নামখানায় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে করে সহকর্মীদের পেটালেন প্রধানশিক্ষক, দেখুন আতঙ্কের সেই ভিডিও
এক্কেবারে চাঁদা করে আক্রমণ যাকে বলে। স্কুলে বহিরাগতদের ঢুকিয়ে এভাবেই সহকর্মীদের পেটালেন প্রধানশিক্ষক।
এক্কেবারে চাঁদা করে আক্রমণ যাকে বলে। স্কুলে বহিরাগতদের ঢুকিয়ে এভাবেই সহকর্মীদের পেটালেন প্রধানশিক্ষক। মারধরের মাত্রা এতটাই মারাত্মক আকার নেয় যে এতে গ্রুপ-ডি-এর কর্মী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে পরে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। আরএক জখমকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর স্থানীয় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই এসএসকেএম থেকে জখম গ্রুপ-ডি কর্মীর বয়ান নথিভুক্ত করেছে পুলিশ।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নামখানার দশমাইলের দক্ষিণ দুর্গাপুর চঞ্চলাময়ী আদর্শ বিদ্যাপীঠের স্কুলের এই হামলার ভিডিও এখন ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। কীভাবে বহিরাগতরা এসে স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের শাসাচ্ছে তার ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি স্কুল পরিদর্শকেও জানানো হয়েছে। স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা থানায় অভিযোগও জানাতে চলেছেন।
দেখুন সেই ভিডিও..
দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক আশিস ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মিড ডে মিল-এর ডাইনিং সেট কেনা নিয়েও আড়াই লক্ষ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। খোদ এসআইএর সামনে দাঁড়িয়ে সেই দুর্নীতির দায় স্বীকার করেছিলেন আশিস ভট্টাচার্য। বছর খানেক আগে স্কুলের সুর্বণ জয়ন্তী পালনে শিক্ষকদের উপরে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়ার ফতোয়া জারি করেছিলেন তিনি। যদিও, শিক্ষকরা শেষমেশ সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে রক্ষা পান। সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক আশিস ভট্টাচার্য সহকর্মীদের জানান স্কুলের নামে ৬০ লক্ষ টাকা দেনা হয়েছে। অভিযোগ এই টাকা মেটানোর জন্য ফের শিক্ষদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন তিনি। এই নিয়ে প্রতিবাদও জানানো হয়। এরপর থেকেই সহকর্মীদের সঙ্গে আরও বেশি করে দুর্ব্যবহার শুরু করেছিলেন।
অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ আচমকাই একদল বহিরাগতদের নিয়ে সহকর্মীদের মারধর শুরু করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক আশিস ভট্টাচার্য। প্রথমে সাদা কাগজ নিয়ে একটি ঘরে স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের জড়ো হতে নির্দেশ দেয় বহিরাগতরা। অভিযোগ, অন্তত দলে ১৭ থেকে ২০ জন বহিরাগত ছিল। এদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন স্কুলের অস্থায়ী পদে থাকা কর্মী প্রসেনজিত দাস এবং প্রাথমিক বিভাগের শিক্ষক যদুপতি পাণ্ডা। বহিরাগতদের মধ্যে ছিলেন ধনঞ্জয় গিরি, সরোজকুমার পণ্ডা, রাজনারায়ণ দাস, প্রভাত পট্টনায়েক, হিমাংশু গিরি, সুকুমার দাস, সুজিত দাস-রা। এঁদের মধ্যে একজন বাদে বাকি সকলেই স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের প্রভাবশালী কর্মী বলে অভিযোগ।
মারধরের জেরে স্কুলের দুই শিক্ষক পদার্থবিদ্যার বিপ্লব পাত্র এবং সঞ্জীব মণ্ডল ও গ্রুপ ডি কর্মী পঞ্চানন খাটুয়া গুরুতর জখম হন। প্রত্যেকেরই বুকে, পেটে ঘুষি ও লাথি মারা হয়। চুলের মুঠি ধরে হিড়ৃহিড় করে টেনে ফেলে দেওয়া হয়। হার্টের রোগী পঞ্চানন খাটুয়া মারধরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে এসএসকেএম হাসাপাতালে নিয়ে যেতে হয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও শনিবার ফের এসএসকেএম-এর আউটডোরে তাঁর শারীরিক পরিক্ষা করানো হয়েছে। সঞ্জীব ও বিপ্লব হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও বুকে, পেটে ও হাতে এখনও ব্যাথা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় যে সকলেই আতঙ্কিত।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রতিবাদী শিক্ষকনেতা মইদুল ইসলামও। তিনি এই ঘটনার উপরে নজর রাখছেন বলেও জানিয়েছেন। প্রয়োজনে এই নিয়ে বৃহত্তর প্রতিবাদ আন্দোলনে নামবেন বলেও জানিয়েছেন। ২০১৩ সাল থেকে দক্ষিণ দুর্গাপুর চঞ্চলাময়ী আদর্শ বিদ্যাপীঠের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক পদে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন আশিস ভট্টাচার্য। গোটা বিষয়ে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ওয়ানইন্ডিয়া বেঙ্গলি থেকে তাঁকে ফোনে ধরার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। অন্যদিকে স্কুল শিক্ষার আধিকারিক নজরুল ইসলামের প্রতিক্রিয়া নেওয়া জন্য যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে, সন্দেহ নেই দক্ষিণ দুর্গাপুর চঞ্চলাময়ী আদর্শ বিদ্যাপীঠ-এর শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা আতঙ্কিত। প্রত্যেকেই ফের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সঠিক নিরাপত্তা না পেলে তাঁদের পক্ষে স্কুলে বেশিদিন আসা সম্ভব নয় বলেও তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications