রাজ্যে পুরসভার সবকটি আসনে একসঙ্গে ভোট চাইছে বিজেপি
রাজ্যে পুরসভার সবকটি আসনে একসঙ্গে ভোট চাইছে বিজেপি
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এখন অতীত। পশ্চিমবঙ্গে একুশের নির্বাচনের পর দু'টো উপনির্বাচনেও খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে বিজেপি। কিন্তু তা সত্ত্বেও লড়াইয়ের জমি ছাড়ছে না গেরুয়া শিবির। তাদের দাবি, তৃণমূলের মর্জিমতো নয় সমস্ত ওয়ার্ডে একত্রে ভোট হোক।

এর আগে নির্বাচন কমিশনের কাছে হাওড়া-কলকাতা ও বিধাননগরের পৌরসভা ভোট আয়োজন করার আবেদন করেছিল তৃণমূল। শাসকদলের এই অনুরোধের পরই কড়া বিবৃতি দেয় বিজেপি। তাদের দাবি, নিয়ম মেনে সমস্ত ওয়ার্ডে একইসঙ্গে পৌরভোট হোক। রাজ্য বিজেপির নেতারা মনে করছেন, এই মুহুর্তে তাদের দলের দুরাবস্থার সুযোগ নিতে চাইছে তৃণমূল। তাই এভাবে পুরসভা ভোট করাতে চাইছে তারা।
এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, 'পুরসভা ভোট নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু ওরা যদি সত্যিই এতটা শক্তিশালী হয়। তাহলে বাকি সমস্ত বকেয়া বিধানসভায় একইসঙ্গে ভোট হোক। আমাদের কর্মী তো বটেই, সাধারণ মানুষকেও হুমকি দিয়েছে তৃণমূল। তাই সাম্প্রতিক কালে আমরা ভোটবাক্সে তেমন প্রভাব ফেলতে পারিনি। ভোটের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, কারচুপি করে জিতেছে ওরা। তৃণমূল আসলে বাংলায় বিজেপির উত্থানে ভয় পেয়েছে৷ যদি একসঙ্গে ১২০ টি ওয়ার্ডে ভোট হয়, আমাদের দুরাবস্থা সত্ত্বেও বেশ কিছু জায়গায় জিতব আমরা। আমাদের নির্বাচনী কমিটি শীঘ্রই বৈঠকে বসবে এ নিয়ে। নির্বাচন কমিশনের কাছেও নিজেদের পক্ষ তুলে ধরব আমরা।'
পর পর দুই দফার উপনির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়েছে। ভোট পরবর্তী হিংসা থেকে শুরু করে পড়শি দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন। কোনও কিছুতেই আটকানো যায়নি তৃণমূলকে। তবে এই ফলাফলে তৃণমূলকেই দুষছেন বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, 'বিজেপি বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। সামান্য কিছু উপনির্বাচনে হার আমাদের লক্ষ্য থেকে সরাতে পারবে না। আমরা ওদের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। কিন্তু সমস্ত পৌরসভা নির্বাচন যেন একসঙ্গে হয়, এটাই আমাদের দাবি। ওরা চায় গুণ্ডা দিয়ে ভোট করাতে। সব জায়গায় একসঙ্গে ভোট হলে সেটা করতে পারবে না ওরা।'
প্রসঙ্গত ২০১৫ সালে শেষ পৌরনির্বাচনে টিএমসি কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (কেএমসি) অধীনে মোট ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১৪টিতে জয় পেয়েছিল। অন্যদিকে বাম দলগুলি ১৫টি, বিজেপি ৭টি এবং কংগ্রেস ৫টি আসন পেয়েছিল। রাজ্যের ৯১টি পৌরসভার মধ্যেও তৃণমূল জয়ী হয়েছিল ৭১ আসনে। এরপর বিগত পাঁচ বছরে, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতা বাড়িয়েছে। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে ২০১৯ সালে ক্ষমতাসীন টিএমসির থেকে ১৮টি লোকসভা আসন (২০১৪ সালে যেখানে মাত্র দুটি আসন ছিল বিজেপির) ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিল। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রায় ৫১টিতে ভাল ফল করেছে বিজেপি৷ এবার রাজ্যে পুরনির্বাচনে বেশ কিছু আসন জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী গেরুয়া শিবির। তাই নির্বাচন কমিশনকে পুরভোট নিয়ে চিঠিও দিয়েছে বঙ্গ-বিজেপি৷












Click it and Unblock the Notifications