চাকরিহারাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে মরিয়া প্রাক্তন বিচারপতি, একাংশকে নিয়ে গেলেন এসএসসি দপ্তরে
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এবার চাকরিহারা প্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হলেন বিজেপি সাংসদ ও প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, "রাজনৈতিক কারণে যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করছে না এসএসসি। চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারের হাত-পা বেঁধে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়"।
চাকরিহারা প্রার্থীদের কিছুজন আজ বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়-এর বাড়িতে যান তাঁর সাথে দেখা করতে। কেননা ২০১৬-র প্যানেল বাতিলের পরও অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন যে যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব। কোন পথে সম্ভব তাই জানতে চান চাকরিহারারা।

সেই প্রসঙ্গে প্রাক্তন বিচারপতি বলেন, "যোগ্যদের চাকরি ফিরে পাওয়া উচিত। আর সেই দায় বর্তায় মুখ্যমন্ত্রীর ওপর। ওএমআর শিট নাকি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে - এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। যদি তা-ই হয়, তবে প্রমাণ কীভাবে হবে কে যোগ্য, কে অযোগ্য?"
তিনি দাবি করেন, এসএসসির কাছে তথ্য রয়েছে এবং চাইলে কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে ওএমআর শিটের মিল খুঁজে যোগ্য-অযোগ্য আলাদা করা সম্ভব। সিবিআই যে মাদার ডিস্ক হরিয়ানার মিস্টার এক্সের কাছ থেকে উদ্ধার করেছে, সেটি ওএমআর ডেটার সঠিক উৎস। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই যোগ্য-অযোগ্য তালিকা তৈরি করা সম্ভব। এরপর সেই তালিকা নিয়েই সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ অ্যাপ্লিকেশন দাখিল করা যেতে পারে"।
সাংসদ আরও জানান, "আমরা এসএসসিকে সমস্ত দাবি জানিয়েছি। পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে এসেছি, বুধবার আবার এসএসসি দফতরে যাব। আমাদের একটাই দাবি, ওএমআরের মিরর ইমেজ প্রকাশ্যে আনা হোক এবং যারা তা বাধা দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক"।
বিজেপি সাংসদ এদিন এও অভিযোগ করেন, "সিদ্ধার্থ মজুমদারের মতো একজন দায়িত্বশীল অফিসারকে রাজনৈতিক চাপ দিয়ে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। সরকার চাইলে আজই যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে তা করা হচ্ছে না"।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে যদিও এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে বুধবার এসএসসি দফতরের পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে প্রশাসনেরও।












Click it and Unblock the Notifications