বর্ধমান স্টেশনে মজদুরদের কাছ থেকে টাকা কাড়ল টিকিট পরীক্ষক

স্থানীয় সূত্রে খবর, মালদহের হরিশচন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত কোলহা গ্রামের কয়েকজন মজুর ধান রোয়ার কাজ নিয়ে পাঞ্জাবের ফিরোজপুরে গিয়েছিলেন। জনা দশেকের দলটি কাজ শেষ করে ঘরে ফিরছিলেন। শুক্রবার ভোরে তাঁরা ধানবাদ স্টেশনে নামেন। সেখান থেকে একটি এক্সপ্রেস ট্রেনে চেপে বর্ধমানের দিকে আসছিলেন। কিন্তু যাত্রীদের কাছে শোনেন, সেটি বর্ধমানে দাঁড়াবে না। তাই তাঁরা দুর্গাপুরে নেমে যান। সেখান থেকে লোকাল ট্রেন ধরে দুপুরবেলা এসে পৌঁছন বর্ধমান স্টেশনে। এই সময় প্ল্যাটফর্মে থাকা এক টিকিট পরীক্ষক তাঁদের কাছে টিকিট দেখতে চান। কেন পাঞ্জাবে যাওয়া হয়েছিল, কতদিন থাকা হয়েছিল, কে তাঁদের নিয়ে গেল, এই সব প্রশ্ন করেন সংশ্লিষ্ট টিকিট পরীক্ষক। ওই মজুররা এর উত্তর দিতে অস্বীকার করলে অগ্নিশর্মা টিকিট পরীক্ষক তাঁদের নিয়ে যান টিকিট পরীক্ষকদের অফিসে। সেখানে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের কাছে থাকা ২৮ হাজার টাকা জোর করে কেড়ে নেওয়া নয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন আরও দু'জন টিকিট পরীক্ষক। তাঁরা কোনও প্রতিবাদ করেননি বলে অভিযোগ।
এর পর জিআরপি-তে অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁদের খেদিয়ে দেওয়া হয়। স্টেশন চত্বরে থাকা কিছু যাত্রী সব শুনে তাঁদের বর্ধমান থানায় যেতে পরামর্শ দেন। বর্ধমান থানা অভিযোগটি লিপিবদ্ধ করেছে। ঘটনাটি যেহেতু স্টেশন চত্বরে ঘটেছে, সেহেতু অভিযোগটি 'ফরওয়ার্ড' করা হয়েছে জিআরপি-র কাছে।
জনৈক মজদুর শেখ আনোয়ার বলেন, "ওই ক'টা টাকা আমরা পেয়েছিলাম মজুরি বাবদ। সেটা কেড়ে নিয়েছে। বাড়ি গিয়ে খাব কী? আমরা কোথায় কাজ করতে গিয়েছিলাম, কত টাকা পেয়েছি, সেটা টিকিট পরীক্ষককে কেন জানাতে যাব? পুলিশ দোষীকে গ্রেফতার করবে বলে আশা করছি।"












Click it and Unblock the Notifications