SSC Case: “আমাদের তো আত্মহত্যা করে নিতে বলতে পারত!”, সুপ্রিম রায় শুনে হাহাকার চাকরিহারাদের
চাল আর কাঁকড় আলাদা করা গেল না! আর তাঁর জন্যে অন্নহারা হয়ে গেল ২৫,৭৫২ জন। ২০১৬ সালের এসএসসি (SSC) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে বাতিল হয়ে গেল ২৫,৭৫২ জনের চাকরি। কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেই এই সিদ্ধান্ত জানাল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
রায়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন চাকরিহারারা। সকাল থেকেই কলকাতার শহিদ মিনারে জমায়েত হয়ে ছিলেন এসএসসি-তে নিযুক্তরা। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায় আসতেই তাঁদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা যায়। কেউ ভেঙে পড়েন কান্নায়, তো কেউ হাহুতাশ করতে থাকেন। আবার কেউ কেউ নিরাশা কণ্ঠে এও বলতে থাকেন আর কিছু করার নেই!

এক চাকরিহারা এদিন বলেন, "আমরা দুর্নীতি করিনি, অথচ আমাদের চাকরি গেল। এসএসসি-র দুর্নীতির মাশুল আমাদের দিতে হল"। কেউ কেউ আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, "সরকার কি তাহলে আমাদের আত্মহত্যা করতে বলছে?"
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দুর্নীতির মাত্রা এতটাই ব্যাপক যে, যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করা সম্ভব নয়। তাই সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। একই সাথে গত ৪ বছরের বেতন ফেরত দিতে হবে চাকরিহারাদের। এদিন এমনই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ। এই মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে ফেব্রুয়ারিতেই শুনানি শেষ করে রায় ঘোষণা স্থগিত রেখেছিল আদালত। আর আজ সেই রায়ই ঘোষণা করল দেশের শীর্ষ আদালত।
এদিনের সুপ্রিম রায়ে আরও কী বলা হয়েছে?
সুপ্রিম কোর্ট এদিন বলেছে, চাকরি হারাচ্ছেন ২৫,৭৫২ জন। শুধুমাত্র ক্যান্সার আক্রান্ত চাকরিপ্রার্থী সোমা দাসের চাকরিই বহাল থাকছে। তাঁর শারীরিক বিষয়টি দেখেই এই মানবিকতা দেখিয়েছেন বিচারপতিরা। একই সাথে ৩ মাসের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তাঁর জন্যে এই ২৬ হাজার চাকরিহারারা অর্থাৎ যোগ্য-অযোগ্যরা যারা পরীক্ষায় বসতে ইচ্ছুক তারা পরীক্ষায় বসতে পারবেন। আর সে ক্ষেত্রে বয়সের কোনও ঊর্ধ্বসীমা থাকছে না। সকলেই পারবেন এই পরীক্ষায় বসতে।
আর এখানেই চাকরিহারাদের একাংশের দাবি, "এটা রাজ্য সরকারের দায়। আমরা প্রতিষ্ঠানিক দুর্নীতির শিকার হয়েছি। আমাদের কলঙ্কিত করা হল!" একই সাথে তারা মনে করছেন, "এখন চাকরিতে বসার প্রস্তুতি নেব নাকি, টাকা ফেরত দেওয়ার টাকা জমাব? আর এবার সংসার চলবে কীভাবে?"
স্বাভাবিক ভাবেই একগাদা হতাশা এই মুহুর্তে ঘিরে ধরেছে চাকরিহারাদের। এদিকে যোগ্য প্রার্থীরাও বলছে, "অযোগ্যদের জন্যে, এই এত বড় দুর্নীতির জন্যে আমরাও সর্বস্ব হারালাম"। স্বাভাবিক ভাবেই এসএসসি-র পুরো প্যানেল বাতিল হতেই হতাশার পাহাড় নেমে এসেছে চাকরিহারা ও চাকরিপ্রার্থীদের জীবনে। সকলেই জানতে চাইছে এই পরিস্থিতির জন্যে আসলে দায় কার?












Click it and Unblock the Notifications