কে কাকে চিনিয়েছিলেন? 'বড় মা'কে নিয়ে ঠিক কী বলেছেন মমতা, আর তাঁকে নিশানা করেই বা কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী
দিনটা হল দোসরা মে। ২০২১-এর এই দিনে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায় বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফেরে। আর ২০০-র বেশি আসন প্রাপ্তির দাবি করা বিজেপি ৭৭-এ গিয়ে থেমে যায়। যদিও সেইদিনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়।
এদিন বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মিথ্যাবাদী এবং কম্পার্টমেন্টাল মুখ্যমন্ত্রী বলে ফের একবার আক্রমণ করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ২০২১-এর এই দিনে ১৯৫৬ ভোটে তিনি নন্দীগ্রাম বিধানসভায় জয়ী হয়েছিলেন।

এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আরও এক আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে। যার কেন্দ্রে রয়েছে মতুয়া সম্প্রদায়। যে কেন্দ্রে যে ভোটারের সংখ্যা বেশি, সেই কেন্দ্রে তাঁদের মতো করে ভাষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ, রানাঘাট কিংবা কৃষ্ণনগরে তিনি তাঁদের মতো করেই ভাষণ দিয়েছেন কিংবা দিচ্ছেন। তুলছেন 'বড় মা'র কথা।
এই রকম এক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হরিচাঁদ ঠাকুরকে প্রণাম জানিয়ে মতুয়া ভাই-বোনেদের উদ্দেশে বলেন, বড় মা যতদিন বেঁচে ছিলেন, ততদিন তাঁর চিকিৎসাার ভার তিনিই (মমতা) নিয়েছিলেন। কুড়ি বছর ধরে অসুস্থ হলেই তিনি কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতেন। ক্ষমতায় না থাকলেও তিনি এই কাজ করে গিয়েছেন।
মুখ সামলে কথা বলুন মাননীয়া।
— Suvendu Adhikari (Modi Ka Parivar) (@SuvenduWB) May 2, 2024
মতুয়া মহাসংঘের 'বড় মা' পূজ্যপাদ বীণাপাণি দেবী কে আপনি চিনিয়েছেন?
এত অহং বোধ আপনার?
শ্রদ্ধেয় বড় মা মতুয়া সম্প্রদায় সহ অন্য উৎপীড়িত জনগোষ্ঠীর কোটি কোটি মানুষের মনের মণিকোঠায় বিরাজমান ছিলেন এবং চিরদিন থাকবেন। আপনি বারংবার ছুটে যেতেন কারণ ওনার… pic.twitter.com/CkvNKOlbeX
সঙ্গে তিনি বলেন, যখন 'বড় মা'কে কেউ চিনতই না, তখন তিনি বারে বারে ছুটে যেতেন ঠাকুরবাড়িতে। মুখ্যমন্ত্রী এই বক্তব্য নিয়েই তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, মউখ সামলে কথা বলুন মাননীয়া। তিনি প্রশ্ন করেছেন, মতুয়া মহাসংঘের 'বড় মা' পূজ্যপাদ বীণাপাণি দেবীকে আপনি চিনিয়েছেন? তাঁর আরও প্রশ্ন, এত অহং বোধ আপনার?
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, শ্রদ্ধেয় বড় মা মতুয়া সম্প্রদায়-সহ অন্য উৎপীড়িত জনগোষ্ঠীর কোটি কোটি মানুষের মনের মণিকোঠায় বিরাজমান ছিলেন এবং চিরদিন থাকবেন। আর মাননীয়া বারে বারে ছুটে যেতেন কারণ, ওনার আলোয় আলোকিত হওয়ার চেষ্টা করতেন তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)।
শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেছেন, মাননীয়ার এই আলটপকা ও খেলো মন্তব্য পূর্ণব্রহ্ম পূর্ণাবতার শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শিবাবতার শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের প্রতি তাঁর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) অবজ্ঞা ও মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতি অনাদরকে সামনে এনে ফেলেছে।












Click it and Unblock the Notifications