দুর্গাপুরে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে সাক্ষাতে শুভেন্দু, অপরাধীদের কড়া শাস্তি চান রাজ্যপাল
দুর্গাপুরের ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। গণধর্ষণের ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে বলেছেন, এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি এড়াতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এদিকে, এদিনই দুর্গাপুরে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যান বিজেপির ধরনামঞ্চেও।

রাজ্যপাল এদিন জানান, তিনি ইতিমধ্যে ঘটনা সম্পর্কে বিশদ বিবরণ চেয়েছেন। দুর্গাপুরে পৌঁছে তিনি বলেন, "এটি খুবই মর্মান্তিক ঘটনা এবং এমনটা যে এই প্রথম ঘটল তা নয়। ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের ঘটনা এড়ানো যায় তার জন্য পদক্ষেপ করতে হবে। এটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত এবং ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।" এর আগে হাওড়া স্টেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, "আমি এই ঘটনা সম্পর্কে তথ্য চেয়েছি। যারা এই কাজটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনও মন্তব্য করার আগে আমি প্রথমে নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করব।"
গণধর্ষণের ঘটনায় সোমবার আরও দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে এই মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হয়েছে। নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষাও হয়েছে। তদন্ত জোরকদমে চলছে বলেই দাবি করেছে পুলিশ।
এদিকে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, "আজ, আমি দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীর বাবার সঙ্গে দেখা করেছি, যিনি কয়েকদিন আগে অকল্পনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। আমি তাঁর মায়ের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছি, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে তাঁর মেয়ের পাশে আছেন, যেখানে ছাত্রীটির চিকিৎসা চলছে।
তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে আমি তাঁর চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেও দেখা পাইনি। দুর্ভাগ্যবশত বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভয় পাচ্ছেন যে তারা যদি বিরোধী দলনেতাকে (LoP) ডাক্তারদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রোষানলে পড়তে হবে।
ছাত্রীর বাবা-মায়ের বেদনা ও যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। একজন সহ-নাগরিক হিসাবে আমি তাঁদের পাশে রয়েছি, সহানুভূতিশীল হিসেবেই। এই কঠিন সময়ে আমি তাঁদের সর্বাত্মক সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছি।
কারও এমন অবিচার সহ্য করা উচিত নয়, বিশেষত একজন তরুণীর, যিনি অন্যদের সেবার জন্য একটি ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনাটি একটি কঠোর অনুস্মারক যে আমাদের বোন ও কন্যারা পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিন কী ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন।
পরে, আমি ওডিশার বাসিন্দা ওই দ্বিতীয় বর্ষের মেডিক্যাল ছাত্রীর জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে বিজেপির অনির্দিষ্টকালের ধরনা প্রতিবাদে যোগ দিই। আমরা ততক্ষণ বিশ্রাম নেব না, যতক্ষণ না অপরাধীরা জবাবদিহিতার আওতায় আসে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়। আমি সকলের কাছে অনুরোধ জানাই, এই ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে একত্রিত হোন, সোচ্চার হোন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জবাবদিহি দাবি করুন, যাঁরা নিজেরাই নির্যাতিতার উপর দোষ চাপাতে ব্যস্ত।"












Click it and Unblock the Notifications