তিন ইডি কর্মকর্তা বনাম পুলিশের বাহিনী! আই প্যাক তল্লাশিতে মমতার ‘বাধা', অভিযোগে উত্তপ্ত রাজনীতি
রাজ্য রাজনীতিতে ফের চড়ল উত্তাপ। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতার আই প্যাকের দপ্তরে ইডির তল্লাশি অভিযান চলাকালীন হঠাৎই ঘটনাস্থলে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই তল্লাশির পরিধি ও চরিত্র বদলে যায়, অভিযোগ করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
ইডি সূত্রের দাবি, তল্লাশি শুরু হতেই রাজ্যের পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনীর চাপে পড়েন তিনজন ইডি কর্মকর্তা। একদিকে জেড ক্যাটেগরি নিরাপত্তা, অন্যদিকে কয়েক ডজন পুলিশ। মাত্র তিনজন ইডির আধিকারিককে ঘিরে পড়ে 'অস্বাভাবিক বলপ্রদর্শন' এমনটাই অভিযোগ।

সূত্রের আরও দাবি, আই প্যাকের আধিকারিক প্রতীক জৈনের মোবাইল ফোন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই নিয়ে যান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশও। অভিযোগ, তিনি ইডিকে নির্দেশ দেন যাতে পঞ্চনামায় কোনও উদ্ধার বা নথি অন্তর্ভুক্ত না করা হয়। বরং 'পুঞ্জিভূত তথ্য নথিবদ্ধ করলে গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে হবে' এমন হুমকির কথাও উঠে এসেছে ইডি সূত্রে।
ইডির বক্তব্য, স্বাধীন সাক্ষীদেরও হেনস্থা ও ভয় দেখানো হয়, যাতে তল্লাশি সংক্রান্ত কোনও তথ্য পরে সরকারি রিপোর্টে উঠে না আসে। গোটা অভিযান চাপ, হুমকি ও জবরদস্তির আবহে সম্পন্ন হয় বলে দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার।
এই ঘটনার পরেই গোটা বিষয় রাজনৈতিক মোড় নেয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য ইডির সমগ্র অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, আই.প্যাক থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরিকল্পনা, হার্ড ডিস্ক, কৌশলগত তথ্য ও দলীয় নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছিল, যা অর্থ পাচার মামলার সঙ্গে অসঙ্গত ও অসাংবিধানিক। তাঁর ভাষায়, "আমি তো শুধু আমার দলের কাগজ ফিরিয়ে এনেছি। ওগুলো ইডির মামলার সঙ্গে কোনওভাবেই সম্পর্কিত নয়।"
মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা অভিযোগ, তল্লাশির নামে দলীয় নথি হাতে নেওয়ার চেষ্টা আসলে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' ও 'নির্বাচন ঘিরে নজিরবিহীন দখলদারি'।
রাজ্যের প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সংস্থার টানাপোড়েনে কলকাতার রাজনৈতিক পরিবেশ ফের উত্তপ্ত। পরবর্তী পদক্ষেপ কী, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications