১৯০০ ভোটে পাস করা শুভেন্দু বিঁধলেন ৪২ হাজারে ফেল করা রাজীবকে, জমজমাট তরজা
৯ মাসের মধুচন্দ্রিমা কাটিয়ে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ত্রিপুরায় গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তাঁর ঘরওয়াপসির পর ঘরে-বাইরে সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন রাজীব।
৯ মাসের মধুচন্দ্রিমা কাটিয়ে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ত্রিপুরায় গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তাঁর ঘরওয়াপসির পর ঘরে-বাইরে সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন রাজীব। এবার রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘরওয়াপসি নিয়ে মুখ খুললেন আর এক তৃণমূল-ত্যাগী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

বিধানসভা ভোটের আগে রাজীবকে নিয়ে শুভেন্দু দল ছাড়তে পারেন বলেও জল্পনা হয়েছিল। তাঁরা গোপন বৈঠক করেছিলেন বলেও খবরে প্রকাশ হয়। তারপর শুভেন্দু যখন দাদার অনুগামীদের উপর ভরসা করে তৃণমূলে বেসুরো হয়েছিলেন, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরাও ময়দানে নামেন। তাঁরা পোস্টার রাজনীতি শুরু করেন। এবং এমনও বলেন, রাজীবদাও কম কীসে। একই দিনে তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেবেন না।
তারপর তাঁরা একই দিনে বিজেপিতে যোগ দেননি। শুভেন্দু ২০২০-র ডিসেম্বরে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। আর রাজীব তাঁর গুরুত্ব বাড়িয়ে ২০২১-এর ৩১ জানুয়ারি চাটার্ড ফ্লাইটে করে দিল্লি গিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। রাজনৈতিক মহলেও রাজীবের গ্রহণযোগ্যতা শুভেন্দুর থেকে কম নয় বলে প্রচার ছিল। যদিও একুশের ভোট অন্য বার্তা দেয়। শুভেন্দু মমতাকে হারিয়ে কোনওরকমে গড় রক্ষা করলেও রাজীব হেরে বসেন। ফলে একঘরে হয়ে পড়েন রাজীব।
এখন রাজীব রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পেতে তৃণমূলে যোগ দিলেন। শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর গৌরব অর্জন করে এখন বিজেপিতে গুরুত্বের আসনে। তাই ১৯০০ ভোটে পাস করা শুভেন্দু অধিকারী বিঁধতে ছাড়লেন না ৪২ হাজারে ফেল করা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, রাজীবের থেকে অনেক এগিয়ে তিনি।
শুভেন্দু এদিন ত্যাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, ও গেল তো কী হল, কিছু যায় আসে কি! যে নেতা ১০ বছর বিধায়ক ও মন্ত্রী থাকার পর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে গো হারা হেরে যান, তার তো জনভিত্তি বলে কোনও বস্তু নেই। সূর্যের আলোয় তিনি আলোকিত। নিজের আলো তাঁর নেই। এমন লোক থাকা বা না থাকা সমান।
অথচ ভোটের আগে পরিস্থিতি কিন্তু এমন ছিল না। শুভেন্দুকে অধিকারীকে বলতে শোনা গিয়েছে, এদিকে চলে আসুন রাজীব। আপন জেন্টেলম্যান। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির চকরগিরি করা আপনাকে মানায় না। তারপরই চাটার্ড বিমান করে তিনি দিল্লিতে গিয়ে ফের শুভেন্দুর সতীর্থ হন। কিন্তু রাজীবের বিজেপির সঙ্গে গাঁটছড়া বেশিদিন টিকল না। শুভেন্দু বললেন কিছু যায় আসে না, আমরা যাঁরা আছি তাঁরাই তৃণমূলের বিরোধিতায় লড়াই চালিয়ে যাব। এদিকে শুভেন্দুর এই তাচ্ছিল্যের পাল্টা প্রশ্ন উঠেছে, শুভেন্দু হারতে হারতে জিতেছেন, হারলে এমন কথা বেরোত কি তাঁর মুখ থেকে, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়ে যায়।












Click it and Unblock the Notifications