কোভিডের দ্বিতীয় বছরও সাদামাটাভাবে পালন হবে রাজ্যের দুর্গাপুজো, সিদ্ধান্ত পুজো কমিটির
কোভিডের দ্বিতীয় বছরও সাদামাটাভাবে পালন হবে রাজ্যের দুর্গাপুজো, সিদ্ধান্ত পুজো কমিটির
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আর মাত্র তিনমাস বাকি। পাঁচদিনের উৎসবকে সাজিয়ে তুলতে এখন থেকেই সাজো সাজো রব পড়ে যায়। কিন্তু গত বছর করোনা ভাইরাসের আবহে সেভাবে দুর্গাপুজো উৎসবে পরিণত হতে পারেনি। যদিও পুজো কমিটিগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে কোভিড–১৯ পরিস্থিতির জন্য এ বছরও দুর্গাপুজো সেভাবে উদযাপন করা হবে না। প্রসঙঞগত, গত বছর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে দুর্গাপুজো সেভাবে পালন করা হয়নি। থিমের পুজো হলেও দর্শকদের পুজো মণ্ডপের ভেতর প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা ছিল। যে কারণে বহু জনপ্রিয় পুজোই দর্শকশূণ্য হয়ে ছিল।

সাধারণভাবে উদযাপন হবে দুর্গাপুজো
শহরের ৫০০টি দুর্গা পুজোর কমিটি মিলে এই দুর্গোৎসব ফোরাম রবিবার ফেসবুকের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে এবং এ বছরের উৎসবের জন্য নিয়ম-বিধির তালিকা শীঘ্রই তৈরি করা হবে। রাজ্যের মন্ত্রী ও কলকাতা শহরের বড় পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম চেতলা অগ্রণী পুজোর প্রধান ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'এখন বৃহৎ আকারে দুর্গাপুজো পালন করার সময় নয়।' পরিবহন ও আবাসন মন্ত্রী বলেন, 'আমরা আমাদের মৃৎশিল্পীদের বলেছি যে মূর্তি যেন তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের হয়।'

আলোকসজ্জা থাকবে না একডালিয়ায়
একই সুর শোনা গেল ফিরহাদ হাকিমের ক্যাবিনেট সহকর্মী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের গলাতেও। তিনি যুক্ত রয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার সবচেয়ে আকর্ষণীয় পুজো একডালিয়া এভারগ্রিনের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, তাদের কমিটি চমকপ্রদ আলোকসজ্জার ক্ষেত্রে টাকা খরচ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দক্ষিণ কলকাতার এই পুজোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সুব্রত মুখোপাধ্যায় এও বলেন, 'দুর্গা প্রতিমা বসানো হবে ছোট আকারের প্যাণ্ডেলে, মহামারির আগে তৈরি হওয়া বিশাল প্যাণ্ডেল এ বছরও হবে না।'

মানবিকতা থিম ভবানীপুর ৭৫ পল্লীর
ভবানীপুরের ৭৫ পল্লীর পুজো কমিটির সদস্যরাও জানিয়েছেন যে তাঁরাও নামমাত্র পুজো করবেন। কোনও জাঁক-জমক নয় এ বছরও। পুজো কমিটির সম্পাদক সুবীর দাস বলেন, 'করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ মহামারির সময় বহু মানুষ তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাই এটা সময় নয় আলো ঝলমলে প্যাণ্ডেলের প্রদর্শন বা বিলাসিতা করে উদযাপন করার। আমরা শুধু ভালো সময় আসার অপেক্ষা করতে পারি।' তিনি এর সঙ্গে এও জানিয়েছেন যে এ বছর এই পুজো কমিটির থিম 'মাবিকতা'। তিনি এর সঙ্গে এও বলেন, 'ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে বিধ্বস্ত এলাকায় আমরা ত্রাণ বিতরণ করেছি এবং টিকাকরণ কর্মসূচির আয়োজন করেছি গত কয়েক মাস ধরে। মা দুর্গা এ বছর চান আমরা যাতে মানবজাতির সেবা করি।'

থিমের ভাবনায় এসবি পার্ক পুজো কমিটি
তৃণমূলের রাসবিহারি এলাকার বিধায়ক দেবাশিস কুমার, যিনি জনপ্রিয় ত্রিধারা সম্মিলনীর সঙ্গে যুক্ত তিনি বলেন, 'মা দুর্গাকে উপাসনা করার সব রীতি পালন করা হবে, তবে কোনও উদযাপন হবে না।' ঠাকুরপুকুরের এসবি পার্ক পুজো কমিটি, যারা গত বছর প্রচলিত দুর্গা প্রতিমার বদলে মহামারি আবহে পরিযায়ী মহিলা শ্রমিককে দুর্গারূপে বন্দনা করে বহু মানুষের প্রশংসা পেয়েছিল, তারা জানিয়েছে তারা এমন একটি থিমের প্রত্যাশায় রয়েছে যা সীমিত বাজেটের মধ্যে সৃজনশীলতা ও বর্তমান পরিস্থিতিকে ফুটিয়ে তুলতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications