সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ফেরাতেই এই হিংসা! মমতাকে দাঙ্গাবাজ মুখ্যমন্ত্রী বললেন শুভেন্দু
কোনো একটি বিশেষ ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিত করার জন্য হিংসা ছড়াচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধে দাঙ্গা বাধানোর অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু বলেন, সাগরদিঘি উপনির্বানে হারের পর ভয় পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক তার পাশ থেকে সরে যেতে শুরু করেছে, এই আশঙ্কা করে চলে যাওয়া ভোটব্যাঙ্ক ফেরাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাঙ্গাকে আশ্রয় করেছেন। মঙ্গলবার সেই মর্মেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দাঙ্গাবাজ মুখ্যমন্ত্রী বলে নিশানা করলেন শুভেন্দু।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্ব মেদিনীপুর সফরকে নিশানা করে বলেন, উনি যতবার যাবেন, ততই আমার ভোট বাড়বে। উনি তো পুরুলিয়ার চাকরি নিয়ে বারবার বলেন, প্রমাণ করে দেখান। উল্টে আমি প্রমাণ করে দেব আপনার ভাইপো কীভাবে বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুর্নীতি নিয়েও একহাত নেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, দুর্নীতি থেকে নজর ঘোরাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিংসাকে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি দুর্নীতির মক্ষীরানি। তিনি আর তাঁর ভাইপো মিলে দুর্নীতির মদত দিয়েছেন। ভাইপোর অফিসে টিক মেরে দেওয়ার পরই চাকরি হত।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাংলায় আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। তারপর দুর্নীতি পরত পরতে। এই ভাবে কোনো রাজ্য চলতে পারে না। তাই আমরা আওয়াজ তুলেছি নো ভোট টু মমতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একযোগে হারাতে হবে। সবার উচিত এই আওয়াজ তোলা।
শুভেন্দু অবশ্য এ প্রসঙ্গে বলেন, বাম-বিজেপি কিন্তু এক নয়। বামেদের হাওড়া ও রিষড়ার ঘটনা নিয়ে একটাও মুখ খোলেনি। বামেরা নিজেদের নাস্তিক বলে মনে করেন। বিজেপি কিন্তু তা নয়। কোথাও কোথাও দু-একটা জায়গায় নিচুতলায় তারা জোটবদ্ধ হতে পারে।
শুভেন্দুর কথায়, কোনো বড় ভোটে এক হতে পারে না বাম ও বিজেপি। কেননা বামফ্রন্ট বা বিজেপি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর বামেরা রাজ্যের কোনো বড় নির্বাচনে ৫ শতাংশের বেশি ভোট পেতে পারে না। তাই অহেতুক বামেদের বড়ো বড়ো কথা কেউ শুনবে না।
শুভেন্দু এদিন দাবি করেন, অবিলম্বে শিবপুর ও রিষড়া থানাকে ৩৫৬ ধারার আওতায় উপদ্রুত ঘোষণা করা হোক। আমি চাই সাংবিধানিক প্রধান তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করুন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দিল্লিকে জানান। রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
শুভেন্দু বলেন, অবিলম্বে শিবপুর থানা ও রিষড়া থানাকে ৩৫৬ ধারায় উপদ্রুত ঘোষণা করা দরকার। একমাসের জন্য থানার দায়িত্ব সিআরপিএফ বা সিআরপিসির হাতে তুলে দেওয়া হোক। রাজ্যপালের কেন্রীফ য় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে আবেদন করা দরকার বলে তাঁর দাবি।
শুভেন্দুর কথায়, বর্তমান রাজ্যপাল যদি সেই কাজ করতে পারেন, তবেই বলব গোপালকৃষ্ণ গান্ধী, জগদীপ ধনকড়ের মতো বর্তমান রাজ্যপালও কিছু করে দেখাতে চাইছেন। তিনি পশ্চিমবাংলার রাষ্ট্রবাদীদের বাঁচাতে চাইছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনি তেমেন কোনো পদক্ষেপ নেননি।












Click it and Unblock the Notifications