আলোর উৎসবেও এ গ্রাম অন্ধকার, বাজির শব্দে আজও কেঁপে ওঠে হাটুরিয়াবাসী
হাওড়ার হাটুরিয়ায় আজও সমানে চলছে শোকের পালা। হাওড়ার বাগনানের হাটুরিয়ায় ১৫ বছর আগে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ কেড়ে নিয়েছিল ২৩জন শিশু ও কিশোরের প্রাণ।
হাওড়া, ২৮ অক্টোবর : শব্দবাজি তো দূর অস্ত! রং-বেরঙের আতসবাজির ঝলকানি বা আলোর রোশনাই কিছুই নেই এই গ্রামে। আলোর উৎসব দীপাবলিতে এই গ্রাম ডুবে রয়েছে ঘন কালো অন্ধকারে। আজও বাজির শব্দের আতঙ্কে ডুকরে কেঁদে ওঠেন গ্রামবাসীরা। হাওড়ার হাটুরিয়ায় আজও সমানে চলছে শোকের পালা। হাওড়ার বাগনানের হাটুরিয়ায় ১৫ বছর আগে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ কেড়ে নিয়েছিল ২৩জন শিশু ও কিশোরের প্রাণ। তাদের অসহায় পরিবারের সম্বল শুধু একরাশ হতাশা।
কালীপুজের সময় এলেই আজও হাটুরিয়াবাসীর চোখে ভেসে ওঠে ১৯৯৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের বীভৎস সেই দিনটার কথা। সাতসকালেই ভয়াবহ বাজি বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল এলাকা। আট থেকে পনেরো বয়সি শিশু-কিশোর শ্রমিকদের মৃত্যুমিছিলে উজাড় হয়ে গিয়েছিল গ্রাম। সাবেরা বেগমের চার সন্তান জ্যোৎস্না, শর্মিলা, মুজিবর, বাপি, অঞ্জুরা বেগমের দুই ছেলে মইদুল ও মন্টু, দেলওয়ারের ছেলে পাপ্পু, মেয়ে ডালিয়া, মনসুর আলির ছেলে রাজু, রুহুল ও মালিকপাড়ার সন্ধ্যা, লীলা, শিলা, রূপা, রাজু, ঝুমা, অর্চনা মণ্ডল, সরস্বতী মণ্ডলের জীবন অকালে শেষ হয়ে গিয়েছিল বেআইনি বাজি কারখানার বিস্ফোরণে।

হাত উড়ে যাওয়া হান্নান-সহ অনেকেই পঙ্গু হয়ে অসহায় জীবনযাপন করেছে। আদালতের নির্দেশও কার্যকর হয়নি, সরকারও পাশে দাঁড়ায়নি। মৃতদের পরিবারকে এক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পরে দফায় দফায় কিছু ক্ষতিপূরণ পেয়েই ক্ষান্ত থাকতে হয় তাঁদের। কোনও শাস্তিই পায়নি ওই বেআইনি বাজি কারখানার মালিক।
হতভাগ্য বাবা-মায়েদের সম্বল শুধু আতঙ্কে ভলা স্মৃতি। আজও চলছে শোকের পালা। নিদারুণ স্মৃতি আর শোকেরর আবহ আজ কালীপুজোর রাতকে হাহাকারে পরিণত করে দেয়। আশেপাশের গ্রামে যখন আসতবাজি ও দেওয়ালির আলোর রোশনাই, এই গ্রামে তখন শুধুই অন্ধকার।

কিন্তু সত্যি কী ঘটেছিল সেদিন। বাজি বানাতে গিয়েই কি প্রাণ গিয়েছিল খুদে শ্রমিকদের। নাকি বাজির আড়ালে বানানো হত বিপজ্জনক বোমাও। উপরসা আতসবাজির কারখানা হলেও, ওই কারখানায় শব্দবাজি তো তৈরি হতই, তৈরি হত বোমাও। রাতের অন্ধকারেই তা চালান করা হত। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের সঠিক নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি। ২৩টি তাজা প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়ায় তখন গর্জে উঠেছিল অনেক সংগঠনই।
কিন্তু কালের অমোঘ নিয়মেই সবকিছুই ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে। হাইকোর্টের রায়ও কার্যকর হয়নি। শুধু আলোর উৎসব এলেই শোকের আবহ ফুটে ওঠে। আবার তা ম্লান হয়ে যায়। গ্রামে রয়েছে ২৩ শিশু কিশোরের স্মৃতি-বেদি। সোখানেই তাঁদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় বিশেষ দিনটিতে।
-
আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, আর কত নাম নিষ্পত্তি হওয়া বাকি? -
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী -
ভোটের আগেই কমিশনের কড়া নির্দেশ! অনুমতি ছাড়া জমায়েত নয়, নিয়ম ভাঙলেই গ্রেফতার, রাজ্যজুড়ে জারি কঠোর নির্দেশ -
দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট কতটা মানল পুলিশ? স্টেটাস রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন -
যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বড় রদবদল! মার্কিন সেনা প্রধানকে সরাল ট্রাম্প প্রশাসন, কারণ কী, জল্পনা তুঙ্গে -
আরও একটি মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের, কী বলছে আমেরিকা? -
এপ্রিলে শক্তিশালী ত্রিগ্রহী যোগ, শনি-সূর্য-মঙ্গলের বিরল মিলনে কাদের থাকতে হবে সতর্ক? -
এপ্রিলেই বাড়ছে গরমের দাপট! আগামী সপ্তাহেই ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার আশঙ্কা, কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস -
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব! শিল্পে ধাক্কা, একলাফে বাড়ল ডিজেলের দাম, কত হল? জানুন -
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ভোটের আগে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতাকে ইডির তলব -
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ! MRI Scan-এর খরচ আকাশছোঁয়া হতে পারে, বিপাকে পড়তে পারেন রোগীরা -
অমিত শাহের রাজ্যে থাকার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ মমতার, বললেন, যত বেশি থাকবে, তত ভোট কমবে












Click it and Unblock the Notifications