শাসক দলকে 'খুশি' করতে ব্যর্থ, শাস্তির খাঁড়ায় জবাই তিন আমলা
প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে সরকারি ভবনের গায়ে লাগানো রাজনীতিক দলের পোস্টার, ব্যানার খুলতে গিয়েছিলেন হাবরা-২ ব্লকের বিডিও দীনবন্ধু গায়েন। এ নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বচসা বাধে। খবর যায় স্থানীয় বিধায়ক ধীমান রায়ের কাছে। তিনি ফোন করে দীনবন্ধুবাবুকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, দলবল নিয়ে বিডিও অফিসে হামলা চালায় ওই বিধায়ক। বিডিও-কে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়। দীনবন্ধু গায়েন লিখিতভাবে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তৃণমূল কংগ্রেসের ২৪ জন কর্মীকে গ্রেফতারও করে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে লঘু ধারায় মামলা সাজানোয় একদিন পরই জামিন মিলে যায়।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় জেলা প্রশাসনে। উত্তর ২৪ পরগনার ডব্লুবিসিএস অফিসাররা একজোট হয়ে যান। দুই আইএএস অফিসারও দীনবন্ধু গায়েনের পাশে দাঁড়ান। সিভিল সার্ভিস অফিসারদের এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট (বারাসত সদর) এহসান আলি। বিষয়টিকে ভালো চোখে নেয়নি রাজ্য সরকার। কিন্তু ভোটের সময় আদর্শ আচরণবিধি জারি থাকায় তাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব ছিল না।
ভোট মিটতেই আর দেরি করল না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। রাজ্য সচিবালয় নবান্ন থেকে গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার একটি নির্দেশ জারি করে বলা হয়েছে, এহসান আলিকে মুর্শিদাবাদে বদলি করা হল। আর তিনি যাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই দীনবন্ধু গায়েনকে 'কম্পালসারি ওয়েটিং'-এ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে একই ঘটনার জেরে দুই আইএএস অফিসার সৌরভ পাহাড়ি এবং ভি ললিতালক্ষ্মীকে বদলি করেছিল রাজ্য সরকার।
পাশাপাশি, বারাসত-২ নম্বর ব্লকের বিডিও দেবদুলাল পাত্রও ভোটের সময় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে কাজ করতে গিয়ে শাসক দলের রোষের মুখে পড়েছিলেন। তাঁকেও মঙ্গলবার 'কম্পালসারি ওয়েটিং'-এ পাঠানো হয়েছে। 'কম্পালসারি ওয়েটিং'-এর অর্থ হল, রোজ অফিসে গিয়ে হাজির খাতায় স্বাক্ষর করতে হবে। কিন্তু কোনও কাজ করতে পারবেন না।
অথচ যাঁকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নির্বাচন কমিশন সরিয়ে দিয়েছিলে, উত্তর ২৪ পরগনার সেই জেলাশাসক সঞ্জয় বনশন ভোট মিটতেই আবার স্বপদে বহাল হয়েছেন।













Click it and Unblock the Notifications