তৃণমূলের বিপুল জয়েও ‘কাঁটা’! চার পুরনিগমের ভোট দেখাল অবাধ আর ছাপ্পার ফারাক

তৃণমূলের বিপুল জয়েও ‘কাঁটা’! চার পুরনিগমের ভোট দেখাল অবাধ আর ছাপ্পার ফারাক

চার পুরসভাতেই বিপুল জয় পেয়েছে তৃণমূল। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই জয়ের তৃণমূলের দুটি দিক উঠে এসেছে। একদিনে স্বচ্ছ-অবাধ ভোটের জয়, অন্যদিকে সন্ত্রাস-ভোট লুঠের জয়। তবে ফারাক কিন্তু খুব বেশি নেই। বিরোধীদের তাই ভাবতে হবে আগামী দিনের নির্বাচন নিয়ে। তা না হলে তৃণমূলের বিজয়রথ এগিয়েই যাবে তরতরিয়ে।

চার পুর নিগমের ভোটে ফারাক

চার পুর নিগমের ভোটে ফারাক

এবার চার পুরনিগমের ভোটের দিনেই অভিযোগ উঠেছিল বিধাননগর ও আসানসোলের ভোট হয়নি, ভোট লুঠ হয়ছে। ভোটের নামে প্রহসনের সেই ছবি তুলে নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছিল বিজেপি। তারা এই দাবিতে হাইকোর্টেও গিয়েছে। আবার পক্ষান্তরে শিলিগুড়ি ও চন্দননগরের ভোট নিয়ে তেমন কোনও অভিযোগ তোলেনি বিরোধীরা।

বিধাননগর-আসানসোলের ক্ষেত্রে

বিধাননগর-আসানসোলের ক্ষেত্রে

বিজেপিও অভিযোগ তোলেনি ওই দুই পুরসভার ভোট নিয়ে, সিপিএমও নয়। উল্টে সিপিএম তথা বামফ্রন্টের পক্ষে জানানো হয়েছিল, শিলিগুড়ির ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ভোটের ফলাফলেও খানিকটা হলেও তার প্রকাশ ঘটেছে। বিধাননগরে যেখানে ভোট লুঠ হয়েছে অভিযোগ করছেন বিরোধীরা, দেখা যাচ্ছে সেখানে তৃণমূল ভোট পেয়েছে ৭৩.৯৫ শতাংশ বা ৭৪ শতাংশ। আবার আসানসোলে তৃণমূল পেয়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট। এই বিপুল ভোট প্রাপ্তির মূলে রয়েছে ভোট লুঠ, এমনটাই মনে করেছেন বিরোধীরা। বিধাননগরে আবার অন্তত ১৭টি ওয়ার্ডে তৃণমূল ভোট পেয়েছে ৮০ থেকে ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত।

চন্দননগর ও শিলিগুড়ির ক্ষেত্রে

চন্দননগর ও শিলিগুড়ির ক্ষেত্রে

আবার যে দুটি পুরসভায় ভোটলুঠ হয়নি বলে জানিয়েছেন খোদ বিরোধীরাই, সেই চন্দননগর ও শিলিগুড়ি পুরসভায় তৃণমূলের ভোটপ্রাপ্তি কিন্তু নেহাত কম নয়। চন্দনগরে তৃণমূল ভোট পেয়েছে ৫৮.৪২ শতাংশ। শিলিগুড়িতে তৃণমূল ভোট পেয়েছে ৪৭.২৪ শতাংশ। এটা যদি স্বাভাবিক হয়, বিজেপি বা বিরোধীরা কিন্তু সে অর্থে ভালো জায়গায় নেই। তৃণমূলের থেকে অনেক দূরে রয়েছে বিরোধীরা।

চন্দননগরে শাসক-বিরোধীর ফারাক

চন্দননগরে শাসক-বিরোধীর ফারাক

একুশের নির্বাচনের পর থেকেই বাংলায় যে ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তারই প্রতিচ্ছবি দেখা গিয়েছে এবার। তৃণমূল শক্তিশালী হয়েই চলেছে। কিন্তু তলে তলে বিজেপি কমছে আর বামেরা বেড়ে চলেছে। চন্দননগরে বিজেপিকে টপকে বামেরা উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। বামেরা পেয়েছে ২৭.৩৬ শতাংশ ভোট, বিজেপি পেয়েছে ৯.৮ শতাংশের সামান্য বেশি ভোট এবং কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট শতাংশ ১.৫ শতাংশ। এই যদি বিরোধীদের চিত্র হয় সেখানে তৃণমূলের ভোট প্রাপ্তি ৬০ শতাংশ। বিরোধীরা সবাই মিলে ৪০ শতাংশ। বিরোধীদের এই বিভাজন বরং তৃণমূলকে স্বস্তিই দেবে।

শিলিগুড়িতে শাসক-বিরোধী ফারাক

শিলিগুড়িতে শাসক-বিরোধী ফারাক

আবার শিলিগুড়ি পুরসভায় বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও সেখানেও ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস নিচ্ছে বামেরা। বামেরা এখানে পেয়েছে ১৮.২৮ শতাংশ ভোট, বিজেপি পেয়েছে ২৩.২৪ শতাংশ ভোট এবং কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট ৪.৬৪ শতাংশ। সেখানে তৃণমূল পেয়েছে ৪৮.১৪ শতাংশ ভোট। অন্যান্যরা পেয়েছে ৬ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ এখানেও তৃণমূল প্রায় ৫০ শতাংশ, বাকিরা সবাই মিলে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

অবাধ ভোট আর ভোট লুঠে ব্যবধান

অবাধ ভোট আর ভোট লুঠে ব্যবধান

তাহলে অবাধ ভোট আর ভোট লুঠের মধ্যে ব্যবধান বড়জোর ৫ বা ১০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছে, এই ভোট লুঠ বা অশান্তির ছবি যদি ফুটে না উঠত, তৃণমূলের জয় আরও সুমধুর হত। কিন্তু প্রতি ভোটেই দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট লুঠ, অশান্তির অভিযোগ। ভুয়ো ভোটারের তত্ত্বও এখন বেশ উঠছে প্রতি নির্বাচনে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+