সাংসদের 'পারফর্মে'ই সেই প্রমাণ মিলেছে। এই তালিকায় বিজেপির দুই সাংসদ তো পিছিয়ে রয়েছেন, পিছিয়ে রয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীও।

সাংসদ তহবিলের বরাদ্দ টাকার খরচ অনুযায়ী সাংসদের পারফর্মের যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে, সেই তালিকায় ২০১৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত সবার উপরে রয়েছে মমতাবালা ঠাকুরের নাম। দ্বিতীয় স্থানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে ইদ্রিশ আলি ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম।

এছাড়া তৃণমূলের বেশিরভাগ সাংসদই ৯০ শতাংশ বরাদ্দ টাকা খরচ করেছেন। দু-একজন ছাড়া প্রায় সবাই-ই রয়েছেন ৮০ শতাংশের উপর। ১০২.৬৭ শতাংশ খরচ করে সবার উপরে স্থান করে নিয়েছেন মমতাবালা। অভিষেক খরচ করেছেন ১০১,৫২ শতাংশ। ইদ্রিশ আলি ১০০.৫৫, কাকলি ঘোষ দস্তিদার খরচ করেচেন ৯৯,৫৮ শতাংশ।

উল্টোদিকে সবার পিছনে স্থান দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়ার। তিনি খরচ করেছেন মাত্র ৫৩.৪৫ শতাংশ। বাবুল সুপ্রিয় বরাদ্দ টাকার ৭১.৯২ শতাংশ খরচ করেছেন। আর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বহরমপুরের সাংসদ খরচ করেছেন ৬১. ৫৪ শতাংশ। উন্নয়ন তহবিলের টাকা খরচে পিছিয়ে থাকা বিরোধী সাংসদরা এর জন্য দায়ী করেছেন জেলা প্রশাসনের অসহযোগিতাকে।

আলুওয়লিয়া থেকে অধীর চৌধুরীদের কথায়, তৃণমূল সাংসদের তলবিল খরচের জন্য শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বিরোধীদের দেওয়া হচ্ছে না, সেই কারণেই পিছিয়ে বিরোধীরা। এ জন্য পরের কিস্তিও মঞ্জুর হচ্ছে না। আলুওয়ালিয়া বলেন, অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের টাকায় তৈরি কোনও কাজের খুঁত দেখা হচ্ছে এবং তারপর কাজ আটকে দেওয়া হচ্ছে। একই অভিযোগ কংগ্রেস ও বাম সাংসদের। তবে এক্ষেত্রে একটা প্রশ্ন উঠতেই পারে, তাই যদি হবে সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম সাংসদ তহবিলের বরাদ্দ টাকা খরচে এগিয়ে কেন? তিনি ৯৪.৯৮ শতাংশ টাকা খরচ করেছেন। কিন্তু অন্যরা পারেননি।

উল্লেখ্য, তাপস পাল অসুস্থ ও জেলে থাকা সত্ত্বেও তাঁর তহবিলের ৮০ শতাংশের বেশি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে জানিয়েছেন, জেলাশাসক, স্থানীয় বিধায়ক, পুর চেয়ারম্যানরা সহযোগিতা করেছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। সাসংদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে কাজ করতে হয়। মানুষের পাশে থাকতে হয়, মানুষের কাছে যেতে হয়, তবেই কাজের সুযোগ মেলে। আমরা তা করেছি, কিন্তু বিরোধীদের সঙ্গে মানুষের কোনও যোগাযোগ নেই, তাই পারেনি কাজ করতে।

তৃণমূল সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী জানান, আমরা একটা খুব ভালো টিম, আমরা টিম হিসেবে উন্নয়নের কাজ করি, সকলে মিলে পর্যালোচনা করি। এই সাফল্য টিম তৃণমূলের। উল্লেখ্য, প্রত্যেক সাংসদের এলাকা উন্নয়ন তহবিলে প্রতি বছর ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। অর্থাৎ পাঁচ বছরে ২৫ কোটি। সেই নিরিখে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যানমন্ত্রী সাংসদদের তহবিলে টাকা খরচের পর্যালোচনায় বসেছিলেন। সেই পর্যালোচনা বৈঠকের রিপোর্ট কার্ডেই তৃণমূলের জয় জয়কার, পিছিয়ে বিজেপি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+