বিজেপিতে এখন তিনটি পৃথক স্রোত বইছে! মুকুল-দিলীপের সঙ্গে লড়াইয়ে তথাগতও
বিজেপির এখন তিনটি ধারা! মুকুল-দিলীপের দুই স্রোত কি মেলাতে পারবেন তথাগত
দিলীপ ঘোষ রাজ্য সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই দুটি শীর্ষ গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল বঙ্গ বিজেপিতে। তবু দিলীপের নেতৃত্বে বিজেপি এগিয়ে চলায় রাহুল সিনহার গোষ্ঠী ততটা সক্রিয় হয়ে উঠতে পারেননি। কিন্তু মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দুটি চোরাস্রোত বইতে শুরু করে। আবার তথাগত বাংলার রাজনীতিতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতেই, তিনটি পৃথক ধারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বিজেপিতে।

দিলীপের যোগ্য নেতৃত্বেই চ্যালেঞ্জার বিজেপি
বিজেপি বিব্রত মুকুল রায় ও দিলীপ ঘোষের গোষ্ঠীকে সামলাতে। দিলীপ ঘোষ রাজ্য সভাপতি। তাঁর নেতৃত্বে বাংলায় বিজেপি প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়েছে। এখন তারা তৃণমূলের চ্যালেঞ্জার হয়ে উঠেছে। ময়দানে নেমে রাজনীতি করছেন দিলীপ, তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে খুশি কেন্দ্রের বিজেপিও। ফলে তাঁর গোষ্ঠী তো বাংলায় সক্রিয় থাকবেই।

মুকুলের সাংগঠনিক দক্ষতায় তৃণমূল ছারখার
মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই তাঁর একটা পৃথক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সেটাও স্বাভাবিক। কেননা, বাংলার রাজনীতিতে মুকুল রায়ের একটা আলাদা পরিচিতি ছিল। সেই পরিচিতি ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েই তৃণমূল ভাঙিয়ে বিজেপিতে ভিড় জমিয়েছেন তিনি। মুকুল অনুগামী সেই নেতারা বিজেপিতে যোগ দিয়ে তাঁর দিকেই থাকবেন, তা বলাই যায়।

বিজেপির সমস্যা দিলীপ-মুকুলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব
সমস্যা হচ্ছে মাঝেমধ্যেই দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রায় গোষ্ঠীর মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। কারা সক্রিয় হবেন, কাদের ক্যারিশ্মায় বিজেপির সাফল্য, তা নিয়েই দুটো ভাগ বিজেপিতে। জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গ-সহ বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে যে সাফল্য এসেছে বিজেপি, যেভাবে সংগঠন বাড়ছে, তার জন্য উভয়পক্ষই কৃতিত্ব দাবি করছে।

মুকুল নিষ্ক্রিয়, দিলীপের বিভাজন-রাজনীতি
সম্প্রতি মুকুল রায় তো নিজেকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিলেন। তাঁকে নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল- বিজেপিতে তিনি সুখে নেই, তিনি যে কোনওদিন ফিরে যেতে পারেন পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেস। দিলীপ ঘোষও একা পরিবর্তন করতে পারেন, বুকে পা দিয়ে রাজনীতি করেন- এমন অনেক কথায় বিভাজন তৈরি করেছিলেন দলে।

বিজেপিতে তথাগতের আগমন ও জল্পনা
সেইসব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফের নতুন উদ্যমে যখন বিজেপি ময়দানে নামতে চলেছে, তখনই সাংবিধানিক পদ ছেড়ে বঙ্গ রাজনীতিতে প্রবেশ দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায়ের। আর ফিরেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মুখ হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। এবং রাহুল সিনহা তাঁকে পূর্ণ সমর্থন দেন। এমনকী বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে রাহুল সিনহার অনুগামীরা প্ল্যাকার্ড-কার্টুন নিয়ে হাজির হন।

বিজেপিতে এখন সক্রিয় তিনটি পৃথক গোষ্ঠী
এই অবস্থায় বিজেপিতে এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে তিনটি গোষ্ঠী। এখন দেখার এই তিনটি গোষ্ঠীকে মিলিত করে বঙ্গ বিজেপি একযোগে এগোতে পারে কি না বাংলার রাজনীতিতে। নাকি ব্যক্তিগত ইগোয় বারবার টক্কর লাগে তাদের। তাহলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই মাঝপথেই থেমে যাবে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। তাই বিজেপির কাছে এখন বড় পরীক্ষা- তিন স্রোতকে একত্রিত করা!

তথাগতের ভূমিকা কী হবে, প্রশ্ন বঙ্গ বিজেপিতে
তথাগত রায় বাংলায় পা দিয়েই কৈলাশ বিজয়বর্গীয় ও মুকুল রায়ের সঙ্গে এক প্রস্থ বৈঠক করেছেন। এরপর তিনি শীঘ্রই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তথাগত রায় জানিয়েছেন, তিনি বিজেপিতে দ্বন্দ্ব বাধাতে আসেননি। তিনি শুধু নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। দল যা দায়িত্ব দেবে, তিনি তা-ই করবেন সবাইকে নিয়ে।












Click it and Unblock the Notifications