স্কুলে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর, অভিযুক্ত তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য
স্কুলে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনা কাকদ্বীপের।
এই ঘটনার নিন্দা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে তৃণমূল নেতার শিক্ষক নিগ্রহের ভিডিও।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে বীরেন্দ্র বিদ্যানিকেতন স্কুলে ঢুকে ওই তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন বলে অভিযোগ। ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা যাচাই করেনি। তবে তাতে দেখা যাচ্ছে ওই তৃণমূল নেতা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয় কক্ষ থেকে বের করে ধাক্কা মারতে মারতে বাইরে বের করে দিচ্ছেন।
স্কুলের শিক্ষার্থীদের সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে। স্কুলের পিকনিকের চাঁদা সংগ্রহ নিয়ে বিতর্কের জেরে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, কাকদ্বীপের তৃণমূল নেতা ত্রিদিব বারুই, যিনি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিও বটে, প্রধান শিক্ষক মিলনকান্তি পালকে ঘাড় ধরে টেনে নিয়ে যান। স্কুলের অফিসের বাইরে এই ধস্তাধস্তির একটি ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। যদিও প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, অফিসের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিলনকান্তি পাল অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার ত্রিদিব বারুই তাকে একটি কাগজে সই করতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। সেখানে লেখা ছিল যে তিনি ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন ছাড়াই টাকা তুলেছেন। নিগৃহীত শিক্ষকের কথায়, "আমি রাজি না হওয়ায়, উনি আমাকে জোর করে ঘাড় ধরে টেনে নিয়ে যান।" এই ঘটনার পর কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হন মিলনকান্তি পাল।
তবে ত্রিদিব বারুই এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, মিলনকান্তি পাল ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি ছাড়াই টাকা তুলছিলেন। তিনি আরও বলেন, "যখন আমি রসিদ দেখতে চাইলাম, তখন তিনি কাগজটি মুচড়ে আমাকে ধাক্কা মারেন। ওই শিক্ষকই আমাকে মারার চেষ্টা করেছিলেন, আমি শুধু নিজেকে রক্ষা করছিলাম।"
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনার নিন্দা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, এটি "শিক্ষা ক্ষেত্রে সন্ত্রাসের" প্রমাণ। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং কাকদ্বীপের তৃণমূল বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
মন্টুরাম পাখিরা বলেন, "ত্রিদিব বারুইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে।"












Click it and Unblock the Notifications