‘আমি তোমাদেরই লোক...’, পা ছোঁয়ার আকুতিতে রাঙামাটির দেশে ‘শেষ পরিচয়’ মমতার

মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেও আজও তাঁর পা মাটিতেই রয়েছে, বোঝালেন মমতা। তাই তো বীরভূমের লালমাটিতে মমতার কনভয় থামতেই হুড়মুড়িয়ে ছুটে এলেন আবালবৃদ্ধবণিতা।

'মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক...। বীরভূমের মাটিতে পা রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পরিচয় রেখে গেলেন তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেও আজও তাঁর পা মাটিতেই রয়েছে, বোঝালেন মমতা। তাই তো বীরভূমের লালমাটিতে মমতার কনভয় থামতেই হুড়মুড়িয়ে ছুটে এলেন আবালবৃদ্ধবণিতা। একটাই আকুতি- 'একবার পা ছুঁতে চাই, দিদি।'

 ‘আমি তোমাদেরই লোক...’, পা ছোঁয়ার আকুতিতে রাঙামাটির দেশে ‘শেষ পরিচয়’ মমতার

-'আরে করছেন কী!' অশীতিপর এক বৃদ্ধের হাত সরিয়ে বললেন মমতা। তখনই তিনি বলে উঠলেন- 'একবার পা ছুঁতে চাই, দিদি।' মমতা হাত ধরে বললেন, 'ঠিক আছে। ভালো থাকবেন। শরীর ভালো রাখবেন।' তবু তিনি নাছোড়বান্দা, একবার পা ছুঁতে দিতেই হবে। এই দৃশ্যই বুঝিয়ে দিল- এখনও মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। বিগত দুদিনের বীরভূম সফর ফের মনে করিয়ে দিল বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

সেদিন যেমন মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় ছুটে যেতেন সাধারণের গরিবখানায়। আজও তেমনই। হতে পারে তিনি মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। কিন্তু তিনি তো আদতে মমতাই। সকলের কাছের দিদি। সেই দিদি আবারও বুঝিয়ে দিলেন, 'আজও আমি তোমাদেরই লোক। এটাই আমার শেষ পরিচয়।' তিনি তো এই নামেই খ্যাতিমান হতে চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন মানুষের মনে জায়গা করে নিতে। বুধবার বীরভূমের এই ছবি দেখার পর স্পষ্ট- তাঁর নাম এই বলেই খ্যাত হয়েছে- তিনি আমাদেরই লোক।

আমোদপুরের সভা থেকে বেরিয়ে বোলপুরের দিকে ছুটছিল তাঁর কনভয়। হঠাৎ রাস্তার ধারে থরে থরে মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, থেমে গেল তাঁর কনভয়। গাড়ি থেকে নেমে স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। তাঁরা সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা ঠিকঠাক পাচ্ছেন কি না, কোনও অসুবি্ধা রয়েছে কি না, জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী, তাঁদের কুশল কামনা করেন।
তখনই মুখ্যমন্ত্রী ঘিরে উন্মাদনার ছবি ফুটে ওঠে। এক বৃদ্ধ মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে পা ছোঁয়ার মিনতি করেন। মুখ্যমন্ত্রী চাননি বয়ঃজ্যেষ্ঠ মানুষটা তাঁরা পায়ে হাত দিন। তাই হাত সরিয়ে দিয়েছিলেন। তখনই হাতে ধরে তিনি মিনতি করেন- একটিবার পা ছোঁয়ার অনুমতি দিতেই। তারপর একে একে অনেকেই মুখ্যমন্ত্রীর পা ছুঁয়ের প্রণাম করেন। মানুষের এই শ্রদ্ধা-ভালোবাসা দেখে আপ্লুত মমতা।

এর আগে কোনএ মুখ্যমন্ত্রীকে দেখা যায়নি সাধারণ মানুষের মধ্যে এভাবে মিশে যেতে। এভাবে কেউই মানুষের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিতে পারেননি। ব্যতিক্রম একমাত্র মমতা। তাঁর ক্ষেত্রে এই ছবির দেখা মিলেছে এর আগে অনেকবার। তবু এদিন বীরভূমের আমোদপুর যে ছবি দেখাল, তা দেখে মুখ্যমন্ত্রী স্বস্তি পাবেনই। বিরোধীদের এত অপপ্রচার-কুৎসা সত্ত্বেও মানুষকে তাঁকে আজও এত ভালোবাসেন, তা জেনেই তৃপ্ত মমতা।

শুধু এদিনই নয়, মঙ্গলবারও বর্ধমান থেকে বোলপুর আসার পথে আদিবাসী পরিবার রবি হাঁসদা ও বাহামণি মুর্মুর বাড়িতে হঠাৎ ঢুকে পড়েন মমতা। তখন তাঁরা ঘরের চাল মেরামতে ব্যস্ত। বাড়ির দরজায় 'হেভিওয়েট' অতিথিকে দেখে তাঁরা তো হতচকিত। কী করবেন, কোথায় বসতে দেবেন বুঝতে পারেছেন তাঁরা।

মমতা বললেন, 'ঠিক আছে অত ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই। তোমরা কাজ কর। নিজেরাই কাজ করছ? জিজ্ঞাসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর একের পর এক প্রশ্ন- খড়ের চালা কীভা্বে মেরামত হবে, কখন খড় বদল করা হবে- সব খবর নেন মমতা। তারা সমস্ত পরিষেবা পাচ্ছেন কি না তাও জানতে চান। তারপর সবাইকে ভালো থাকবেন বলে মমতা রওনা দেন বোলপুরের উদ্দেশ্যে। এদিন ফের সেই একই ধরনের সাক্ষী থাকল আমোদপুর।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+