এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভেস্তে গিয়েছে তৃণমূলের প্ল্যান, বড় দাবি শুভেন্দুর
সুপ্রিম কোর্টের গতকালের নির্দেশে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে সমর্থন করা হয়েছে। কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তমলুকে সাংবাদিক বৈঠকে আজ এই মন্তব্য করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া তালিকায় বহু ক্ষেত্রে নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে প্রকৃত গ্রুপ-বি কর্মীদের পরিবর্তে অন্যান্য স্তরের কর্মচারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এমনকী কিছু ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা পঞ্চায়েত স্তরের কর্মচারীদের নামও তালিকায় যুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের তথ্য আদালতে জমা দেওয়া হলে তা আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়তে পারে এবং প্রয়োজনে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে ইআরও ও এআরও-দের আইন ও কমিশনের নির্দেশিকা মেনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপের প্রভাব পড়া উচিত নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সতর্ক করে বলেন, নির্দেশিকা উপেক্ষা করে কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তা আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং আদালতের নজরদারির আওতায় আসতে পারে।
বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্তরে চাপ সৃষ্টি করা হলেও সুপ্রিম কোর্ট সেই প্রচেষ্টায় সায় দেয়নি এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও কর্তৃত্বকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। তাঁর মতে, ভোটার তালিকায় ছোটখাটো ত্রুটি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে শুনানি কেন্দ্রে আনিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল, যাতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা যায়; কিন্তু আদালতের নির্দেশের ফলে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
অন্তর্বর্তী বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চার মাসের এই বাজেটে কর্মসংস্থান বা শূন্যপদ পূরণের কোনও সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নেই এবং রাজ্যের বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও কার্যকর ঘোষণা করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, কর্মসংস্থানের পরিবর্তে বিভিন্ন ভাতা-ভিত্তিক ঘোষণার মাধ্যমে বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান নয়।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ঘোষিত বেকার ভাতা বা যুবকল্যাণমূলক প্রকল্পের অনেকগুলিই ধারাবাহিকভাবে চালু রাখা হয়নি এবং নির্বাচনের আগে নতুন করে অনুরূপ ঘোষণার মাধ্যমে যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, স্বচ্ছ ও নিয়মিত নিয়োগ পরীক্ষা, শূন্যপদ দ্রুত পূরণ এবং দক্ষতার ভিত্তিতে চাকরি প্রদানই রাজ্যের যুবসমাজের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে।
তিনি জানান, কর্মসংস্থান, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে বিরোধী দল ভবিষ্যতেও আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কিনা সে বিষয়েও নজরদারি চালিয়ে যাবে।
শেষে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ আইনসম্মত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সুস্পষ্ট নীতি গ্রহণ, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদ পূরণ এবং নিয়মিত নিয়োগ পরীক্ষা চালুর মাধ্যমে রাজ্যের যুবসমাজের প্রত্যাশা পূরণ করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।












Click it and Unblock the Notifications