কেন্দ্রের বাইপাস উদ্বোধন-কর্মসূচি ‘হাইজ্যাক’ তৃণমূলের, বিকেলের অনুষ্ঠানের আগের ফিতে কাটলেন মন্ত্রীরা
যে বাইপাসের উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র হাতে, সেই পানাগড় বাইপাসওয়ের উদ্বোধন আগেভাগে সেরে ফেললেন তৃণমূলের দুই মন্ত্রী মলয় ঘটক ও স্বপন দেবনাথ। আজব ঘটনা মমতার রাজ্যে।
বর্ধমান, ১০ ডিসেম্বর : কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মসূচি 'হাইজ্যাক' করে নিল তৃণমূল। আজ বিকেলে যে বাইপাসের উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র হাতে, সেই পানাগড় বাইপাসওয়ের উদ্বোধন আগেভাগে সেরে ফেললেন তৃণমূলের দুই মন্ত্রী মলয় ঘটক ও স্বপন দেবনাথ। আজব ঘটনা মমতার রাজ্যে। যারা বিকেলের অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন, তারাই সকালে হাজির হয়ে বনে গেলেন উদ্বোধক। এবার সড়ক-সংঘাতে জড়াল কেন্দ্র ও রাজ্য।
কিন্তু কেন এই কীর্তি ঘটালেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী মলায় ঘটক ও স্বপন দেবনাথ? তাঁদের যুক্তি চার মাস আগে এই রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। শুধু কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদরা সময় দিতে না পারায় এই পানাগড় বাইপাসের উদ্বোধন হচ্ছে না। ফলে ওই রাস্তা খুলে দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তাই সবক শেখাতে আগেভাগে এই রাস্তা উদ্বোধন করে দেওয়া হল।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, বাবুল সুপ্রিয় বলেন তাঁদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিশ্চিতভাবেই হবে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে যে পরিস্থিতি তৈর করল, তাতে জৌলুষ হারাল অনুষ্ঠান। ছোট করেই উদ্বোধন সারা হবে। এ ধরনের ঘটনা আদৌ অভিপ্রেত নয়। অহেতুক সংঘাত সৃষ্টি করার জন্যই এইসব করা হচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফে। সকালে একপ্রস্থ উদ্বোধন হয়ে যাওয়ার বিকেলের কেন্দ্রীয় সরকারেই অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলে সোনালী চতুর্ভূজ প্রকল্পে দু'নম্বর জাতীয় সড়ক অর্থাৎ দিল্লি রোড চার লেনে সম্প্রসারিত হয়। কিন্তু এই কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল পানাগড়ে। মাঝে বীরুডিহা থেকে পানাগড় রেল ওভারব্রিজ পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা চার লেন করা সম্ভব হয়নি জমি জটিলতায়। পানাগড় বাজারের ব্যবসায়ীরা বেঁকে বসেছিলেন জমি দিতে। এই সাড়া তিন কিলোমিটার অংশের রাস্তা সঙ্কীর্ণ হওয়ায় নিত্য যানজট লেগেই থাকত।
এরপর রাজ্যে পালাবদল হয় ২০১১ সালে। তৃণমূল ক্ষমতায় এসে এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জেলাশাসককে নির্দেশ দেন অবিলম্বে জমি অধিগ্রহণ করে রাস্তা সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করতে। ব্যবসায়ীরাও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেই বিষয়টিও নজরে রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সেইমতো ২০১৪ সালের মধ্যে অধিগ্রহণের পাঠ চুকিয়ে কাজ শুরু হয়ে যায়।
চারমাস আগেই এই পানাগড় বাইপাসের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই বাইপাস শুধু উদ্বোধন না হওয়ার কারণে খুলে দেওয়া যায়নি। অবশেষে যখন উদ্বোধনের নির্ধারিত দিন এসে গেল, তখনই তৃণমূল রাস্তা উদ্বোধনে নেমে বিতর্ক সৃষ্টি করল।
বাইপাস তৈরির পর ৪ ডিসেম্বর উদ্বোধনের কথা ছিল বাবুল সুপ্রিয়র। তিনি না আসতে পারায় উদ্বোধন আটকে যায়। ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এলাকার মানুষের মধ্যে।
পরে তিনি টুইট করে ১০ ডিসেম্বর বাইপাস উদ্বোধনের কথা জানিয়েছিলেন। সেইমতোই অনুষ্ঠানের বন্দোবস্ত ছিল। আমন্ত্রিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস থেকে শুরু করে মলয় ঘটক, স্বপন দেবনাথ ও এলাকার বিধায়করা। কিন্তু আগেভাবেই তৃণমূল মন্ত্রীরা উদ্বোধন সেরে ফেলায় সেই অনুষ্ঠান নিয়ে বিপাকে পড়ে গেল প্রশাসন।












Click it and Unblock the Notifications