সুপ্রিম কোর্টে মমতা, তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর, ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্য

সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী হয়ে দাঁড়ানোর ঘটনাকে তীব্র কটাক্ষ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যা প্রচার করতে চাইছেন তা সত্য নয়।

শুভেন্দুর কথায়, তৃণমূল কংগ্রেস ও তাদের অনুগত মিডিয়া এবং ইউটিউবার গোষ্ঠী, যারা দলের কাছ থেকে সুবিধা পাচ্ছে, তারা এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত একটি ভুয়ো আখ্যান তৈরি করার চেষ্টা করছে, যা খ্যমন্ত্রী নিজেই সাজাতে চাইছেন।

শুভেন্দু বলেন, প্রথম দিনে তিনি কালো শাল পরে নির্বাচন কমিশনের উপর আক্রমণ করেন। তিনি সঙ্গে সাউন্ড বক্স ও মাইক্রোফোন নিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু বাড়িতে যে শাড়ি পরে ছিলেন সেটি বদলাতে ভুলে গিয়েছিলেন এবং অভিযোগ করেন যে দিল্লি পুলিশ বঙ্গভবনে তল্লাশি চালিয়েছে। অথচ এর কোনও প্রমাণ বা সিসিটিভি ফুটেজ তিনি দেননি। উপরন্তু দিল্লি পুলিশ তাঁর এই ভ্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে খণ্ডন করেছে।

শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, দ্বিতীয় দিনে তিনি আবার কালো শাল পরে ভারতের নির্বাচন কমিশনের দফতরে যান এবং বেরিয়ে এসে বলেন, "আমি জীবনে এমন নির্বাচন কমিশন দেখিনি।" এগুলি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য। গতকাল তিনি বঙ্গভবনে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেন। গতকাল সন্ধ্যা থেকেই সংবাদে দেখানো হচ্ছে যে নাকি এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন, যেন সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে আর কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি কখনও সেখানে মামলা করেননি।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমরা আগেই অনুমান করেছিলাম কী ঘটতে চলেছে-মুখ্যমন্ত্রী কিছুই করতে পারবেন না, এবং সেটাই হয়েছে। যাঁরা বিচারব্যবস্থা বা রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন, বা টেলিভিশন ও অন্যান্য মাধ্যমে যা ঘটেছে তা দেখেছেন, তাঁরা জানেন যে সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী নিজে তেমন কোনও ভূমিকা নেননি; প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেছেন তাঁর আইনজীবী শ্যাম দিবান। তিনি আবেদনকারী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। একাধিকবার তিনি আলোচনায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তাঁকে থামিয়ে জানান যে, তাঁর আইনজীবীই যথেষ্ট সক্ষম।

শুভেন্দু বলেন, তবুও নিজের স্বভাব অনুযায়ী তিনি বারবার হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেন। সম্ভবত তিনি সঙ্গে একজন অনুবাদকও নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি যে ভাষায় কথা বলছিলেন, তা আইনজীবী এবং সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সংশোধন করছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মতো মেধা ও শিক্ষায় সমৃদ্ধ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে এই আচরণ মানানসই নয়। এটি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য লজ্জার বিষয়। তিনি হয়তো বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন এবং সুপ্রিম কোর্টে পিটিশনের আড়ালে অনুবাদক লুকিয়ে রেখেছিলেন, কারণ প্রত্যেক মানুষেরই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দলের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য-এক, এসআইআর প্রক্রিয়াকে ব্যহত করা; দুই, মৃত, ভুয়ো ও অবৈধ বাংলাদেশি মুসলিমদের নামসহ একটি ভোটার তালিকা বজায় রাখা। কিন্তু মাইক্রো অবজারভার আসার আগেই তাঁর দ্বারা নিযুক্ত বিএলওরা ৫৮ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে দিয়েছে। এই ৫৮ লক্ষ নাম সঠিক প্রক্রিয়াতেই মুছে দেওয়া হয়েছে এবং খসড়া তালিকায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যদি কোনও নাম ভুলভাবে বাদ পড়ে থাকে তবে ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যাবে এবং ফর্ম ৭-এর মাধ্যমে যে কেউ ভুয়ো বা মৃত ভোটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারবেন। কয়েক লক্ষ ফর্ম ৭ জমা পড়েছে, কিন্তু ফর্ম ৬ শতকেও পৌঁছায়নি।

শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, আসল উদ্দেশ্য হল এসআইআর প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা এবং ২০২৪ সালের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন করানো। আজ তিনি যা চেয়েছিলেন, তা না পেয়ে তিনি খালি হাতে ফিরেছেন। সুপ্রিম কোর্ট আজ যে অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছে, তা আমরা সবাই দেখেছি এবং পরবর্তী শুনানি ৯ ফেব্রুয়ারি। আদালত সমস্ত আবেদনকারীকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী একটি মুলতুবি আবেদন শুনানির অনুরোধ জানিয়েছিলেন এবং আদালত কী বলেছে তা সকলেই দেখেছেন।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আজ মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য ছিল মাইক্রো অবজারভারদের সীমাবদ্ধ করা। তিনি জানান, মালদা থেকে একজন মাইক্রো অবজারভার, যিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখেছেন, একটি অডিও ক্লিপ পাঠিয়েছেন, যা তিনি সন্ধ্যা ৬টায় নিজের ফেসবুক ও এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন যে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর চলছে, কিন্তু শুধু পশ্চিমবঙ্গে কেন মাইক্রো অবজারভার পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বা সুপ্রিম কোর্ট কী বলবে তা তাদের বিষয়, তবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি কারণ জানাচ্ছেন-রাজ্যে এসডিও স্তরের ইআরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর অধীনে দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী ইআরও হওয়া উচিত আইএএস বা ডব্লিউবিসিএস (এ) ক্যাটাগরির অফিসার, ভূমি রাজস্ব দফতর থেকে প্রোমোশন পাওয়া ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নয়। এখন মুখ্যমন্ত্রী জটিল অবস্থায় পড়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছে, তিনি কোন যোগ্য অফিসারদের এই কাজে নিযুক্ত করেছেন তার তালিকা দিতে। ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২৯৪ জন ইআরও রয়েছে, তার মধ্যে ২২৫ জনই নির্দেশিকা অনুযায়ী যোগ্য নন। তিনি বলবেন অফিসারের ঘাটতি আছে, কিন্তু বাস্তবে প্রায় ৩০০ জন অফিসার আছেন, এমনকি ১০ জন আইএএস অফিসারও আছেন যাঁদের এখনও এসডিও স্তরে পদোন্নতি দেওয়া যেতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা না করায় তারা মাইক্রো অবজারভার পাঠাতে বাধ্য হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, কিছু নাম বা উপনামের ক্ষেত্রে ভুল পাওয়া গিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন বলেছে প্রক্রিয়া আরও সতর্কভাবে করতে হবে। আমরা বলছি, যেসব বিএলও বা এইআরও ইচ্ছাকৃত ভুল করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে-যেমন বসিরহাট-২ ব্লকের যুগ্ম বিডিওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোনও পদক্ষেপ নেয়নি এবং বরং নির্বাচন কমিশনকে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছে।

শুভেন্দু জানান, বিহার সরকার যেখানে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর দিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেখানে দেয়নি, যার ফলে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা এই বিষয়ে মুখ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সময় দেওয়া হয়নি। আমরা রাজ্যপালের কাছে গিয়েছি এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের কাছে আবেদন জমা দিয়েছি। গত তিন দিনে মুখ্যমন্ত্রী যে তিনটি লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছিলেন-এসআইআর বন্ধ করা, মাইক্রো অবজারভার ইস্যু তোলা এবং আধার কার্ড প্রসঙ্গ তুলে অবৈধ বাংলাদেশি মুসলিমদের ভোটব্যাঙ্ক রক্ষা করা-সব ক্ষেত্রেই তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে আধার আলাদা বিষয়, এবং আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া সংরক্ষিত রেখেছি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+