অদক্ষ কর্মীর জন্যই কি আমরি মুকুন্দপুরে ঐত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি, উঠছে প্রশ্ন
চিকিৎসা করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হল ঐত্রী দের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুর হৃদযন্ত্রে ত্রুটির অভিযোগ করলেও অদক্ষ কর্মীর জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে বিপদ বাড়ছে কিনা তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
চিকিৎসা করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হল ঐত্রী দের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুর হৃদযন্ত্রে ত্রুটির অভিযোগ করলেও অদক্ষ কর্মীর জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে বিপদ বাড়ছে কিনা তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

বুধবার শহরের তিনটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে তুলকালাম হয় তিনজনের মৃত্যু নিয়ে। এর মধ্যে আমরি মুকুন্দপুর এবং উডসল্যান্ডে রোগীরা ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়। দুটি মৃত্যুর ক্ষেত্রেই চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। যে রকমটি হয়েছিল এর আগেও।
সরকারি হাসপাতালগুলি রোগীর চাপ সামলাতে না পারায় এবং তাদের পরিষেবায় সন্তুষ্ট না হয়ে অনেকেই বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়াকেই পছন্দ করেন। কিন্তু সেখানেও কি পরিষেবার মান সরকারি হাসপাতালের থেকে এগিয়ে। সেখানকার কর্মীরা কি দক্ষ। চিকিৎসায় গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বেসরকারি হাসপাতালগুলির কর্মীদের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, আদৌ কতটা দক্ষ তাঁরা। সেক্ষেত্রে হাসপাতালগুলির বায়ো সেফটি ম্যানেজমেন্ট নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। অভিযোগ, হাসপাতালগুলিতে বায়ো সেফটি ম্যানেজমেন্টের বালাই নেই। ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই এই বায়ো সেফটি ম্যানেজমেন্টের অভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মুকুন্দপুর আমরিতে ভর্তি থাকা ঐত্রী দের মায়ের অভিযোগ ঘুমন্ত অবস্থায় অগমেন্টিন ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। এরপরেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে সে। কখন, কী ভাবে ইনজেকশন দিতে হয়, তা কি ওইসব কর্মীরা জানতেন না, উঠছে প্রশ্ন।
কলকাতা শহরের বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতালেই রয়েছে নার্সিং ট্রেনিং কলেজ। অভিযোগ, প্রশিক্ষিত কর্মীদের বদলে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের দিয়েই এইসব হাসপাতালে কাজ চালানো হয়। অর্থাৎ প্রতিক্ষিত কর্মীর বদলে ইনটার্ন দিয়েই কাজ চালানো হয়। যে সব ইনটার্ন কাজ করছে, তাঁরা জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় অজ্ঞ।

গত বছর খানেকের মধ্যে অপর একটি অভিযোগও উঠেছে, এই আমরি মুকুন্দপুরের বিরুদ্ধে। ব্যবহৃত সিরিঞ্জ আবারও ব্যবহারের অভিযোগ। জানা গিয়েছে, কোনও এক পদস্থ ব্যক্তি এই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। যিনি বায়ো সেফটি ম্যানেজমেন্টে দক্ষ। তাঁকে একটি ইনজেকশন দিতে যান এইরকমই এক ইনটার্ন। তিনি তখন, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ পুনরায় ব্যবহারের বিষয়টি ধরে ফেলেন। সেসময়ে সেক্ষেত্রেও কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। খারাপ ব্যবহারে অভিযুক্ত জয়ন্তী চট্টোপাধ্যায় বিষয়টির মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

বুধবার মুকুন্দপুর আমরিতে যখন চিকিৎসায় গাফিলতিতে শিশু মৃত্যু নিয়ে তুলকালাম, তখন চতুর্থ বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের দ্বিতীয় তথা শেষ দিনেও উঠে আসে কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে বায়ো সেফটি ম্যানেজমেন্টের বিষয়টিও। হেলথ ডেভেলপমেন্ট এবং স্কিল এডুকেশন ফোরামে বায়ো সেফটি অ্যান্ড ব্লাড সেফটি নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তাঁরা।












Click it and Unblock the Notifications