পার্থ থেকে কেষ্ট- বাংলার শাসকদলের হেভিওয়েট নেতারা গিয়েছেন জেলে, ২০২২ শেষে ফিরে দেখা
পার্থ থেকে কেষ্ট- বাংলার শাসকদলের হেভিওয়েট নেতারা গিয়েছেন জেলে, ২০২২ শেষে ফিরে দেখা
২০২১-এ বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয় ছিনিয়ে নিয়ে বাংলা ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। তখন বোঝা যায়নি যে এক বছরের মধ্যে বাংলার শাসকদল এমন একটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যাবে। ২০২২ সালে শাসক দল তৃণমূলের বাঘা বাঘা নেতাদের ঠাঁই হবে গরাদের ভিতরে। সেটাই হয়েছে. তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বীরভূমের বাঘ অনুব্রত মণ্ডলকে যেতে হয়েছে জেলে।
বছর ভর সংবাদ শিরোনামে থেকেছে দুর্নীতি। যে দুর্নীতি শাসকদলের অন্দরে ঢুকে গিয়েছে। বিশেষ করে এবার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মুখে প্রবল চাপে তৃণমূল। তারপর গরু পাচার মামলা, কয়লা কেলেঙ্কারি- এমন নানা সমস্যা রয়েছে। বর্তমানে সারদা ও নারদ দুর্নীতি মামলা ধামাচাপা পড়লেও, নিয়োগ দুর্নীতি ও গরু পাচার মামলা নিয়ে সিবিআই-ইডির স্ক্যানারে রয়েছে শসাক তৃণমূল।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়
শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলে যেতে হয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। পার্থ চট্টোপাধ্যায় শুধু প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন না। তিনি ছিলেন পরিবর্তনের পর বাংলার মন্ত্রিসভায় নম্বর টু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরেই যাঁর স্থান। আবার তিনি তৃণমূলের মহাসচিবও। দলগত পদেও তিনি নম্বর টু। এহেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঠাঁই হয়েছে জেলে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হন ২৩ জুলাই। দীর্ঘ ২৭ ঘণ্টা জেরা করার পর ইডি গ্রেফতার করে তাঁকে। নাকতলার বাড়িতে থেকে গ্রেফতারের পর তাঁকে তৃণমূলের মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সরিয়ে দেওয়া হয় মন্ত্রিসভা থেকেও।

অনুব্রত মণ্ডল
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পর তৃণমূলের য়ে হেভিওয়েট নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তিনি হলেন অনুব্রত মণ্ডল। বীরভূমের বেতাজ বাদশা। কোনও মন্ত্রী-বিধাযক বা সাংসদ ছিলেন না, জেলা সভাপতি হিসেবেই তাঁর দাপট ছিল জেলায়। এহেন বীরভূমের বাঘকে খাঁচাবন্দি হতে হয়েছে। গরু পাচার মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে বিরাট দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। তার উপর নির্বাচনী হিংসার অভিযোগও এসেছে। গত ১১ অগাস্ট্ বোলপুরের নীচুপট্টিতে অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই। ১০-১২টি কনভয় নিয়ে পৌঁছয় সিবিআই। বীরভূমের জেলা সভাপতির বাড়ি ঘিরে কেন্দ্রীয় বাহিনী গ্রেফতার করে অনুব্রত মণ্ডলকে। তার আগে তাঁকে একাধিকবার তলব করা হয়। কয়েকবার হাজিরা দিলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি গরহাজির ছিলেন।

মানিক ভট্টাচার্য
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কও। নদিয়ার পলাশিপাড়ার বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করা হয় নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে। প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতিতে তাঁর নাম জড়ায়। তাঁকে একাধিকবার দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়। সিবিআই তাঁকে গ্রেফতার করে ১১ অক্টোবর। রাতভর জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তৃণমূল জমানার শুরু থেকেই তিনি পর্ষদের মাথায় ছিলেন। তাঁকে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির কিং-পিন বলে অভিহিত করেছেন সিবিআই আধিকারিকরা। ২০১১ সালেও তিনি তৃণমূল প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু হেরে গিয়েছিলেন। ২০১৬-য় তাঁর নাম ছিল না প্রার্থী তালিকায়। ২০২১-এ তিনি পলাশিপাড়া থেকে জয়ী হন।

হালিশহর পুরসভার চেয়ারম্যান গ্রেফতার
শুধু নিয়োগ দুর্নীতি বা গরু পাচার মামলা নয়. চিটফান্ড কাণ্ডেও সিবিআই ও ইডি তৎপর রয়েছে। যদিও সারদা ও রোজভ্যালি ও নারদের মতো অভিযোগগুলি এখন চাপা রয়েছে। এরই মধ্যে চিটফান্ড-কাণ্ডে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন হালিশহর পুরসভার চেয়ারম্যান রাজু সাহানি। চিটফান্ড মামলায় ২ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় নগদ টাকা। সন্মার্গ কো-অপারেটিভ চিটফান্ড সংস্থার দুর্নীতি মামলায় রাজু অভিযুক্ত ছিলেন।

গ্রেফতার আরও অনেক সহযোগী
এছাড়া পর্ষদের সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ, এসএসসির চেয়ারম্যান উপদেষ্টারাও গ্রেফতার হয়েছেন। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে তৃণমূল সরকার নিযুক্ত শিক্ষা আধিকারিকরা গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতার হয়েছেন এসএসসির প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহা ও অশোক সাহা। ১০ অগাস্ট গ্রেফতার করা হয় তাঁদের। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় গ্রেফতার হন ১৫ সেপ্টেম্বর। এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান উপাচার্য সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করা হয় ১৯ সেপ্টেম্বর।












Click it and Unblock the Notifications