Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

বলাগড়ে নিয়োগ দুর্নীতির জোড়া ফলায় বিদ্ধ বামেরা, অভিষেকের সফরের দিনই তদন্ত দাবি তৃণমূলের

নিয়োগ দুর্নীতিতে হুগলির বলাগড়ের বহিষ্কৃত তৃণমূল যুব কংগ্রেস নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুন্তল ঘোষ শ্রীঘরে। মন্ত্রী, বিধায়ক থেতে পর্ষদ কর্তারাও এখন জেলবন্দি। রাজ্যের বিরোধী দলের নিশানায় তৃণমূল কংগ্রেস।

এই আবহে আজ সন্ধ্যায় নবজোয়ার কর্মসূচি নিয়ে সেই বলাগড়েই আসছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে বলাগড় তথা হুগলির সিপিআই(এম) শিবিরে কাঁপুনি ধরাল তৃণমূল কংগ্রেসের পেশ করা বাম আমলের নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত নথি।

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি

নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরব বামেরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারেবারেই বলে থাকেন, আমরা কারও চাকরি খাইনি। কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে বামেরা তৃণমূলকে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াতেই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন বাম আমলের নিয়োগের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার জন্য।

সুজন চক্রবর্তীর স্ত্রী-র নিয়োগের বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক চাপানউতোর কম হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একটি মেল আইডি দিয়ে জানানো হয়েছিল, কোথাও দুর্নীতির আঁচ পেলে নথি-সহ তা জানাতে। সেভাবেই তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী সামনে এনেছেন বলাগড়ের ঘটনা। দুর্নীতি প্রমাণের নথিও রয়েছে।

বলাগড় স্কুল দুর্নীতিতে সিপিআই(এম)-কে নিশানা তৃণমূলের

রামপ্রসাদ হালদার এবিটিএ-র হুগলি সদরের সভাপতি ও রাজ্য কমিটির সদস্য, সিপিআই(এম)-এর বলাগড় এরিয়া কমিটিরও সদস্য। তাঁর ভাই শ্যামাপ্রসাদ হালদার সিপিআই(এম)-এর হোলটাইমার, বলাগড় পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা ও বর্তমানে সিপিআই(এম)-এর এরিয়া কমিটির সদস্য।

তাঁরা নিয়োগ দুর্নীতিতে শাসক দলকে নিশানা করে অপরাধীর শাস্তির দাবিতে সরব। ১৯৯৬ সালে হুগলির বলাগড়ের ধ্রুবানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা অনার্স এসসি সংরক্ষিত পদে নিয়োগের জন্য এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ থেকে ১৪ জনের নাম পাঠানো হয়। সেই নিয়োগেই দুর্নীতিতে জড়িয়েছে রামপ্রসাদের নাম।

বলাগড় স্কুল দুর্নীতিতে সিপিআই(এম)-কে নিশানা তৃণমূলের

অ্যাকাডেমিক স্কোর ও ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত সদস্যদের দেওয়া নম্বরের তালিকা অনুযায়ী রামপ্রসাদ প্রথম তিনেই ছিলেন না। কিন্তু দলীয় আনুগত্যের কারণেই তাঁকে অনৈতিকভাবে চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা হয় বলে অভিযোগ। ক্লাস ডেমনস্ট্রেশনে ৫-এ চার ও মৌখিক পরীক্ষায় পাঁচে পাঁচ দেওয়া হয়।

তালিকায় যিনি প্রথম ছিলেন তাঁকে তিন এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়কে ২ করে দেওয়া হয়। এমনটা কেউ তর্কের খাতিরে বলতেই পারেন, রামপ্রসাদ অসাধারণ ইন্টারভিউ দিয়েছেন। বাকিরা লেখাপড়া জানেন না। কিন্তু সেই দাবিকে উড়িয়ে দেবে ইন্ডিভিজুয়াল স্কোরশিট। যা চলে এসেছে তৃণমূল মুখপাত্রর হাতে।

বলাগড় স্কুল দুর্নীতিতে সিপিআই(এম)-কে নিশানা তৃণমূলের

দেখা যাচ্ছে, ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্যদের দ্বারা যে নম্বর দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে ডিআই অফিসে পাঠানো প্যানেলের নম্বরে বিস্তর গরমিল। রামপ্রসাদকে ঢালাও নম্বর দিয়েও যখন তিনি প্রথম তিনের প্যানেলে আসছেন না, তখন অনৈতিকভাবে সর্বোচ্চ অ্যাকাডেমিক স্কোর করা ব্যক্তিদের নম্বর কমানো হয়।

এভাবে রামপ্রসাদকে তুলে আনা হয় একে। রামপ্রসাদের নম্বর বাড়ানো ও যোগ্যদের নম্বর কমিয়ে বঞ্চিত করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। ১৪ জনের যে তালিকা এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ পাঠিয়েছিল তাতে উচ্চ মাধ্যমিকের নম্বর অনুযায়ী রামপ্রসাদ ছিলেন ১৪ নম্বরে, অনার্সের নম্বরের ভিত্তিতে ১২-তে।

নিয়োগ দুর্নীতি বলাগড়

বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্যানেল অনুমোদনের জন্য ডিআই অফিসে পাঠানো নিয়ম। অবাক করার মতো বিষয়, রেজলিউশনের কপিতে ওই সভার সভাপতিরই সই নেই। সিপিআই(এম)-এর তখন ব্যাপক দাপট। ফলে তৎকালীন ডিআই অসম্পূর্ণ ও অনৈতিক রেজলিউশনে সম্মতি দেন।

যার জেরে রামপ্রসাদ হালদার ওই স্কুলে চাকরি পেয়ে যান এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরব। এই স্কুলে যে একটিই এমন ঘটনা তা নয়। আরও উদাহরণ রয়েছে। অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, আমি যে তথ্য দিচ্ছি তা মিথ্যা প্রমাণে যে কেউ আদালতের দ্বারস্থ হোন। আমরা চাই উপযুক্ত তদন্ত হোক।

নিয়োগ দুর্নীতি

ডুমুরদহের ওই স্কুলেই ১৯৯১ সালে ভূগোলের জন্য শিক্ষক বা শিক্ষিকার পদ সৃষ্টি হয়। এই পদে যাঁর চাকরি হয় সেই দোলা মিত্র ইন্টারভিউ বোর্ডে নির্ধারিত দিনে পরীক্ষাই দেননি। কিন্তু সিপিআই(এম)-এর দাপটের ফলেই তৈরি হয়ে যায় কাগজপত্র। যদিও দুর্নীতির প্রমাণ রয়ে গিয়েছে তার ছত্রে ছত্রে।

অ্যাকাডেমিক স্কোর অনুযায়ী দোলা মিত্রর চাকরি পাওয়ার কথা নয়। ইন্টারভিউয়ের কাগজপত্র লোপাট করে যে কাগজ নতুনভাবে তৈরি হয় তাতে ইন্টারভিউ ও ক্লাস টিচিংয়ে ৭ করে দিয়ে ১৪ নম্বর দেওয়া হয়। রামপ্রসাদ হালদারের ক্ষেত্রে ছিল ১৪, সেটা দোলা মিত্রর জন্য বাড়িয়ে ১৪ করে দেওয়া হয়।

বলাগড় স্কুল দুর্নীতিতে সিপিআই(এম)-কে নিশানা তৃণমূলের

যাতে দোলা মিত্রর নম্বর সবচেয়ে বেশি দেখানো যায় সে কারণেই এই ব্যবস্থাপনা। যাঁর অ্যাকাডেমিক স্কোর সবচেয়ে বেশি (৫০) ছিল, এমনকী দোলা মিত্র (৪০)-র চেয়েও তাঁকে ইন্টারভিউ ও ক্লাস টিচিং মিলিয়ে তিন নম্বর দেওয়া হয়। এর ফলে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর চেয়ে দোলা মিত্রর ১ নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

বিষয়টি যাতে কারও নজরে না আসে সে কারণে এক্সপার্টের কাছে সইয়ের জন্য পাঠানোও হয়নি। কারণ ওই প্যানেলে যাঁদের সই লাগবে তিনি বিদ্যালয়ে সিপিআই(এম) প্রভাবিত কমিটির কথা মানতে রাজি ছিলেন না। সেই সময় হুগলির ডিআই এক্সটার্নাল এক্সপার্টের সই ছাড়াই দুর্নীতিযুক্ত প্যানেলকে অনুমোদন দেন।

রামপ্রসাদ হালদারের মতো দোলা মিত্রও চাকরি করে চলেছেন বহাল তবিয়তে। সিপিআই(এম) প্রশ্ন তুলছে, ১৯৯১ বা ১৯৯৬ সালের ঘটনা এতদিন কেন সামনে আনা হয়নি? এমনকী কীভাবে এই নথি বাইরে গেল তা নিয়েও উদ্বিগ্ন তাবড় নেতৃত্ব।

বলাগড় স্কুল দুর্নীতিতে সিপিআই(এম)-কে নিশানা তৃণমূলের

তৃণমূলের পাল্টা প্রশ্ন, বিরোধী দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুবিধাভোগী আখ্যা দিয়ে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে নীরব থাকার অভিযোগ তুলছে। তাহলে জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরাও কি এই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে নীরব ছিলেন সুবিধাভোগী বলেই? ফলে কাচের ঘরে বসে ঢিল না ছোড়াই ভালো।

তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রায়ই চ্যালেঞ্জের সুরে বলে থাকেন বাম আমলের দুর্নীতির প্রমাণ দিলে বুঝব! বাস্তব হলো, অনেক ক্ষেত্রেই নথি লোপাট হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অপরাধীরা চিহ্ন ছেড়ে যায়। তাই হুগলির মতো অনেক ক্ষেত্রে কাগজ রয়ে গিয়েছে।

বলাগড় স্কুল দুর্নীতিতে সিপিআই(এম)-কে নিশানা তৃণমূলের

সিপিআই(এম) নেতা-নেত্রীরা অসাধু উপায় অবলম্বন করে এখনও চাকরি করছেন, আবার সরকারকে গালমন্দ করে কালিমালিপ্ত করছেন, এই দ্বিচারিতা চলতে পারে না। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে জনস্বার্থ মামলার চ্যালেঞ্জ দিয়েছে তৃণমূল। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নজরেও গোটা বিষয়টি আনতে চান অরূপ।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+