মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজ কলকাতা হাইকোর্টে, ঐতিহাসিক রায়কে স্বাগত জানালেন শুভেন্দু
বিজেপির বিধায়ক হয়ে দলবদল করেছিলেন মুকুল রায়। যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। বর্তমানে কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী।
এরই মধ্যে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে। স্বাভাবিকভাবেই এই রায়কে স্বাগত জানান শুভেন্দু।

২০১৭ সালের নভেম্বরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল। দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতির দায়িত্ব পান। তিনি ২০২১ সালে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের কৌশানী মুখোপাধ্যায়কে হারিয়ে বিধায়ক হন। এরপর ২০২১ সালের ২১ জুন তৃণমূল ভবনে উত্তরীয় পরে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। এরপর কখনও তিনি বলেছিলেন, বিজেপি মানেই তৃণমূল, তৃণমূল মানেই বিজেপি! তাঁর এই দলবদল নিয়ে সরব হয় বিজেপি। আদালতেরও দ্বারস্থ হয়।
মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজের দাবি জানিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যায় বিজেপি। তবে মুকুলের আইনজীবীরা জানাতে থাকেন তিনি দল বদলাননি। মুকুলকে পিএসি চেয়ারম্যান করা হয়। তারও বিরোধিতা করেছিল বিজেপি, কিন্তু শাসক পক্ষ তাতে আমল দেয়নি। উল্টে মুকুলের বিধায়ক পদ বহাল রাখেন স্পিকার। তারপরই মামলা দায়ের করেন শুভেন্দু অধিকারী ও অম্বিকা রায়। সেই মামলায় এতদিন পর রায় ঘোষণা। হাইকোর্টের রায়ে এভাবে বিধায়ক পদ যাওয়া কার্যত নজিরবিহীন এই রাজ্যে।
শুভেন্দু এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, "পশ্চিমবঙ্গে (এবং সম্ভবত ভারতের অন্য কোথাও) এই প্রথম এমন একটি ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হলো, যেখানে কলকাতা হাইকোর্টের একটি সাংবিধানিক ডিভিশন বেঞ্চ বিধায়ক মুকুল রায়কে দলত্যাগের কারণে অযোগ্য ঘোষণা করেছে। এই বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বার রশিদি।
বিরোধী দলের নেতা হিসাবে আমার দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ রায়টি এসেছে। বিচারপতিরা মুকুল রায়কে বিধায়ক পদ থেকে অযোগ্য ঘোষণা করার পাশাপাশি স্পিকারের আগের আদেশটিও বাতিল করে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, স্পিকার আমার দায়ের করা দলত্যাগ সংক্রান্ত আবেদনটি খারিজ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব করেছিলেন।
দেরিতে হলেও সত্যের জয় হয়। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত সংবিধান, বিশেষত দশম তফসিলের পবিত্রতা রক্ষা করেছে। একইসাথে, দলত্যাগ সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে স্পিকারের পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব নিয়েও আদালত কোনও সংশয় রাখেনি।
এই ঐতিহাসিক রায়কে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছি। জয় হিন্দ।"
দলত্যাগ বিরোধী আইনকে হাতিয়ার করেই আদালতে গিয়েছিলেন শুভেন্দুরা। যদিও তৃণমূল শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী ও ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীর উদাহরণ টেনে পাল্টা খোঁচা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ, তাঁরাও তৃণমূলের সাংসদ পদ না ছেড়েই বিজেপির সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ রাখতেন।












Click it and Unblock the Notifications