রোম খাড়া করে দেওয়া এক ভিডিও বয়ান, নন্দীগ্রামের এই কাহিনি আতঙ্কিত হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট
অবশেষে বাড়ি ফিরল খেজুরি হিংসায় গণপিটুনির শিকার হওয়া নন্দীগ্রামের দুই ব্যক্তি। ভিডিও বয়ানে তাঁরা যা বলল তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়তেই পারেন সাধারণ মানুষ।
এখনও চোখে মুখে আতঙ্ক। কী ভাবে যে বেঁচে ফিরলেন তা এখনও অলৌকিক বলেই মনে হচ্ছে তাঁদের। এঁরা আর কেউ নন খেজুরিতে অ্যাট দ্য গান পয়েন্টে থাকা দুই ব্যক্তি পরশুরাম মান্না এবং তাঁর বন্ধু নির্মল শীট। এই দু'জনকে গরুর মতো গাছের গুঁড়িতে বেঁধে মারধরের ঘটনার ভিডিও দিন দুই ধরে ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। খেজুরিতে হওয়া এই ঘটনায় নিন্দায় এখন গোটা দেশ। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর উঠতে শুরু করেছে নানা প্রশ্ন।

আপাতত ঘরে ফিরেছেন পরশুরাম ও নির্মল। আর ঘরে ফিরেই জানিয়েছেন এক আতঙ্কের কাহিনি। যা শুনে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন যে কোনও মানুষ। রাজনীতির প্রতিহিংসার কথা নাকি এতদিন শুনে এসেছিলেন এবার যেন চাক্ষুষ করলেন পরশুরাম ও নির্মল। মঙ্গলবার কি হয়েছিল খেজুরিতে? নিজেদের মুখে সেই কাহিনি বিবৃত করেছেন দু'জনে।
ইট কিনবেন বলে খেজুরির এক ব্যবসায়ীকে বহুদিন ধরে ৯ হাজার টাকা দিয়ে রেখেছিলেন বলে দাবি করেছেন পরশুরাম। কিন্তু, সেই ইট পাচ্ছিলেন না বলে তাঁর অভিযোগ। এরমধ্যে ওই ইট বিক্রেতা নাকি ফোন করে পরশুরামকে বলেন খেজুরিতে এসে স্থানীয় তৃণমূল নেতা নৌশাদ আলির সঙ্গে কথা বলতে। নৌশাদের সঙ্গে কথা বলার পরই নাকি সে ইট দিতে পারবে বলে নাকি পরশুরামকে জানানো হয়।
এরপরই মঙ্গলবার সকালে খেজুরি পৌঁছন পরশুরাম। সেখানে তৃণমূল পার্টি অফিসে তিনি নৌশাদের সঙ্গে দেখা করতে যান। পরশুরামের সঙ্গে সেদিন খেজুরি গিয়েছিলে নন্দীগ্রামের সুব্দি গ্রামের আরও এক যুবক নির্মল শীটও। খেজুরির এক রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্কে নির্মলের কিছু কাজ ছিল।
পরশুরামের অভিযোগ, খেজুরিতে তৃণমূল পার্টি অফিসে ঢুকতেই তাঁর উপরে চড়াও হয় নৌশাদ আলি এবং তাঁর দলবল। কেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী সুব্দি-র বুথ তৃণমূল সভাপতি অসিতকুমার হাজরার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন সেই নিয়ে চলতে থাকে শাসানি এবং হুমকি। পরশুরামের আরও অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে দেখা করতে কেন আক্রান্ত আমরা-র প্রতিনিধিরা এসেছিল তা নিয়েও চলতে থাকে মারধর। ইতিমধ্যে পার্টি অফিসে পৌঁছন নির্মল শীট। তিনি বিজেপি করেন জানতে পেরেও তাঁর উপরেও নাকি শুরু হয়ে যায় অকথ্য অত্যাচার। নৌশাদ আলির নির্দেশে পার্টি অফিসের আলমারি থেকে এক ওয়ান শাটার বের করে জোর করে তাঁর প্যান্টের পকেটেও পুড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন পরশুরাম।
সুব্দি গ্রামের বাসিন্দা পরশুরাম ও নির্মল-এর অভিযোগ, এরপরই তাঁদের দু'জনকে বাইরে বের করে গাছের গুঁড়ির সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয়। এবং জোর করে নাকি হাতের মধ্যে গুঁজে দেওয়া হয় ওয়ান শাটার পিস্তলটি। পরশুরাম সংবাদমাধ্যমের এক চিত্রগ্রাহকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছেন। পরশুরাম ও নির্মলের অভিযোগ, নৌশাদ আলি ওই চিত্রগ্রাহককে ভিডিওগ্রাফি কিছুক্ষণের জন্য থামাতে বলেন। এই সুযোগে পরশুরামের পকেটে নাকি কার্তুজও পুড়ে দেন নৌশাদ।
মঙ্গলবার রাতভর খেজুরি থানার লকআপে আটকে রাখা হয়েছিল পরশুরাম ও নির্মলকে। বারবার ভয় দেখানো হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের। কিন্তু, বুধবার সকালে রহস্যময়ভাবে পরশুরাম ও নির্মলকে খেজুরি থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপরই সুব্দিগ্রামের বাড়ি ফিরে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান পরশুরাম ও নির্মল।
দেখুন পরশুরাম ও নির্মলের সেই ভিডিও বয়ান, যেখানে পরশুরাম-এর স্ত্রীও তাঁর আশঙ্কার কথা গোপন করেননি। উল্লেখ্য, পরশুরামের স্ত্রী সম্প্রতি স্থানীয় তৃণমূল নেতা অসিত কুমার হাজরার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন, যার জন্য অসিত এখন পুলিশি হেফাজতে। ----












Click it and Unblock the Notifications