কোনওভাবেই মণিপুরের সঙ্গে তুলনা নয়! সন্দেশখালি নিয়ে শুনানিতে আর যা বলল সুপ্রিম কোর্ট
অভিযোগ ছিল জেলা পরিষদের তৃণমূলের দুই প্রভাবশালী সদস্য উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরা সন্দেশখালির মহিলাদের ওপরে অত্যাচার করেছেন। সেই অভিযোগে প্রথমে উত্তর সর্দার এবং পরে শিবু হাজরাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর মধ্যে সন্দেশখালি কাণ্ডের সিবিআই তদন্তের আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এদিন ছিল তার শুনানি। অন্যদিকে এদিন কলকাতা হাইকোর্ট সন্দেশখালিতে ১৪৪ ধারা জারির ওপরে সাতদিনের জন্য অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে সন্দেশখালি মামলার শুনানি হয় বিচারপতি বিভি নাগারথনা এবং অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চে। সেখানে বিচারপতিরা সন্দেশখালিতে সিবিআই তদন্তের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। পাশাপাশি তাঁরা আবেদনকারীকে আবেদনটি প্রত্যাহার করার অনুরোধ করেন।

বিচারপতিদ্বয় এদিন মণিপুরের পরিস্থিতির সঙ্গে সন্দেশখালির পরিস্থিতি তুলনা করার বিষয়ে আপত্তি করেন। তাঁরা বলেন, ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। পরিস্থিতির মূল্যায়ন করে তদন্তের আদেশ দেওয়ার জন্য হাইকোর্ট উপযুক্ত। তাঁরা বলেন, হাইকোর্ট বিষয়টির চগুরুত্ব স্বীকার করে স্বাধীনভাবে পরিস্থিতির মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। হাইকোর্টের লক্ষ্য, যাঁরা ভুক্তভোগী, তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে সাড়া দিয়ে আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেন। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টেও এই পদক্ষেপের অনুমতি দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য সন্দেশখালি মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ভিন রাজ্যের তিন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সমন্বয়ে কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছে।
সন্দেশখালি কাণ্ডে ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী আলখ অলোক শ্রীবাস্তব সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছিলেন। সেখানে তিনি শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেননি, বরং দোষী পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সোমবার জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা উত্তর চব্বিশ পরগনার সন্দেশখালি পরিদর্শন করেন। তিনি ভুক্তভোগী মহিলাদের সঙ্গে দেখা করার পরে জানিয়েছেন, মহিলারা সেখানে ভীত। তাঁর সামনে মহিলারা কেঁদেছেন। তিনি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, তাঁর কাছে দুটি ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানি-সহ ১৮ টি অভিযোগ পেয়েছেন। তিনি সন্দেশখালি থেকে ফিরে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গেও দেখা করেন।
এদিকে কলকাতা হাইকোর্টে এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সন্দেশখালি যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। তাঁকে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি শর্ত হিসেবে বলেছে, তাঁকে নিশ্চিত করতে হবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয়। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা সেখানে কোনও উস্কানিমূলক বক্তৃতা দিতে পারবেন না। তাঁর নিরাপত্তার পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত রাজ্যের পুলিশকে করতে হবে বলেও জানিয়েছেন বিচারপতি। তবে সবার আগে বিরোধী দলনেতাকে তাঁর সফরসূচি জানাতে হবে রাজ্য পুলিশকে। বিচারপতি আরও বলেছেন, আপাতত তিনি সন্দেশখালিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিচ্ছেন না। কিন্তু নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তার ফল রাজ্য সরকারকে ভুগতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications