বিএসএফ নিয়ে মমতার বক্তব্যের সমালোচনা শুভেন্দুর, বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে খোলা চিঠিতে প্রশ্নবাণ
Suvendu Adhiari: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ নিয়ে মমতা বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছিলেন তার সমালোচনা শুভেন্দুর।
শুভেন্দুর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী যে কথা বলেছেন তা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবমাননাকর। এর প্রতিবাদে মমতাকে খোলা চিঠি পাঠিয়ে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

শুভেন্দু দেশের সীমান্ত রক্ষায় বিএসএফের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে লিখেছেন, আমাদের দেশে ১৮টি সীমান্ত, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রয়েছে। এই প্রথম বহু বছরে কোনও একজন মুখ্যমন্ত্রী কেবল ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে সৈন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য সেনা জওয়ানদের মনোবলে আঘাত করার পক্ষে যথেষ্ট বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু।
এরপরই শুভেন্দু মমতাকে উদ্দেশ করে লেখেন, দেশের নিরাপত্তারক্ষা বাহিনী কোনও সরকারের নয়, তাঁরা সমগ্র দেশের রক্ষক। পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশের জন্য আপনি যেভাবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে দায়ী করেছেন তাতে আপনার নিম্ন রুচির রাজনীতি পরিলক্ষিত হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনীকে জড়ানো, তাঁদের অপমান করা, নিজেদের ব্যর্থতার পুরো দায় তাঁদের উপর চাপানোটা রাজনীতি হতে পারে না, এটা নোংরামি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সিএপিএফে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের ৭৫ হাজার ও বিএসএফে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের ৩৩ হাজার সেনার সঙ্গে সারা দেশের সেনাদের সমানভাবে অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। লিখছেন, সেবা ও উৎসর্গের চেতনায় দীক্ষিত সেনাদের প্রতি আপনার অপমানজনক মন্তব্য দেশ চিরকাল মনে রাখবে।
এরপরই শুভেন্দু প্রশ্ন তুলেছেন, যখন অনুপ্রবেশকারীরা পার্শ্ববর্তী গ্রামে ঢোকে তখন কীভাবে তাদের পরিচয়পত্র তৈরি হয়ে যায়? তাদের রেশন কার্ড কীভাবে তৈরি হয়? পুলিশ ও অন্যান্য কর্মকর্তারা কীভাবে তাদের যাচাই করে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় যাতে তাদের পরিচয়পত্র তৈরি করা সম্ভব হয়?
এই সব কার্যকলাপ বন্ধে বিএসএফের কার্যক্ষেত্রের পরিধি বাড়িয়ে তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধির কথা এলে রাজ্য সরকার কেন বিরোধিতা করে? প্রশ্ন শুভেন্দুর। বিএসএফ ও সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসহযোগিতার তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন শুভেন্দু।
শুভেন্দু লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে আগত নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের সুবিধার্থে আনা সিএএ আইনের বিরোধিতা করছে। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের স্বাগত জানাচ্ছে। এক সময় অনুপ্রবেশের ঘটনা বেশি ছিল অসমে। সেখানে অনুপ্রবেশ এখন বন্ধ হলেও পশ্চিমবঙ্গে বাড়ছে কেন?
রাজ্যের বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, অসমের রাজ্য প্রশাসন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের চাপে ক্রমাগত অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্য়াঙ্কে রূপান্তরিত করার কাজ করে চলেছে।
শুভেন্দু আরও লেখেন, মোদী সরকার অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করতে, ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিতে, দেশ থেকে তাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গের জনগণের পক্ষ থেকে আবেদন জানাচ্ছি, ভোটব্যাঙ্কের লোভে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প, সংস্কৃতি ও জনতত্ত্বকে বিসর্জন দেবেন না। পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে মুছে ফেলার প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আপনাকে কখনও ক্ষমা করবে না।












Click it and Unblock the Notifications