নৌশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফে বিরাট ভাঙন, পঞ্চায়েত ভোটের আগে দলে দলে তৃণমূলে যোগ
তৃণমূলকে হারিয়ে নৌশাদ সিদ্দিকী একুশের বিধানসভায় আইএসএফের খাতা খুলেছিলেন ভাঙড়ে। সেই ভাঙড়েই পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ভাঙন ধরিয়ে দিল তৃণমূল। আইএসএফে ভাঙন ধরিয়ে পঞ্চায়েত ভোটের আগে ফের তৃণমূলের শক্তি বাড়ল। দলে দলে তৃণমূলে যোগ দিলেন শতাধিক নেতা-কর্মী।
রবিবার শওকত মোল্লা, আরাবুল ইসলামদের হাত ধরে তৃণমূলে নাম লেখালেন নৌশাদ সিদ্দিকীর দল আইএসএফের নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা। তৃণমূলের দাবি যাঁরা এদিন যোগ দিলেন তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিড আন্দোলনের শরিক ছিলেন।

এই যোগদান আইএসএফের পাশাপাশি জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটিতে ভাঙন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তাদের আগেই দুর্নীতিমূলক কাজকর্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। আইএসএফেরও একই দাবি।
পাল্টা তৃণমূলের তরফে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে আইএসএফের বিরুদ্ধে। নৌশাদ সিদ্দিকীর দলের বিরু্দ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক সওকত মোল্লা। আর ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক পাল্টা অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল এসব পঞ্চায়েত ভোটের আগে নাটক করছে।
আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকী বলেন, ভোট আসুক, মানুষ যোগ্য জবাব দিয়ে দেবে। এইসব দল ভাঙিয়ে কোনো লাভ হবে না। মানুষ এইসব আই ওয়াশে ভুলবে না। মানুষ সঠিক সময় জবাব দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে ভাঙড়ে জিতবেন তাঁরাই। এদিন জোর দিয়েই বলেন নৌশাদ।

তৃণমূলের পক্ষে সওকত মোল্লা বলেন, যাঁরা আজ তৃণমূলে ফিরে এলেন তাঁরা বাস্তবতা বুঝেছেন। তাঁরা বুঝেছেন যে সরকারের প্রচুর টাকা এখানে তছরূপ হয়েছে। একজন, দুজন যাঁরা আছেন, তাঁরা সেইসব টাকা তছরূপ করেছেন। মানুষ আজ বুঝতে পেরেছেন সেসব। তাই আমাদের বিশ্বাস আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে মানুষ আমাদের সঙ্গে থাকবেন।
বিধানসভায় আমরা ব্যর্থ হয়েছি। মানুষ আমাদের থেকে সরে গিয়েছিল। কিন্তু তাঁরা আবার আমাদের পাশে ফিরে আসছেন। তাঁরা বিরোধীদের চক্রান্ত বুঝতে পেরেছে। ফলে আমরা আত্মবিশ্বাসী। আসন্ন পঞ্চায়েতে এই ভাঙড় থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ জিতে আমরা আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার দিতে চাই।

নৌশাদ সিদ্দিকী এদিন প্রশ্ন তোলেন, য়াঁরা এদিন তৃণমূলে যোগ দিলেন তাঁরা আদতে আইএসএফের কর্মী তো? তিনি বলেন, এমন প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে তৃণমূল যে দাবি করেছে শতাধিক কর্মী যোগ দিয়েছেন, তার সত্যতা নিয়েও। তারা আসলে কারা, তা নিয়েই ধন্দ রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications