রুটিরুজির সংশয় নিয়েই কাশ্মীর থেকে ফেরত এসেছে বাঙালি শ্রমিকের দল
রুটিরুজির সংশয় নিয়েই কাশ্মীর থেকে ফেরত এসেছে বাঙালি শ্রমিকের দল
২৯ শে অক্টোবর কাশ্মীরের কুলগামে পাঁচ বাঙালি শ্রমিককে হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে উপত্যকায় কর্মরত সমস্ত বাঙালী শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের রাজ্যে ফেরানোর সিদ্ধান্তের কথা আগেই জানিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার সোমবার রাতেই রাজ্যে ফিরলেন প্রায় ১৩০ জনের বেশি বাঙালী শ্রমিক। তাদের নিরাপত্তার জন্য দুজন সরকারি আধিকারিক এবং একটি ছোট পুলিশের দলও মোতায়েন করা হয় রাজ্য প্রশাসনের তরফে।

অন্যদিকে ঘরে ফিরতে পারলেও আগামীতে তাদের বিকল্প উপার্জনের পথ কী হবে তা নিয়ে ওই শ্রমিকদের প্রায় সকলেই ধন্দে পড়েছেন। মৃত্যুভয় কাটলেও ভবিষ্যতের অন্নসংস্থান কী করে হবে তা নিয়ে উত্কন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন প্রায় সকলেই। বর্তমানে তাই তাদের মধ্যে অনেককেই বলতে শোনা যাচ্ছে, ’ফিরে তো এলাম, কিন্তু এবার দিন চলবে কেমন করে?’
সূত্রের খবর, মোট ১৩৮ জন বাঙালী শ্রমিকের মধ্যে ৫ জন আসামের। বাকি ১৩৩ জনের মধ্যে ১১২ জনই দক্ষিণ দিনাজপুরের অধিবাসী। বীরভূম থেকে রয়েছেন ৮জন ও উত্তর দিনাজপুর থেকে রয়েছেন ৬ জন শ্রমিক। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগণা, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার থেকেও রয়েছেন দুজন করে, এবং মালদা থেকে একজন। তাদের বেশিরভাগই শ্রীনগর এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আপেল প্যাকিংয়ের জন্য কাঠের বাক্স তৈরি কাজ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
কাশ্মীরে কর্মরত ওই শ্রমিকদের অনেকেই জানান হঠাৎ কাজ ছেড়ে দেওয়ায় বাকি থাকা বেতন দিতে অস্বীকার করে তাদের সংস্থার কর্তারা। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মালদার কালিয়াচকের বাসিন্দা ৫৯ বছরে লুৎফুর শেখ বলেন, 'আমি একজন ভূমিহীন শ্রমিক। তাই এই বয়সেও অর্থ উপার্জনের জন্য আমাকে কায়িক শ্রম করতে হয়। রুটি রুজির খোঁজেই কাশ্মীরে পাড়ি দিয়েছিলাম। একন সেই কাজটাও চলে গেল। আমার যা কিছু উপার্জিত টাকা ছিল তাও শেষ। এখন যদি সরকার আমাদের জন্য বিকল্প কিছু পন্থা ভাবে তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকবো।’












Click it and Unblock the Notifications