রাজপুরে আক্রান্ত শুল্ক অফিসার, বাড়িতে গিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস শুভেন্দুর, পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ
রাজপুরে শুল্ক অফিসার আক্রান্ত। হেনস্থা করা হলো তাঁর স্ত্রীকেও। মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু আজ রাজপুরে গিয়ে আক্রান্ত শুল্ক অফিসারের সঙ্গে দেখা করেন। কল্যাণী এইমসে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার বন্দোবস্তও করে দেন।

জানা গিয়েছে, গতকাল দ্রুত গাড়ি চালানো নিয়ে এক অটোরিকশ চালকের সঙ্গে বচসার পরই এই ঘটনা ঘটে। ওই শুল্ক অফিসারের নাম প্রদীপ কুমার। তাঁর গাড়িতে ধাক্কা মেরেছিল অটোটি। বচসার পর প্রদীপ কুমার বাড়িতে ঢুকে যান। অটোচালকও চলে যান।
যদিও এরপর রাতে ওই অটোচালক প্রায় ২০০ জনকে নিয়ে প্রদীপ কুমার যে আবাসনে থাকেন সেখানে হাজির হয়। নিরাপত্তারক্ষীদের লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আক্রান্ত শুল্ক অফিসার প্রদীপ কুমার অভিযোগ করেছেন, "এরপরই একদল লোক আমার ফ্ল্যাটে জোর করে ঢুকে পড়ে। আমাকে মারধর করে এবং আমার স্ত্রীকে হেনস্থা করে। হামলা চলতে থাকায় আমাদের মনে হয়েছিল হয়তো এটাই আমাদের শেষ।" তিনি জানান, তাঁর কপাল, ঘাড় এবং থুতনিতে আঘাত লেগেছে।
আজ তাঁর সহকর্মীরা তাঁকে নদিয়ার এইমস-কল্যাণীতে আরও চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। প্রদীপ কুমার অভিযোগ করেন, বিপদ আঁচ করে পুলিশের সাহায্য চেয়ে ১০০ নম্বরে ফোন করা হয়। মিনিট সাতেক চেষ্টার পরেও যোগাযোগ করা যায়নি। পরে স্থানীয় থানা জানায়, বিসর্জন চলায় ফোর্স নেই। কোনও সাহায্য করা যাবে না। পুলিশ সময়মতো পৌঁছলে দুষ্কৃতী তাণ্ডব ঠেকানো যেত।
ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, অফিসারের কপাল থেকে রক্ত ঝরছে এবং ঘরের জিনিসপত্র ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় পড়ে আছে। যদিও এই ফুটেজের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি ওয়ানইন্ডিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুভেন্দু বলেন, পশ্চিমবঙ্গে "গুণ্ডা রাজ" চলছে। ৫৩ জন বাড়ির ভিতর ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে। এটা তো গণপিটুনির ঘটনা। ওই দুষ্কৃতীদের মধ্যে থাকা আজিজুল গাজী আবার স্থানীয় বিধায়ক ফিরদৌসী বেগমের স্বামী নজরুলের ঘনিষ্ঠ। ফলে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেবে না। গোটা এলাকাই এদের দখলে চলে গিয়েছে। একজনকে গ্রেফতার করলে হবে না। ওই ৫৩ জনেরই গ্রেফতারি চাই যারা বাড়ির ভিতর ঢুকে হামলা চালিয়েছে।
শুভেন্দুর কথায়, এই অফিসারও বলতে পারেন তিনি আর বাংলায় থাকবেন না। যেমন নিরাপত্তার অভাব দেখে দুর্গাপুরে বেসরকারি হাসপাতালে নির্যাতিতা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীর বাবা বলেছেন, এখানে আর মেয়েকে পড়াবেন না। এই শুল্ক অফিসাররা ভারতের সেবক। তাঁরা চলে গেলে আমাদের ক্ষতি। যেখানে সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সেখানে বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব থাকে। আমি তাঁর চিকিৎসার বন্দোবস্ত করছি। ওঁর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে আইনি সহায়তাও দেব। এখানে এমন পরিস্থিতি আমার গাড়িও ভাঙতে পারে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দেখতে হবে, কারণ তাঁরা গুলি চালাতে পারবেন না। শুল্ক অফিসারের মাথায় আঘাত করা হয়েছে, তাঁকে মেরে ফেলাই উদ্দেশ্য ছিল। নয়তো মাথায় আঘাত কেন করবে?












Click it and Unblock the Notifications