স্বাধীনতা দিবসে মোদীর 'অসমের বীরাঙ্গনা' নিয়ে পাল্টা নিশানা! মমতা ইতিহাস-ভুগোলটাও জানেন না, কটাক্ষ শুভেন্দুর
স্বাধীনতা দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখ করেন স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরা (matangini hazra) অসমের বাসিন্দা। যার জেরে তৃণমূল (trinamool congress) বাংলার মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চা
স্বাধীনতা দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখ করেন স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরা (matangini hazra) অসমের বাসিন্দা। যার জেরে তৃণমূল (trinamool congress) বাংলার মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলে। পাল্টা অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (mamata banerjee) নিশানা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী (suvendu adhikari)।

মাতঙ্গিনী হাজরাকে অসমের বাসিন্দা বলে উল্লেখ
এদিন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দীর্ঘ বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি মাতঙ্গিনী হাজরাকে অসমের বাসিন্দা বলে উল্লেখ করেন। তারপর এই মন্তব্য নিয়েই শোরগোল শুরু হয়ে যায়। সব থেতে আগে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রসঙ্গত মাতঙ্গিনী হাজরা তমলুক থানার সামনে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে মৃত্যু বরণ করেছিলেন।

বাংলাকে অপমান করার অভিযোগ
তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ টুইটে কটাক্ষ করে বলেন, মাতঙ্গিনী হাজরা অসমের? প্রধানমন্ত্রী কি পাগল হলেন? অন্যের লেখা ভাষণ পড়ে নাটক করতে গেলে এমনই হয় বলেও মন্তব্য করেন কুণাল ঘোষ। প্রধানমন্ত্রী বাংলার আবেগকে নাড়িয়ে বাংলাকে অপমান করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি নাম না করে পূর্ব মেদিনীপুরের অপর দুই বর্তমান নেতা শিশির অধিকারী এবং শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিন পূর্ব মেদিনীপুরের গদ্দাররাও।

মমতাকে নিশানা শুভেন্দু অধিকারীর
এরপরেই শুভেন্দু অধিকারী একের পর টুইটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন। সেখানে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একের পর এক ভুলের উদাহরণ দেন। একটি টুইটে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, কটাক্ষ করে বলেছেন, নির্বাচিত না হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানেন না বিশ্বের কটি দেশ রয়েছে। যে ভিডিও দিয়ে টুইটটি শুভেন্দু অধিকারী করেছেন, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যাচ্ছে বিশ্বে দেশের সংখ্যা ১১৪০ টি। উৎকর্ষ বাংলা এবং কন্যাশ্রীর পুরস্কার পাওয়া নিয়ে এই কথা বলতে শোনা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীকে। সেখানে কটা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, সাধারণ ভুগোলটাও জানেন না মুখ্যমন্ত্রী।
অপর একটি টুইটে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, তৃণমূল কাউকে ইতিহাস-ভুগোল শেখানোর কেউ নয়। সেই একই দল যারা খেলা হবে দিবস এমন একটা দিনে ঘোষণা করেছে, যার লর্ড কার্জন এবং জিন্নাকে গর্বিত করবে। অপর একটি টুইটে ২০১৯-এ অভিজিৎ বিনয়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নোবেল পাওয়ার পরের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী বারে বারে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিষেক বাবু বলে মন্তব্য করেছিলেন। বাংলা থেকে অমর্ত্য সেন, মাদার টেরিজার পরে অভিষেকবাবুও নোবেল পেলেন বলে উল্লেখ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ক্ষমতায় আসার পরেই ডহরবাবুর খোঁজ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা গিয়েছিল কিটস ও শেক্সপিয়রের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাল সম্পর্ক ছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলতে শোনা গিয়েছিল স্বাধীনতার আগের দিন বেলেঘাটায় মহাত্মা গান্ধীকে লেবুর জল খাইয়ে অনশন ভাঙিয়ে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যদিও বেলেঘাটায় গান্ধীজির অনশনের ছয়বছর আগে মারা যান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মুখ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেছিলেন তিনি যখন বিরোধী নেত্রী ছিলেন সেই সময়।
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পরেই সাঁওতাল বিদ্রোহের স্মৃতিতে হওয়া কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে ডহরবাবুর খোঁজ করেছিলেন মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়। তিনি বলেছিসেন, বামফ্রন্ট সরকার সিধু-কানু ডহরবাবুদের পরিবারের জন্য কিছুই করেনি। তাঁর সরকার ক্ষমতায় এসেই সিধুবাবু এবং কানুবাবুর পরিবারকে হাজির করেছেন। কিন্তু চহরবাবুর পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেছিলেন, ১৮৫৫ সালে হুল বিদ্রোহে বিধু-কানুর সঙ্গে ডহরেরও মৃত্যু হয়েছিল। সরকারি অনুষ্ঠানে কেউ কিছু না বললেও, তারপরেই সেই সময় বিরোধীরা কটাক্ষ করেছিলেন। কেননা সিধু-কানু-ডহর হলেও, এই ডহরের অর্থ হল সড়ক। সাঁওতালি ভাষায় ডহর শব্দের অর্থ হল রাস্তা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, এখন দেড় হাজার কেজির বাচ্চা জন্মায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর মন্ত্রিসভার এক সদস্যকে নিয়ে রঙ্গরসিকতা শুরু হয়ে গিয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি মা কর্ণের মন্দির ভাল করে করতে পারেন। বিজেপিকে কটাক্ষ করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ইলেকশন এলেই রামচন্দ্র সীতামাইয়াকে ডাকে আর বলে সীতা মা সীতা মা আমার মনে হচ্ছে ভারতে ভোট এসে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শএানা গিয়েছিল তারা বিষ্ণুমাতার পুজো করেন।












Click it and Unblock the Notifications