রাজ্যে একটাই বিরোধী দল, ভয় দেখিয়ে কাজ হবে না, ৩৫৬ ধারা নিয়ে বিজেপির নেতা-কর্মীদের বার্তা শুভেন্দুর
রাজ্যে একটাই বিরোধী দল, ভয় দেখিয়ে কাজ হবে না, ৩৫৬ ধারা নিয়ে বিজেপির নেতা-কর্মীদের বার্তা শুভেন্দুর
বিজেপি (bjp) রাজ্যে হেরে গিয়েছে, তবে অস্তমিত হয়ে গিয়েছে এমনটা বলা যাবে না। এমনটাই মন্তব্য করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (suvendu adhikari) । তিনি বলেছেন, নির্বাচনে সরকার তৈরির জায়গায় ছিল বিজেপি। সভা সমাবেশে ভিড়ও হয়েছিল, কিন্তু কাঙ্খিত ফল আসেনি।

৭০%-এর মধ্যে ৩৮% ভোট পেয়েছে বিজেপি
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, বিজেপি আদর্শ বিচার ধারার দল। সেই মতো তারা ভোট পেয়েছে। ২০১৬ সালে ৫৫ লক্ষ থেকে তাদের ভোট বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ২৮ লক্ষ। রাজ্যে বিজেপি ৭০% শতাংশে লড়াই করে ৩৮% ভোট পেয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুভেন্দুকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই
কোনও সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে পাখর ছোঁড়া হয়েছে। গাড়ি ঘিরে ফেলার চেষ্টাও হয়েছে। যা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ধমকানি, তমকানি, পাথর ছোড়া দিয়ে শুভএন্দু অধিকারীকে ভয় দেখানো যাবে না। তা করে কোনও কাজ হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, তাঁর রাজনীতির বেশিরভাগ সময়ই তিনি বিরোধী পক্ষেই রাজনীতি করেছেন। ফলে তিনি বিরোধী রাজনীতিতেই স্বাচ্ছ্বন্দ বোধ করেন।

সাধারণ মানুষ, দলীয় সমর্থকদের পাশেই বিজেপি
বিজেপির অভিযোগ ২ মে নির্বাচনের পল ঘোষণার পর থেকে রাজ্য জুড়ে তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপরে হামলা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির একাংশের কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ তাঁরা এই সময়ে পাশে পাননি স্থানীয় নেতৃত্বকে। যা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ২ মে-র পর থেকে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নামানো হয়েছিল বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ৪ মে রাজ্যে সীমাহীন সন্ত্রাস দেখতে এসেছিলেন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। রাজ্যপাল গিয়েছিল কোচবিহারের শীতলকুচি এবং নন্দীগ্রামে। পরে লকডাউনের বিধি চালু হয়ে যাওয়ার কথা রাজ্যপালকে জানান মুখ্যসচিব। তার জন্য রাজ্যপাল আর সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় যেতে পারেননি বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছে, রাজ্যে বিজেপির ২৫০টির ওপরে ত্রাণ শিবির তৈরি করেছে। কোচবিহার থেকে অসমে পালিয়ে গিয়েছিলেন প্রায় ৪ হাজার কর্মী-সমর্থক। সেখানে তাঁদের সরকারি ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছিল। দিল্লিতেও প্রায় ৪০০ জন পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি দিল্লির বিজেপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে অন্তত ৮০ জনের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এছাড়াও ঘাটালের ত্রাণ শিবিরে প্রায় ১৫০ জনের থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

৩৫৬ চাইলেই করা যায় না
বাংলা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সিএন-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, বেশ কিছু জায়গায় যাওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। প্রোটেকশন দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও ছিল না বলে স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন, দলের তরফ থেকে যাঁরা নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ৮৫০০ অভিযোগ জমা পড়েছে। রাজ্যে এসসি কমিশন এসেছে। এসটি কমিশন রাজ্যে আসবে। খড়দহের মতো বেশ কিছু জায়গায় বিজেপি কর্মীদের কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
বিরোধী দলনেতা বলেছেন, বিজেপি কর্মীরা ৩৫৬/৩৫৫ ধারার দাবি করছে, আধা সামরিক বাহিনীর দাবি করছে। কিন্তু চাইলেই তো ৩৫৬ ধারা জারি করা যায় না। জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে যে বিজেপি ছাড়বে না, তা ফের একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications