সমাজের উদার মনোভাবের অভাব, বয়স্ক যৌনকর্মীদের পুনর্বাসন পরিকল্পনা রয়েছে থমকে

ব্যতিক্রম নয় কলকাতাবাসীও। বৃদ্ধ যৌনকর্মীদের পুনর্বাসনের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনব উদ্যোগেও বাধ সেধেছে তারা। দক্ষিণ কলকাতার যে বাড়িতে পুনর্বাসেনর ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানকার বাসিন্দারা বাগরা দিচ্ছেন একাজে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাব ছিল যৌনকর্মী যারা বৃদ্ধ হয়েছেন, বয়সের ভারে কাজের সামর্থ হারিয়েছেন, সহায়সম্বলহীন সেই সমস্ত 'মানুষের' পাশে দাঁড়াতে চেয়েছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের পুনর্বাসনের জন্য দক্ষিণ কলকাতার বাড়িটি নির্দিষ্ট করাও হয়েছে।
কিন্তু মধ্যবিত্ত তথাকথিত ভদ্র এলাকায় এই মানুষগুলিকে পুনর্বাসন দেওয়া উচিত হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন এলাকাবাসী। রীতিমতো প্রতিবাদপত্রও জমা পড়েছে। বাসিন্দাদের মতে সহায়সম্বলহীন হলেও আদতে তো যৌনকর্মীই। তাই 'ওরা' থাকলে পাড়ার পরিবেশ নষ্ট হবে। 'অবাঞ্ছিত' লোকজনের আনাগোনা বাড়বে পাড়ায়। অতএব প্রতিবাদ।
স্থানীয় মানুষের প্রতিবাদকে উপেক্ষা করে সরকারের পক্ষে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। তাই আপাতত থমকে এই প্রকল্প। তবে শুধু প্রতিবাদের কারণে যদি বৃদ্ধ ওই মহিলাদের পুনর্বাসন দেওয়ার ভাবনা থেকে সরে আসে সরকার তা নিয়ে উঠবে আরও এক প্রস্থ প্রতিবাদ। কিন্তু সুরাহা মিলবে কী? তাই এই মুহূর্তে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে যথার্থ যুক্তিবিচারেই তাদের বোঝানো শ্রেয় হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও মনে করেন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসে। এক্ষেত্রেও তাই হবে নাকি সমাজের উদার মনোভাবের অভাবে 'ভদ্রপল্লি'-র বাইরেই আরও একপ্রস্থ লাঞ্ছনা ও অবহেলাকে সম্বল করেই কোনওমতে দিন গুজরান করতে হবে এককালের এই যৌনকর্মীদের।












Click it and Unblock the Notifications