শুভেন্দুর সঙ্গে নিশানায় দলের একাংশও! নিয়োগ দুর্নীতিতে তৃণমূল কাউন্সিলরের কান ধরে ওঠবসে শোরগোল তমলুকে
স্কুল সার্ভিস কমিশন যে অযোগ্য বা দাগিদের তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে নাম রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের অনেকের। যে জেলা আবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। সেই শুভেন্দুর সঙ্গে এখনও দলের একাংশের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূলের কাউন্সিলর। পাত্তা দিচ্ছে না বিজেপি।
তমলুক পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা আইনজীবী পার্থসারথি মাইতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আগেও টেন্ডার-সহ নানা দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়ে মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। এবার তাঁর কান ধরে ওঠবসের ছবি ভাইরাল হয়েছে। এসএসসি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক দাগিদের তালিকা প্রকাশের পরেই।

পার্থ বলেন, শুভেন্দু অধিকারী বড় বড় কথা বলছেন। দাবি করছেন, নিয়োগ দুর্নীতির সব টাকা নাকি মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়েছে। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে রাজ্যস্তরের নেতারা সরব হলেও আমাদের জেলার নেতারা মুখ খুলছেন না। তাঁরাও অনেকে টাকা নিয়েছেন। শুভেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। সে কারণেই তাঁরা মুখ খুলছেন না। পদকে নয়, পতাকাকে, দলনেত্রীকে ভালোবাসালে মুখ খুলুন। আমাদের লক্ষ্য শুভেন্দু জেলে যাক। আমাদের দলের যাঁরা টাকা নিয়েছেন তাঁরাও জেলে যাক। কেউ মুখ না খোলায় শুভেন্দু বড় বড় ভাষণ দিচ্ছেন।
নিজের দলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের হয়ে কান ধরে ওঠবস করে পার্থ মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও করেছেন ভাইরাল ভিডিওতে। তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিত রায়ের কথায়, এই জেলায় তো দল এখন শুভেন্দু চালান না। ফলে আইনজীবী হয়ে এমন বক্তব্য তিনি কীভাবে রাখতে পারেন? কিছু বিষয় থাকলে দলের শৃঙ্খলা মেনে দলের অভ্যন্তরেই জানানো উচিত ছিল। বিজেপি কাউন্সিলর শবরী চক্রবর্তীর কথায়, পার্থ মাইতির কথায় তাঁর দলের লোকরাই গুরুত্ব দেন না। তিনি প্রচারের আলোয় আসতে এইসব উল্টোপাল্টা কথা বলছেন। এ সবের গুরুত্ব নেই।
উল্লেখ্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও এর আগে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতিতে শুভেন্দুর যোগ আছে বলে দাবি করেছিলেন। শুভেন্দু পাল্টা বলেন, আমার সঙ্গে তৃণমূল থেকে যাঁরা বিজেপিতে এসেছেন বা সামনে-পিছনে, ডায়ে-বাঁয়ে আমার সঙ্গে যাঁদের দেখা যায় তাঁদের বা তাঁদের ঘনিষ্ঠ কারও নাম নেই তালিকায়। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার বাক্যালাপ ছিল না। বিভিন্ন রিজিওনাল অফিস তুলে দিয়ে উনি এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়েছিলেন।
এদিকে, আজ কিছুক্ষণ আগে পার্থ মাইতি ফেসবুকে লেখেন, আমার ভিডিও বিভিন্ন পোর্টাল ভাইরাল করে বারবার দেখাচ্ছে। রাস্তায় লাশ পড়ে থাকলে কেউ দায়িত্ব নেবেন তো? অর্থাৎ এই পোস্টে তাঁর প্রাণ সংশয়ের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তৃণমূলের এই যুব নেতা।












Click it and Unblock the Notifications