মতুয়া ভোট-ব্যাঙ্ক দ্বিধাবিভক্ত! সিএবি-কাঁটায় সিঁদুরে মেঘ দেখছে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস
এনআরসির প্রতিবাদে প্রচার চালিয়ে ছ-মাসেই কামব্যাক করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভায় হারের জ্বালা মিটিয়েছেন উপনির্বাচনে বিজেপিকে নাস্তানাবুদ করে।
এনআরসির প্রতিবাদে প্রচার চালিয়ে ছ-মাসেই কামব্যাক করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভায় হারের জ্বালা মিটিয়েছেন উপনির্বাচনে বিজেপিকে নাস্তানাবুদ করে। এরপরই সংসদে নাগরিক্তব সংশোধনী বিল পেশ হয়েছে। তাতেই তৃণমূলের মতুয়া ভোটে আঘাত নেমে এসেছে। অন্তত ধর্মতলায় এনআরসির প্রতিবাদে মতুয়া মহাসংঘের অবস্থান কর্মসূচিতে তা প্রকট হয়ে উঠেছে।

মতুয়া মহাসংঘের সদস্যদের প্রতিবাদ, ধন্দ
তৃণমূলের মন্ত্রী তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের উদ্যোগে এই মহাসভার আয়োজন করা হয়। মতুয়া মহাসংঘের সদস্যরা কী নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে জমায়েত হয়েছিল, সেখানেই তৈরি হয়েছিল ধন্দ। মতুয়ারা নিজেদের দাবিই উত্থাপন করতে পারেনি স্পষ্ট করে। ছন্নছাড়া পরিস্থিতিতে তৃণমূলকে সিঁদুরে মেঘ দেখিয়ে দিলেন তাঁরাই।

মতুয়াদের বিভাজন হয়েছিল আগেই
বড়মার মৃত্যুর পরই মতুয়া মহাসংঘ কার্যত দু-ভাগ হয়ে গিয়েছিল। একদিকে মমতাবালা ঠাকুর, অন্যদিকে শান্তনু ঠাকুর। অর্থাৎ একদিকে তৃণমূল, অন্যদিকে বিজেপি। এই নিয়ে বিতর্ক ছিলই। এবার ধর্মতলার মহাসভায় তৃণমূলের সঙ্গেই দূরত্বের ছবি প্রকাশ পেল মমতাবালার। এটাই এখন গভীর বিস্ময়ের ব্যাপার হয়ে উঠেছে।

এবার মতুয়ারা তৃণমূলের সিঁদুরে মেঘ
এদিন ধর্মতলায় মতুয়া মহাসংঘের সভায় যে ছবি ধরা পড়েছে, তৃণমূলের মতুয়া ভোট ব্যাঙ্কে যদি সেই ছবির মতোই প্রভাব পড়ে, তবে তৃণমূলের কাছে অশনি সংকেত হবে তা। সোমবার লোকসভায় পাস হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা সিএবি। এরই মধ্যে তৃণমূলের এমন ছন্নছাড়া দশা যে, বিক্ষোভ অবস্থান দেখে বোঝার উপায় নেই, এই অবস্থান বিক্ষোভ কেন বা কীসের দাবিতে।

প্রতিবাদ উধাও সিএবির নিশ্চয়তার
এনআরসির প্রতিবাদে সভা হলেও বোঝার উপায় নেই সত্যিই কীসের প্রতিবাদ হচ্ছে। কেননা, মতুয়া সংঘই এনআরসি নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছে এই প্রতিবাদ সভা নিয়ে। সোমবার সিএবি পাস হওয়ার পর অনেকেই মনে করছে এই বিল পাস হলে তাঁদের স্বার্থই সুরক্ষিত হবে। তাঁরা এতদিন শরণার্থী হয়েছিলেন, নাগরিকের মর্যাদা পাবেন। এই নিশ্চয়তার ভাবনায় উধাও হয়ে গেল প্রতিবাদ।

নাগরিকদের আবার নাগরিকত্ব দরকার!
তৃণমূল নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করল। ব্যাখ্যা করল, যাঁরা নাগরিক তাঁদের আবার কীসের দরকার নাগরিকত্বের। আর এই বিল ভারতীয় সংবিধীনের পরিপন্থী। কোনও সাম্য বা মৌলিকতা বজায় থাকছে না বিলে। কিন্তু এনআরসির মতো সিএবিতে ঝাঁঝালো যুক্তি খাঁড়া করতে পারছে না কেউ।

জ্যোতিপ্রিয়র সভায় মমতাবালা ঠাকুর নেই!
এদিন আবার তৃণমূলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সভা ডেকেছিলেন। সেই সভায় মমতাবালা ঠাকুর নেই, মতুয়া মহাসংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ নেই। সেটাই বড়সড় ফাঁক তৈরি করে দিল তৃণমূলে। তবে কি মতুয়া সমাজে তৃণমূলের প্রভাব-প্রতিপত্তি কমে গিয়েছে একেবারে। সেই প্রশ্নই উঠে পড়ল ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে।












Click it and Unblock the Notifications