তৃণমূলে আড়াআড়ি বিভাজন! পুর নির্বাচনের আগে মালদহে জোড়া বিজয়া সম্মিলনীতে প্রশ্ন
একুশের নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরও তৃণমূলের কোন্দল দূর হল না। বিজয়া সম্মিলনীকে কেন্দ্র করে মালদহে তৃণমূলের অন্দরের ফাটল প্রকাশ্য চলে এল। মালদহ তৃণমূল আড়াআড়ি দু-ভাগ।
একুশের নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরও তৃণমূলের কোন্দল দূর হল না। বিজয়া সম্মিলনীকে কেন্দ্র করে মালদহে তৃণমূলের অন্দরের ফাটল প্রকাশ্য চলে এল। মালদহ তৃণমূল আড়াআড়ি দু-ভাগ। প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী ও প্রাক্তন জেলা সভানেত্রী মৌসম বেনজির নুর আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনীতে অনুপস্থিত থাকলেন মালদহের জেলা সভাপতি ও সেচ প্রতিমন্ত্রী।

মালদহ তৃণমূলের একাংশ বিজয়া সম্মিলনী করল। সেখানে অপর অংশ অনুপস্থিত। জেলা তৃণমূলের ওই অপর অংশ আবার পৃথক দিনে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করেছে। একই দল অথচ দুটি পৃথক বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন হয়েছে জেলায়। এই জোড়া কর্মসূচিই তৃণমূলের বিভাজন রেখা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
অথচ বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর তৃণমূলকে সঙ্ঘবদ্ধ লাগছিল। কিন্তু বিজয়া সম্মিলনীর জোড়া অনুষ্ঠান তৃণমূলের কোন্দল প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে ফের। মালদহে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল যে মেটেনি তা যে ধামাচাপা ছিল, তা ফের প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দুই পক্ষই নিজেদের বিজয়া সম্মিলনীতে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে।
মালদহ চিরদিন কংগ্রেসের গড় বলে পরিচিত ছিল। সেখানে ২০১৯-এ বিজেপির উত্থান হয়। কংগ্রেসের গড়ে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল দাঁত ফোটাতে পারেনি। বিজেপি ও কংগ্রেস দুটি আসন ভাগ করে নেয়। তৃণমূলকে তৃতীয় শক্তিতে রূপান্তরিত করে দেয় কংগ্রেস ও বিজেপি। কিন্তু সেই অবস্থা থেকে ২০২১-এ ঘুরে দাঁড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূল এবার গৌড়ীয় বঙ্গে অর্থাৎ মালদহে অভূতপূর্ব ফলাফল করেছে বিধানসভা নির্বাচনে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে ম্লান করে ছেড়েছে। এমনকী কংগ্রেসও কোনও পাত্তা পায়নি মালদহে। তৃণমূলের জয়জয়কারে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিল তৃণমূল কোন্দল মিটিয়ে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবার। তার ফল পেয়েছে হাতেনাতে। বিজেপির সম্ভাবনা আর কংগ্রেসের ঐতিহ্যকে ধুলিসাৎ করে বিজয়ী হয়েছে তৃণমূল।
তৃণমূলের ঐক্যবদ্ধ বিপুল জয়ের পর যে ৬ মাসের মধ্যে জেলায় এমন ফাটল তৈরি হবে, তা কল্পনা করেনি নেতৃত্ব। পুরসভা নির্বাচনের আগে এই গোষ্ঠীকোন্দল তৃণমূলকে নতুন করে চিন্তায় ফেলে দিল। তিনমাসের মধ্যে রাজ্যের ১১৪ পুরসভায় ভোট হবে। তার আগে এমন গোষ্ঠীকোন্দলের সূত্রপাত হলে শাসক দলের কাছে তা সুখকর হবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উল্লেখ্য, ২০২১-এর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই রাজ্যে পুরসভা ভোটের আসর বসতে শুরু করবে।












Click it and Unblock the Notifications