‘মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে হোক বেতন, শিক্ষকদের দেওয়া হোক গ্রেস মার্কস’, দাবি রাখলেন সুকান্ত মজুমদার
স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুতে ফের রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলল বিজেপি। বৃহস্পতিবারই ২০১৬-র সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। আর তারপরই সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। সেই সকল চাকরিহারাদের মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে বেতন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
২০২৬ সালের SSC প্যানেল সম্পূর্ণ বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করতে না পারায় নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হয়েছে। ফলে, যাদের চাকরি গিয়েছে, তাদের নতুন করে পরীক্ষা দিতে হবে। আজ সেই সকল বিষয় নিয়েই সাংবাদিক বৈঠক সারলেন সুকান্ত মজুমদার এবং সম্বিত পাত্র।

বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার ও সম্বিত পাত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যোগ্যদের পাশে দাঁড়াতে হবে রাজ্য সরকারকে। গতকাল ঠিক যে কথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, আজ সেই একই কথা শোনা গেল সুকান্ত মজুমদারের গলায়।
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর কথায়, "মুখ্যমন্ত্রী চাইলে এই শিক্ষকদের চাকরি রক্ষা করতে পারতেন। সবাই তো টাকা দিয়ে চাকরি পাননি! আমরা চাই ২৫ হাজারের মধ্যে যে ২০ হাজার যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন, তাঁদের কথা ভাবুক মুখ্যমন্ত্রী"।
সুকান্ত মজুমদার এদিন এই প্রসঙ্গেই বলেন, "গতকাল দেখলাম, শিক্ষকরা কাঁদছেন। তাদের পরিবার, বাবা-মায়ের চিকিৎসা, সংসার চালানোর চিন্তায় দিশেহারা। বাংলায় শিক্ষকদের বরাবর শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয়, অথচ আজ তারা অসহায়। আর এর জন্যে যে ক্যাবিনেট, ক্যাবিনেট তৈরির মূল কাণ্ডারি যিনি, তাঁদের কারোর বাইরে থাকার অধিকার নেই। তাঁদের সবাইকে জেলে যেতে হবে"।
একই সাথে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তিন মাস পর নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে। তবে, শিক্ষকরা এতদিন শিক্ষাদান থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। এই যুক্তিতে SSC নিয়মে পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।
তিনি বলেন, "যারা ২০১৬ সাল থেকে পড়াচ্ছেন, তারা কলেজ স্তরের বিষয় পড়ে পরীক্ষা দিয়েছিলেন, কিন্তু স্কুল স্তরে পড়ান। এতদিন তারা শিক্ষাদানের বাইরে ছিলেন। তাই SSC নিয়োগে প্রতি বছরের জন্য কিছু নম্বর সংযোজন করা হোক। এত বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা স্বরূপ তাঁদের কিছু গ্রেস মার্কস দিক এসএসসি। অন্তত এই দিকটা দেখুক সরকার"।
এদিন সম্বিত পাত্র ও সুকান্ত মজুমদার একই কথা বলেন। তারা একসঙ্গেই বলেন যে, "যারা যোগ্য, তাদের মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার চাইলেই শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াতে পারে"।
রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিজেপি সরব হওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গতকালই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যোগ্য চাকরিহারাদের জন্যে কিছু ভাবছে সরকার, তবে তা কি সেটা খোলসা করেননি তিনি। তবে মনে করা হচ্ছে, হইত বিজেপির এই দাবি গুলির পর মুখ্যমন্ত্রী নতুন করে হইত কিছু ভাবতে পারেন। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হয়, এখন সেটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications