বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সোনালীর বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়! দাবি তৃণমূলের
সম্প্রতি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সোনালী বিবির বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার ভোটার তালিকায় ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নথিভুক্ত ছিল। আজ এমনই দাবি করল তৃণমূল কংগ্রসে।
তৃণমূলের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়াটি "বাংলার এবং এখানকার মানুষের ধারণার উপর একটি আঘাত"।

গত সেপ্টেম্বরে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, এক মাসের মধ্যে সোনালী বিবি ও তাঁর পরিবারকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তৃণমূল তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছে, "বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুনকে ফেরত পাঠানো শুধুমাত্র আমলাতান্ত্রিক নিষ্ঠুরতা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল।"
তৃণমূল আরও অভিযোগ করেছে, "বিজেপি যা SIR অভিযান হিসেবে দেখাচ্ছে, তা আসলে বাংলার এবং এখানকার মানুষের ধারণার উপর একটি আঘাত। এর মাধ্যমে ভয় ছড়ানো হচ্ছে, নাগরিকদের ভারতীয়ত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের অপমান করা হচ্ছে, এবং রাজ্যের সামাজিক কাঠামোকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।"
নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের আরও ১১টি রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তৃণমূল এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে দাবি করছে যে, এটি বিজেপির নির্দেশে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি এটিকে একটি রুটিন ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছে।
তৃণমূলের দাবি, সোনালী বিবির বাবা ভোদু শেখ এবং মা-এর নাম ২০০২ সালের বীরভূম জেলার মুরারই-এর ভোটার তালিকায় রয়েছে। দলটির এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে বলা হয়েছে, "যখন একজন অন্তঃসত্ত্বা মায়ের বাবা-মা ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নথিভুক্ত, তখন তাঁকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা প্রশাসনিক ভুল নয়; এটি জাতীয়তাবাদের নামে নৈতিকতার পতন।"
তৃণমূল আরও বলেছে, "একজন অন্তঃসত্ত্বা বাঙালি নারীকে অন্য দেশে নির্বাসিত করে বিজেপি শুধুমাত্র সাংবিধানিক নীতি লঙ্ঘন করেনি, প্রজাতন্ত্রের বিবেককেও অপমান করেছে। এই ঘটনাটি অপ্রতিরোধ্য প্রমাণ যে, দেশপ্রেমের আড়ালে বাংলার এবং এখানকার মানুষের প্রতি একটি ঠান্ডা, অবিরাম অবজ্ঞা রয়েছে।"
আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কলকাতা হাইকোর্ট গত ২৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সরকারের সোনালী বিবি ও তার পরিবারকে "অবৈধ অভিবাসী" আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছিল। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, তাঁদের এক মাসের মধ্যে ভারতে ফিরিয়ে আনা হোক।
ভোদু শেখের দায়ের করা একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দিয়েছিল। ভোদু শেখ দাবি করেন যে, তাঁর মেয়ে সোনালীকে স্বামী দানেশ শেখ এবং পাঁচ বছরের ছেলে-সহ দিল্লিতে আটক করা হয় এবং বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাঁরা মুরারইয়ের বাসিন্দা। ভোদু শেখের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে। আবার একটি আদালত অবমাননার পিটিশনও হাইকোর্টে দায়ের করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে আদালতের আদেশ মানা হয়নি। তৃণমূলের এদিনের দাবি এবার গোটা মামলায় অন্য মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications