মুকুলকে ডাকবে না তৃণমূল! বিজেপির টিকিটে জেতা বিধায়ককে নিয়ে তৈরি নয়া জল্পনা
মুকুলকে ডাকবে না তৃণমূল! বিজেপির টিকিটে জেতা বিধায়ককে নিয়ে তৈরি নয়া জল্পনা
মুকুল রায় বিজেপির টিকিটে জিতে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তারপর তাঁকে নিয়ে নানা নাটকের সূচনা হয়। তাঁক শুধু বিজেপি বিধায়ক হিসেবে ফলাও করে দেখানোই নয়, তাঁকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানও করা হয়। তাতেই বাধে গোল। মুকুলের বিরুদ্ধে কোমর বাঁধে বিজেপি। এখন এই ইস্যুতে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় মুকুলকে না ডাকার পরিকল্পনা নিচ্ছে তৃণমূল।

মুকুল তৃণমূলে যোগ দেননি!
মাস ফুরোলেই তৃণমূলের সাংগঠনিক নির্বাচন। সেই নির্বাচনে মুকুল রায়কে না নাও ডাকতে পারে তৃণমূল। আপাতত তৃণমূলের তরফে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। কিন্তু কেন তাঁকে ডাকা হবে না? কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক সম্প্রতি বলেছেন তিনি কোনওদিন তৃণমূলে যোগ দেননি। তিনি বিজেপিতেই রয়েছেন। তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তাঁর আইনজীবীরাও সেই কথা প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছেন।

মুকুল রায়কে নাও ডাকা হতে পারে
আর তৃণমূল আসন্ন ২ ফেব্রুয়ারি তাদের পার্টির সাংগঠনিক নির্বাচনে মুকুল রায়কে না রাখরা সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। বিজেপি বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা মুকুল রায়কে না ডাকা হতে পারে এই অজুহাতে যে, শুধুমাত্র তৃণমূলের টিকিটে জেতা জনপ্রতিনিধিদেরই ডাকা হচ্ছে। ফলত, এবার পার্টির সাংগঠনিক নির্বাচনে মুকুল রায়ের উপস্থিত থাকার কোনও সম্ভাবনা নেই।

মুকুল-যোগের পর নাটকের পর নাটক
একুশের নির্বাচন ফুরোনার এক মাস ঘুরতে না ঘুরতেই পুরনো দলে ফিরেছিলেন মুকুল রায়। বিজেপির টিকিটে প্রথমবার জিতে জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর তাঁর দলবদলে তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থতিতে সপুত্র তিনি উত্তরীয় ধারণ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে। তারপরই শুধু হয় নাটকের পর নাটক।

মুকুল তৃণমূলে যোগ দিয়েও বিরোধী বেঞ্চে
মুকুল রায় বিধায়ক পদ না ছেড়ে বিধানসভায় বিরোধী বেঞ্চে বসেন। তারপর তাঁকেই পাবলিক অ্যাকউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। তারপরই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ-সহ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারিত করার দাবি জানিয়ে মামলা করেন।

মুকুল একা নন, তালিকায় রয়েছে আরও
তবে তৃণমূল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শুধু মুকুল রায় একা নন, মুকুল রায়ের মতো আরও যাঁরা বিজেপির টিকিটে ভোটে জিতে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন, তাঁদেরও না ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেইমতো বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ, কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়, বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস ও রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীকেও তৃণমূল সাংগঠনিক নির্বাচনে ডাকবে না বলে সূত্রের খবর।

মুকুল শুনানিতে সুপ্রিম নজরদারি
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মুকুল রায়-সহ বিজেপি-ত্যাগী বিধায়কদের না ডাকার পিছনে রয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর করা মামলা। তিনি বিদায়ক পদ খারিজের আবেদন জানিয়েছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। মুকুল রায়কে নিয়ে এখনও পর্যন্ত ১১টি শুনানি হয়েছে স্পিকারের 'এজলাসে'। কিন্তু বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি। এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আবার ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে বলছে। তাই কৌশলী সিদ্ধান্ত নিয়েই মুকুল রায়দের না ডাকার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে তৃণমূল।












Click it and Unblock the Notifications