মমতার লোডশেডিংয়ের সরকার! শুভেন্দু দেখালেন চাঞ্চল্যকর নথি, পালালেন বিদ্যুৎ আধিকারিক
Load-Shedding In Bengal: বাংলাজুড়ে তীব্র দাবদাহ। তারই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে লোডশেডিং। রাজ্য সরকার বিভিন্ন সময় দাবি করে এসেছে বাংলায় বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত। কিন্তু কোথায় কী?
কলকাতা হোক বা জেলা, সিইএসসি হোক বা রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ, দিন হোক বা রাত, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলছে লোডশেডিং। একটা সময় কংগ্রেস বা তৃণমূল বামফ্রন্ট সরকারকে কটাক্ষ করে বলত, লোডশেডিংয়ের সরকার আর নেই দরকার। সেই স্লোগান এখনও বিরোধীদেরই গলায়।

যে রাজ্যে বিদ্যুৎ এত উদ্বৃত্ত, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেন লোডশেডিং। হ্যারিকেন থেকে হাতপাখা নিয়মিত সঙ্গী হবে বাংলার মানুষের? পঞ্চায়েত নির্বাচনেও যে লোডশেডিং নিয়ে ঝড় উঠবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতর বা সরবরাহকারী সংস্থার তরফে দাবি, অত্যধিক হারে এসি কেনার ফলেই নাকি এই সমস্যা।
এসি ব্যবহারের জন্য যে আবেদন জমা পড়েছে, তার অনেক বেশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র নাকি অনেকের বাড়ি, অফিস বা হোটেলে বসে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে সরকারি স্তরকে। যদিও রাজ্যজুড়ে এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য রাজ্যবাসী নন, রাজ্য সরকারই দায়ী বলে দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

আজ তিনি রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ঘুরলেন। শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল, অম্বিকা রায়, তাপসী মণ্ডল, বঙ্কিম ঘোষ ছিলেন। শুভেন্দু নথি দেখিয়ে দাবি করেন, বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে লোডশেডিংয়ের দ্বারস্থ হয়েছে সরকার। ন্যাশনাল পাওয়ার গ্রিড থেকে চড়া দরে বিদ্যুৎ কিনেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।
পরে শুভেন্দু ফেসবুকে লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সর্বত্রই তীব্র দাবদাহে জ্বলছে, সর্বত্রই তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রির উপরে। এমন একটি হাঁসফাঁস পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রায় সব জায়গাতেই সারাদিনে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত কয়েকদিনের রাজ্যে বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিমাণ:-
৬ই জুন ২১ লক্ষ ইউনিট, ৭ই জুন ২৬ লক্ষ ইউনিট, ৮ই জুন ৩১ লক্ষ ইউনিট এবং ৯ই জুন ৪৫ লক্ষ ইউনিট। সরকার বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করার জন্যই লোডশেডিং করে এই তীব্র গরমে রাজ্যের মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।

শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যের সরকার কয়লা কিনতে অক্ষম যার ফলে কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ব্যান্ডেল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিটগুলি বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। বিদ্যুতের এই ঘাটতির দায় চাপানো হচ্ছে রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রাহক তথা জনসাধারণের উপর। সমাধানসূত্র খুঁজতে এবং ঘাটতির বিষয় নিয়ে বিদ্যুৎ দফতরের সচিবের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়েছিল বিজেপি পরিষদীয় দল।
শুভেন্দুরা গিয়েছিলেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন ভবনে। সচিব না থাকায় পরবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তিনি নথি দেখে সদুত্তর দিতে পারেননি, অন্য দফতরে যেতে বলেন। সেখানেও বিজেপির বিধায়কদের দল যায়। কিন্তু সেখানকার আধিকারিকরা কথা বলেননি। লুকিয়েই ছিলেন।

বিরোধী দলনেতার কথায়, এই তীব্র গরমে প্রতিদিন ৪-৫ ঘন্টা লোডশেডিংয়ের ফলে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে নিদারুণ কষ্ট ভোগ করছেন, আমরা তার নিবারণ করতে এবং লোডশেডিং বন্ধের দাবি নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকরা কথা বলার সৌজন্যটুকু দেখাননি।
পরবর্তীকালে রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রাহক তথা সাধারণ মানুষ, দেউলিয়া রাজ্য সরকারের এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে পথে নামবেন তখন এই সরকারের ঘুম ভাঙবে বলেও মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর। তিনি বলেন, এই সরকার একটিও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গড়তে পারেনি। যেগুলি রয়েছে সেগুলিকেও চালাতে পারছে না। কয়লাও কিনছে না।












Click it and Unblock the Notifications