কাঁথিতে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ধৃত তিন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী

কাঁথি থানার অন্তর্গত সুনিয়া গ্রামে বিধানসভা ভোটের পর থেকেই ঘরছাড়া ছিলেন সিপিএম নেতা ব্যোমকেশ গিরি। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী একা থাকতেন। তিনি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই সিপিএম নেতার স্ত্রীকে তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু কর্মী অশ্লীল ইঙ্গিত করত বলে অভিযোগ।
রবিবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ শাসক দলের কয়েকজন কর্মী জোর করে বাড়িতে ঢোকে বলে অভিযোগ। ওই বধূর কাছে 'ক্ষতিপূরণ' বাবদ ১২ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। তিনি বলেন, এত টাকা দিতে পারবেন না। তখন তারা চলে যায়। ফের দুপুর দু'টো নাগাদ আসে। আবারও টাকা চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়। 'দেখে নেব তোকে', এই হুমকি দিয়ে চলে যায়।
সন্ধে সাড়ে ছ'টা নাগাদ অন্তত জনা কুড়ি তৃণমূল কর্মী বাড়িতে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে টানতে টানতে গ্রামের কাছে জগদীশ মোড় বলে একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। জনসমক্ষে শাড়ি-ব্লাউজ খুলে দেওয়া হয়। শ্লীলতাহানি করা হয়। মুখে ঘুষি মারা হয় বলেও অভিযোগ। তার পর টেনে-হিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। অন্তত ১২ জন মিলে তাঁকে পরপর ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। গতকাল সকালে ওই বধূর ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায় বাড়ি থেকে। স্থানীয় সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের দাবি, গণধর্ষণ করার পর তাঁকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় ও পরে পুলিশকে জানালেও তারা ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে রয়েছে। ক্রমশ মিডিয়ার চাপ বাড়তে থাকায় নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হল পুলিশ। গতকাল রাত থেকে তারা অভিযান শুরু করে। গ্রেফতার হয় অন্যতম তিনজন অভিযুক্ত।
কাঁথির তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, "আষাঢ়ে গল্প ফাঁদছে সিপিএম। আমাদের কেউ জড়িত নয় এই ঘটনায়। যে-ই এ সব করে থাকুক, পুলিশ আইনমাফিক ব্যবস্থা নেবে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কুৎসা করা হচ্ছে।" বাস্তবে দেখা গেল, তাঁর দলের লোকেরাই অপকর্মে জড়িত।
কাঁথির সিপিএম নেতা তাপস সিনহা মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, "বাকি ন'জনকে গ্রেফতার করা হল কি না, আমরা নজর রাখছি। পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে দায় সারলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করব।" রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ তুলে এদিন কাঁথিতে বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম।












Click it and Unblock the Notifications