'গাইসাল' স্মৃতি উস্কে ফের প্রশ্নের মুখে রেল নিরাপত্তা! কেন এত বড় দুর্ঘটনা? কি বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা
প্রত্যক্ষদর্শীরা শোনালেন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা! 'গাইসাল' স্মৃতি উস্কে ফের প্রশ্নের মুখে রেল নিরাপত্তা
ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি দোমোহনি এলাকায়। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ লাইনচ্যুত হয়ে যায় ১৫৬৩৩ আপ বিকানের পাটনা-গৌহাটি এক্সপ্রেসের দশটি বগি। ট্রেনের গতিবেগের ফলে আচমকা লাইনচ্যুত হয়ে একে অপরের উপরে উঠে যায় বেশ কয়েকটি বগি। সেইসঙ্গে লাইনের পাশে উল্টে গিয়েছে আরও বেশ কিছু কামরা। তার মধ্যে ৪-৫টি বগির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, কার্যত দুমড়েমুচড়ে গিয়েছে সেগুলি। আর এই দুর্ঘটনায় ক্রমেই বেড়ে চলেছে হতাহতের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই গোটা পরিস্থিতি সামলাতে ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় লেগেছে রেল ও প্রশাসন। তবে এইসবের মাঝখানে সামনে এল কী ঘটনা ঘটেছে সেখানে সেই তথ্য। দুর্ঘটনাগ্রস্থ ট্রেনের উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা জানালেন তাঁদের বীভৎস বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা।

যাত্রীরা জানালেন বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা
উদ্ধার হওয়া বেশকিছু যাত্রী সংবাদ প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন আচমকাই তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেন তাঁরা। আর এর পরেই একে অপরের ঘারের উপর ছিটকে পড়েন তাঁরা। সেইসঙ্গে তাঁরা অনুভব করেন, ট্রেনের কামরা লাই্ন থেকে বাইরে ছিটকে গিয়েছে। অনেকেই আশেপাশে আহত অবস্থায় সহযাত্রীদের পরে থাকতে দেখেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু যাত্রী কোনও রকমে বাইরে এসে দেখতে পান অনেকগুলি কামরা উল্টে গিয়েছে। কোনওটি আবার একে অপরের উপরে উঠে গিয়েছে। যাত্রীদের উদ্ধার করে তড়িঘড়ি ময়নাগুড়ি হাসপাতালে এবং জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

কী বললেন প্রত্যক্ষদর্শীরা?
বিকেলের দিকে রোজকার মতই এলাকার মানুষ নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তখন হঠাত তীব্র শব্দ শুনতে পান তাঁরা। মুহূর্তেই তাঁদের নজরে আসে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে ট্রেন। তাঁরাই তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধারে হাত লাগান। স্থানীয় এক বাসিন্দা এই বিষয়ে জানিয়েছেন, আচমকাই প্রচণ্ড জোরে আওয়াজ শুনে ছুটে গিয়ে দেখেন এই ঘটনা। এরপরে তাঁরাই প্রায় ১০-১২জনকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন।

কেন হল এই দুর্ঘটনা?
তবে এই ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার কারণ কী তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। আর সেইসঙ্গে উঠে আসছে বেশ কিছু সম্ভাবনার কথাও।
১. ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগের কথা শোনা গেলেও সেই সময় ট্রেনের গতিবেগ কি তার থেকে অনেক বেশি ছিল?
২. রেলের ড্রাইভার কোনও কারনে কি অসতর্ক হয়ে গিয়েছিলেন?
৩. রেললাইনে কোন ফাটল কি ছিল?
৪. রেলের ফিসপ্লেট কি কোন কারনে খুলে গিয়েছিল?
৫. জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনার মত এটা কি কোন অন্তর্ঘাত?
৬. রেলের ড্রাইভার সেই সময় কি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন?
৭. রেলের চাকায় কি কোন যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল?
এরকমই একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে এই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে । যদিও রেল দপ্তরের আধিকারিক ও ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করে এর আসল কারণ নির্ধারণ করলে ,তবেই পরিষ্কার হবে দুর্ঘটনার কারণ। তবে ইতিমধ্যে সব রকম পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মোদী-মমতাও। তবে প্রশ্ন হল ২০২১ সালের ২৫ অগাস্ট গৌহাটি-হাওড়া সরাইঘাট কোভিড স্পেশাল ট্রেনের ৪টি কামরা এর আগে লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এছাড়াও অতীতে একাধিক ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার সাক্ষী থেকেছে দেশ। এরপরেও কেন বার বার এমন দুর্ঘটনা, উঠছে প্রশ্ন।












Click it and Unblock the Notifications