বিজেপি যেখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী, কংগ্রেসকে ভেঙে ছারখার করে দিচ্ছে তৃণমূল! দল ছাড়লেন যাঁরা
বিজেপি যেখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী, কংগ্রেসকে ভেঙে ছারখার করে দিচ্ছে তৃণমূল! দল ছাড়লেন যাঁরা
মুর্শিদাবাদ-মালদহের মতো উত্তর দিনাজপুরকেও কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে ধরা হত। কিন্তু প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির জেলা উত্তর দিনাজপুরে কংগ্রেস ভাঙতে ভাঙতে তলানিতে পৌঁছে গিয়েছে। ফের উত্তর দিনাজপুর কংগ্রেসে বড় ভাঙন দেখা দিল। সোমবার রায়গঞ্জের বিধানমঞ্চে এক ঝাঁক কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন।

তৃণমূলের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী যখন বিজেপি
প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির হাতে গড়া উত্তর দিনাজপুর ছিল কংগ্রেসের দুর্ভেদ্য দুর্গ। ২০১৯ সালের আগে পর্যন্তও এই জেলায় কংগ্রেসের প্রাধান্য ছিল পর্যাপ্ত। কিন্তু ২০১৯-এ বিজেপির উত্থানে কংগ্রেস এখানে প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়। এই জেলাতেও তৃণমূলের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে সেই বিজেপি। দুই দলের লড়াইয়ে আরও শক্তি সঞ্চয় করতে সেই কংগ্রেসকেই বেছে নিল তৃণমূল।

তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন যাঁরা
সোমবার জেলা কংগ্রেসের সহ সভপাতি রণজকুমার দাস, আইএনটিইউসির জেলা সভাপতি তারাপদ দাস, কংগ্রেসের এনবিএসসির ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতা প্রণব বসাক, মহিলা কংগ্রেস নেত্রী শিপ্রা ঘোষ, হেমতাবাদ ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি মকবুল হুসেন-সহ অনেকে এদিন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন।

বিরোধী দল থেকে নিচুতলার নেতাকর্মীরা যোগ দেন তৃণমূলে
দলত্যাগী কংগ্রেস নেতাদের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দিয়ে স্বাগত জানান উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতি কানাইলাল আগরওয়াল, মন্ত্রী গোলাম রব্বানি প্রমুখ। শুধু জেলা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারাই নন, উত্তর দিনাজপুরের ৩ নম্বর মোহিপুর অঞ্চল, হেমতাবাদ ও কালিগঞ্জ থেকে কংগ্রেস-বিজেপি-সিপিএমসহ সমস্ত বিরোধী দল থেকে নিচুতলার নেতাকর্মীরা যোগ দেন তৃণমূলে।

সংবর্ধনা মঞ্চেই যোগদান করেন কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীরা
এদিন রায়গঞ্জে তৃণমূলের তরফে একটি সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। জেলা সভপাতি কানাইলাল আগরওয়াল, চেয়ারম্যান সত্যজিৎ বর্মন, এনবিএসটিসির ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা করণদিঘির বিধায়ক গৌতম পাল, মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী চৈতালি ঘোষ সাহা ও যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি কৌশিক গুণকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই সংবর্ধনা মঞ্চেই যোগদান করেন কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীরা ও অন্য দলের নেতাকর্মীরাও।

যোগ্য সম্মান ও উপযুক্ত জায়গা পাবে তৃণমূলে!
জেলা সভাপতি কানাইলাল আগরওয়াল বলেন, বিজেপির বিভেদের রাজনীতি মানতে না পেরেই এই দলবদল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের যোগ্য, তাই তাঁর হাত শক্ত করতে এই দলবদল। কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন দল থেকে আসা নেতারা তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। যাঁরা তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন বা নিচ্ছেন, তাঁদের যোগ্য সম্মান ও উপযুক্ত জায়গা দেওয়া হবে।

কংগ্রেসের পদাধিকারী ঠিকই, কিন্তু দলে নিষ্ক্রিয়
এদিন দলবদল প্রসঙ্গে কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, যাঁরা এদিন তৃণমূলে চলে গেলেন, তাঁরা কংগ্রেসের পদাধিকারী ঠিকই, কিন্তু দলের হয়ে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। আমরা বুঝেছিলাম তাঁরা দল ছাড়বেন। তাঁরা এতদিনে দল ছাড়লেন। জানি না কী উন্নয়ন দেখে তাঁরা তৃণমূলে গেলেন। এই দলবদলে আমরা চিন্তিত নই। এভাবে দল ভেঙে কংগ্রেসকে শেষ করা যাবে না।

২০২১-এ কংগ্রেস শূন্য বিধানসভা
২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছিল কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে। তারপর তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাঙাতে শুরু করেছিল। বহু নেতা-কর্মী দল ছেড়ে তৃণমূলে চলে গিয়েছিলেন। তারপরও ২০১৬ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস উত্তর দিনাজপুর জেলায় তিনটি আসনে জয়ী হয়েছিল। ইসলামপুর, কালিয়াগঞ্জ- তিনটি আসন থেকে কংগ্রেস বিধায়ক গিয়েছিলেন রাজ্য বিধানসভায়। ২০২১-এ অবশ্য কংগ্রেসের কোনও বিধায়ক নেই। বিধানসভা কংগ্রেসশূন্য।

প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির জেলায় কংগ্রেস ক্ষয়িষ্ণু
প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির উত্তর দিনাজপুর জেলায় এখন পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ, পুরসভা কিছুই নেই কংগ্রেসের। কংগ্রেস এখানে ক্ষয়িষ্ণু শক্তিকে পরিণত হয়েছে। তবু লড়াই চালাচ্ছে কংগ্রেস। দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের সঙ্গে শলা-পরামর্শ করলেও বাংলায় কংগ্রেসের উপর রোলার চালিয়েই যাচ্ছে। জোট ধর্ম রাখেনি তৃণমূল, এখনও কংগ্রেস ভেঙেই তাঁরা শক্তিশালী হচ্ছে। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে তাঁরা কংগ্রেসকেই বেশে নিয়েছে সফট টার্গেট হিসেবে।

তৃণমূলের কি অদ্ভুত সংস্কতির নমুনা!
শুধু বাংলাতেই নয়, তৃণমূল এই সংস্কৃতি শুরু করেছে ত্রিপুরাতেও। সেখানেও কংগ্রেস ভেঙে তাঁরা বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী হতে চাইছে। আসলে তৃণমূলের লক্ষ্যই হল কংগ্রেসকে ভেঙে তছনছ করে দেওয়া। দুই ফুল শুধু থাকবে। তা না হেল বিজেপির রাজ্য ত্রিপুরাকে টার্গেট করতে গিয়ে প্রথম থাবা বসায় কংগ্রেসের উপর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন জোট বৈঠক করছেন সোনিয়া গান্ধী-রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তখন ত্রিপুরায় কংগ্রেসের ঘর ভাঙছে তৃণমূল। এই হল তৃণমূলী সংস্কৃতি বলছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।












Click it and Unblock the Notifications